বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন © সংগৃহীত
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে বাংলাদেশেও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে দেশে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টন ব্যবহারযোগ্য জ্বালানি তেলের মজুত থাকলেও অপরিশোধিত তেল আমদানিতে ব্যাঘাত ঘটার আশঙ্কা করছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম দ্রুত বাড়ছে, যা বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে যে পরিমাণ মজুত রয়েছে, তা দিয়ে ডিজেলের ১১ দিন, পেট্রলের ১২ দিন এবং অকটেনের ২৫ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব বলে জানিয়েছে বিপিসি।
বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদার প্রায় পুরোটাই আমদানির ওপর নির্ভরশীল, যার একটি বড় অংশ আসে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে।
বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানিয়েছেন, জুন মাস পর্যন্ত প্রিমিয়াম তেলের দাম নির্ধারিত থাকায় বিশ্ববাজারের বর্তমান ওঠানামা তাৎক্ষণিকভাবে খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না। তবে দীর্ঘমেয়াদী সংকট এড়াতে এখন থেকেই বিকল্প উৎস এবং নতুন ক্রয় পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সংস্থাটি।
অন্যদিকে, এলএনজি ও এলপিজি খাতেও আমদানির ওপর নির্ভরতা থাকায় শিল্প ও কৃষি খাতে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে, বিশেষ করে কাতার গ্যাস উৎপাদন স্থগিত রাখায় পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
এদিকে জ্বালানি তেলের সংকটের গুঞ্জনে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি ও তেল কেনার হিড়িক দেখা গেছে। মালিবাগ, তেজগাঁও, আসাদগেট ও নিউমার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকার পাম্পগুলোতে হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে বিক্রি বন্ধ রাখতে হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি বিক্রিতে শৃঙ্খলা আনতে এবং মজুত নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে বিপিসি। এখন থেকে নির্ধারিত পরিমাণের বেশি জ্বালানি তেল কেউ কিনতে পারবেন না। মোটরসাইকেলের জন্য সর্বোচ্চ ২ লিটার, প্রাইভেটকার ও জিপের জন্য ২০ থেকে ২৫ লিটার এবং দূরপাল্লার ভারী যানবাহনের জন্য সর্বোচ্চ ২০০ থেকে ২২০ লিটার তেলের সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, গ্রাহকদের তেল কেনার সময় অবশ্যই ক্রয় রশিদ সংগ্রহ করতে হবে এবং পরবর্তীবার তেল নেওয়ার সময় আগের রশিদ দেখাতে হবে। ফিলিং স্টেশনগুলোকে নিয়মিত মজুত ও বিক্রির তথ্য ডিপোতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি ডিলারদের ওপর কড়া নজরদারি করা হচ্ছে যাতে বরাদ্দের অতিরিক্ত তেল বিক্রি না হয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, বাণিজ্যিক ও কৃষি খাতের উৎপাদন সচল রাখতে দ্রুত উৎস বৈচিত্র্য নিশ্চিত করা এবং বিকল্প বাজার থেকে তেল আমদানির ব্যবস্থা করা এখন সময়ের দাবি।