মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার চালা ইউনিয়নের একটি গ্রাম কচুয়া। সূর্য ভোরের আলোয় যখন সোনালি আভা ছড়ায়, ঠিক তখনই টুটুল আহমেদের লাউক্ষেতে দেখা মেলে অন্য রকম এক দৃশ্য। মাচা জুড়ে ঝুলে থাকে টসটসে সবুজ লাউ। এ যেন পরিশ্রম, সময় আর যত্নের রঙে আঁকা এক জীবন্ত ছবি।
একসময় গ্রামের নারীদের শখের সবজি ছিল লাউ। কিন্তু টুটুলের মতো উদ্যোক্তাদের হাত ধরে লাউ এখন সম্ভাবনাময় বাণিজ্যিক ফসল। আধুনিক মালচিং পদ্ধতি আর সঠিক ব্যবস্থাপনায় মাত্র তিন মাসেই লাখ টাকা আয় করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। তার সফলতার গল্প আজ কৃষিকে দেখাচ্ছে নতুন দিগন্ত।
শুক্রবার লাউক্ষেতে কাজের ফাঁকে কথা হয় টুটুল আহমেদের সঙ্গে। কৃষক পরিবারের ছেলে টুটুল ছোটোবেলা থেকেই বাবার সঙ্গে মাঠে কাজ করেছেন। এখন ঢাকায় একটি ব্যবসা থাকলেও শহরের ব্যস্ততায় তার মন কখনোই তৃপ্তি পায়নি। সুযোগ পেলেই ছুটে আসতেন গ্রামের মাঠে, ফসলের গন্ধ, মাটির স্পর্শ, গাছের যত্নই তাকে টানত বেশি। তাই তিন বছর আগে পুরো মনোযোগ নিয়ে কৃষিতেই ঝুঁকে পড়েন তিনি, আর সেখান থেকেই শুরু হয় তার সফলতার যাত্রা।
টুটুল আহমেদ বলেন, আমি কৃষক পরিবারের সন্তান। কৃষির প্রতি আলাদা টান আছে। তিন বছর ধরে আধুনিক মালচিং পদ্ধতিতে বেড কেটে লাউ চাষ করছি। মাচা তৈরি, সার-ওষুধ, বেড কাটা সব মিলিয়ে আমার খরচ হয় প্রায় ২৫ হাজার টাকা। তবে গত দুই বছর জমিতে পানি না আসায় খরচ আরও কমে গেছে। এ বছর শুধু বীজের ব্যয় হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বৃষ্টির কারণে কিছুটা ক্ষতি হলেও এখন গাছে প্রচুর লাউ ধরছে। এরই মধ্যে বেশিরভাগ লাউ বিক্রি করেছি। বাকিগুলোও হাতেগোনা কয়েকদিনের মধ্যে বিক্রি হয়ে যাবে। সব খরচ বাদ দিয়ে এবার আয় হবে প্রায় লাখ টাকা। ক্ষতি না হলে আয়ের পরিমাণ আরও বেশি হতো। লাউয়ের পাশাপাশি পেঁপে আর বিভিন্ন সবজি চাষ করছি, এগুলো থেকেও মোটামুটি ভালো আয় হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. তৌহিদুজ্জামান খান বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে তার লাউক্ষেত পরিদর্শন এবং নানা ধরনের পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে। আমরা চাই, তার মতো তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা তৈরি হোক আরও। আমরা তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করব।