প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত
দেশের শিল্প খাতের জন্য এক ঐতিহাসিক মাইলফলক সৃষ্টি করে আগামী জুলাই মাস থেকে বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আসতে যাচ্ছে বাংলাদেশে তৈরি প্রথম পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি)। প্রথমবারের মতো দেশে তৈরি করে স্থানীয় বাজারে বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যানবাহন ছাড়ার এই চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ অটো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (বিএআইএল)।
শনিবার (২৩ মে) সেই ধারাবাহিকতায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রদর্শনীতে দেশে তৈরি এই বৈদ্যুতিক গাড়ি টেস্ট ড্রাইভ (পরীক্ষামূলক চালনা) করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সাথে তিনি এই উদীয়মান শিল্প খাতের প্রসারে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস দেন।
চট্টগ্রামের মীরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে এই ইভি উৎপাদন প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে বিএআইএল। এটিই বাংলাদেশের প্রথম অটোমোবাইল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান, যারা স্থানীয়ভাবে ইভি প্ল্যাটফর্ম ও বডি তৈরি করতে সক্ষম। প্রদর্শনী শেষে প্রধানমন্ত্রী বিএআইএল-এর চেয়ারম্যান এ মান্নান হোসেন খান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর মাসুদ কবিরের সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হন।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী প্রশংসা ও আশ্বাস দিয়ে জানান, মান ও নিরাপত্তা বজায় রেখে দেশের শিল্পখাতে অবদান রাখলে সরকার এই শিল্পকে সব ধরনের সহায়তা দেবে। প্রদর্শনীতে স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকল (এসইউভি), মোটরসাইকেল, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান এবং অটোরিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের গাড়ি প্রদর্শন করা হয়।
কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, সম্পূর্ণ ইউরোপীয় মানদণ্ড ও দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি তাদের বৈদ্যুতিক এসইউভি গাড়িটি একবার ফুল চার্জে ৪৫০ কিলোমিটারের বেশি পথ চলতে পারবে। সাধারণ চার্জে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা সময় লাগলেও ফাস্ট চার্জিংয়ের মাধ্যমে মাত্র ৩০ মিনিটেই এটি রিচার্জ করা সম্ভব।
অন্যদিকে, কোম্পানির বৈদ্যুতিক ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান এক চার্জে প্রায় ২০০ কিলোমিটার চলতে পারবে। এগুলো সাধারণ চার্জে ৬ ঘণ্টা এবং ফাস্ট চার্জিংয়ে ৪০ মিনিট সময় নেবে। গাড়িগুলো শতভাগ ব্যাটারিচালিত এবং পরিবেশবান্ধব হওয়ায় এতে কোনো জ্বালানি তেলের প্রয়োজন হবে না, যার ফলে এর পরিচালন ব্যয় সাধারণ গাড়ির তুলনায় অনেক কম হবে। দেশের বাজারে ইভি গাড়ির ব্যবহার বাড়াতে এর দাম সাশ্রয়ী রাখার চেষ্টা করা হয়েছে এবং সব গাড়ির ওপর পাঁচ বছরের ওয়ারেন্টিসহ বিশেষ বিক্রয়োত্তর সেবা নিশ্চিত করা হবে।
বিএআইএল-এর চেয়ারম্যান মান্নান হোসেন খান জানান, গাড়িগুলো তৈরিতে কিছু কাঁচামাল আমদানি করতে হয়েছে, যেখানে সরকার শুল্ক সুবিধা দিলে উৎপাদন খরচ আরও কমানো সম্ভব হবে। ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর মাসুদ কবির বলেন, ইউরোপীয় মানদণ্ড অনুযায়ী তৈরি করায় এই গাড়িগুলো ভবিষ্যতে রপ্তানির বড় সুযোগ তৈরি করবে।
গ্রাহকের সন্তুষ্টি ও নির্ভরযোগ্যতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তাঁরা দেশের ইভি ইকোসিস্টেম উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখতে চান। এ ছাড়া তাদের মোটরসাইকেলে ‘গ্লাইডার’ এবং থ্রি-হুইলারে ‘অটোম্যাক্স’ মডেলের সহজে পরিবর্তনযোগ্য (রিমুভেবল) ব্যাটারি সুবিধা থাকবে, যাতে গ্রাহকরা অনায়াসে চার্জ করতে পারেন।