মরক্কোর বিপক্ষে ড্র ব্রাজিলের © সংগৃহীত
প্রথমার্ধের তুলনায় দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা গুছিয়ে খেলতে শুরু করেছিল ব্রাজিল। বলের নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণ গঠনে উন্নতি এলেও মরক্কোর রক্ষণ ভাঙতে পারেনি সেলেসাওরা। ফলে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সেই বাড়তি ধার আর তৈরি হয়নি।
অন্যদিকে প্রথমার্ধে আক্রমণে দাপট দেখালেও দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা নিষ্প্রভ হয়ে পড়ে মরক্কো। সুযোগ তৈরি করলেও তা কাজে লাগানোর মতো ধারালো ফিনিশিং দেখা যায়নি তাদের। শেষপর্যন্ত নির্ধারিত সময় শেষে ১–১ গোলের সমতায় নিয়েই মাঠ ছাড়ে দল দুটি। এতে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই সন্তুষ্ট থাকতে হলো দুই দলকে।
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে তপ্ত গরমে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলেছে মরক্কো। বল দখলে ব্রাজিল এগিয়ে থাকলেও আক্রমণে ছিল অ্যাটলাস লায়ন্সদের ধার। ষষ্ঠ মিনিটে ডান প্রান্ত দিয়ে ছোট ছোট পাসে গড়ে তোলা আক্রমণ থেকে ব্রাজিলের ডি-বক্সে বল পেয়ে যান তরুণ মিডফিল্ডার বেনজামিন এল আইনুই। বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গোলমুখে শটও নিয়েছিলেন তিনি। তবে শেষ মুহূর্তে অসাধারণ ব্লক করে নিশ্চিত গোল বাঁচান ব্রাজিলের ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস।
১৪তম মিনিটে প্রথম বড় সুযোগ তৈরি করে ব্রাজিল। বাঁ-দিক থেকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দারুণ ক্রসে একেবারে ফাঁকায় হেড করার সুযোগ পেলেও বলের সঙ্গে সঠিকভাবে সংযোগ করতে পারেননি ইগর থিয়াগো। এরপর ১৯তম মিনিটে রাফিনিয়ার নিখুঁত পাস থেকে গোলমুখে ঘুরে শট নেওয়ার চেষ্টা করেন ভিনি, কিন্তু ঠিক সময়েই এগিয়ে এসে দারুণ ট্যাকল করে বিপদ দূর করেন হাকিমি।
ম্যাচের ২১তম মিনিটে দুর্দান্ত এক আক্রমণ থেকে এগিয়ে যায় মরক্কো। মাঝমাঠ থেকে নিখুঁত এক থ্রু পাস বাড়ান দলের তারকা ব্রাহিম দিয়াজ। সেই পাস ধরে রক্ষণভাগ ভেঙে সামনে এগিয়ে যান ইসমায়েল সাইবারি। এরপর দ্রুত বেরিয়ে আসা ব্রাজিল গোলরক্ষক আলিসনের মাথার ওপর দিয়ে দারুণ এক চিপ শটে বল জালে পাঠিয়ে দেন তিনি। চোখজুড়ানো সেই ফিনিশিংয়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মরক্কো।
পিছিয়ে পড়ার পর কিছুটা অগোছালো হয়ে পড়েছিল ব্রাজিল। আক্রমণেও ছিল না ধার। এমন মুহূর্তে দরকার ছিল এমন একজনের, এক ঝলক ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে পারেন যিনি। আর সেই দায়িত্বটাই নিজের কাঁধে তুলে নিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
ম্যাচের ৩২তম মিনিটে বাঁ-প্রান্ত দিয়ে দুর্দান্ত এক দৌড়ে মরক্কোর রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করেন ব্রাজিলের এই তারকা ফরোয়ার্ড। বক্সের ভেতরে ঢুকে এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে জায়গা বের করে নেন তিনি। এরপর ডান পায়ের নিখুঁত শটে বল জড়িয়ে দেন জালে। কোনো সুযোগই ছিল না মরক্কোর গোলরক্ষকের।
গোলটি ছিল একেবারে ভিনিসিয়ুসের চেনা স্টাইলে, যে ধরনের গোল তিনি নিয়মিত করে থাকেন রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে। বাঁ প্রান্ত থেকে ভেতরে ঢুকে গতি, ড্রিবলিং ও নিখুঁত ফিনিশিংয়ের সমন্বয়ে প্রতিপক্ষকে শাস্তি দেওয়াই যেন তার বিশেষত্ব। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সেই পরিচিত অস্ত্রই কাজে লাগান ব্রাজিলিয়ান এই উইঙ্গার।
এই গোলের মাধ্যমে ব্রাজিলকে ম্যাচে ফেরানোর পাশাপাশি নিজের ক্যারিয়ারের একটি বিশেষ মাইলফলকও স্পর্শ করেন ভিনিসিয়ুস। ব্রাজিলের জার্সিতে এটি তার ৫০তম ম্যাচ।
বিরতির পর বলের দখল ও আক্রমণে কিছুটা আধিপত্য দেখায় ব্রাজিল। ধীরে ধীরে মরক্কোকে চাপে রাখতে শুরু করে। তবে সেই নিয়ন্ত্রণ জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না, শেষ মুহূর্তের ফিনিশিংয়ে বারবারই ঘাটতি থেকে যায়।
৫২তম মিনিটে ম্যাচের সবচেয়ে বড় সুযোগগুলোর একটি তৈরি হয় ব্রাজিলের সামনে। থ্রো-ইন থেকে বল পেয়ে দুর্দান্ত এক পাস থিয়াগোর দিকে বাড়ান ভিনি। থিয়াগো শক্তিশালী শট নিলেও অসাধারণ দক্ষতায় নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো।
৬৭তম মিনিটে রাফিনিয়ার বাঁকানো এক বিপজ্জনক ক্রস মরক্কোর ডি-বক্সে ভাসে। তবে অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার রিয়াদ পরিস্থিতি সামলে হেড করে বল ক্লিয়ার করেন। সেই মুহূর্তে আবারও আক্রমণে ফেরার চেষ্টা করে ব্রাজিল, গিমারেস দ্রুত বলটি বক্সে পাঠালেও ঠিকভাবে সংযোগ ঘটাতে পারেননি রাফিনিয়া।
নির্ধারিত সময় শেষে ইনজুরি টাইমেও ম্যাচের ভাগ্য বদলানোর মতো কোনো সুযোগ তৈরি হয়নি। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ১–১ সমতায় পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল ও মরক্কো।
উল্লেখ্য, ‘সি’ গ্রুপে ব্রাজিল তাদের পরের ম্যাচ ২০ জুন হাইতির বিপক্ষে খেলবে। বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে সেই ম্যাচে মাঠে নামবে সেলেসাওরা। একইদিনে ভোর ৪টায় মরক্কো মুখোমুখি হবে স্কটল্যান্ডের।