অপরিশোধিত তেলের অন্যতম মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সোমবার ব্যারেলপ্রতি দশ শতাংশ বেড়ে ৮২ মার্কিন ডলারের ওপরে উঠে গেছে © সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন স্থাপনাকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে ইরান। সেইসঙ্গে, হরমুজ প্রণালীর কাছে কমপক্ষে তিনটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে দেশটি। এসব ঘটনার জেরে বিশ্বব্যাপী বাড়তে শুরু করেছে জ্বালানি তেলের দাম।
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের অন্যতম মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সোমবার প্রতি ব্যারেলে আগের চেয়ে দশ শতাংশ বেড়ে ৮২ মার্কিন ডলারের ওপরে উঠে গেছে। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাস পরিবহনের ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালীকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। সারা বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল-গ্যাস ওই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।
কিন্তু ইরানে হামলা শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল হুমকির মুখে পড়েছে। দেশটির দক্ষিণে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ ওই জলপথ দিয়ে নৌ-যান চলাচল না করার জন্য সতর্ক করেছে তেহরান। এতে ওই প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে, যার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে তেলের বাজারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানির দাম আরও বেড়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকরা।যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সেন্টার (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার সময় তেলবাহী দু'টি জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে।
এছাড়া আরেকটি জাহাজের 'খুব কাছাকাছি' জায়গায় বিস্ফোরণ হয়েছে বলে জানা গেছে। এই ঘটনার পর ব্রেন্টের অপরিশোধিত তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে ৮২ ডলারের ওপরে উঠে যায়। যদিও পরে সেটি কিছুটা কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৯ ডলারে নেমে এসেছে।
অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তেলের দাম প্রায় সাত দশমিক ছয় শতাংশ বেড়ে ৭২ দশমিক ২০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
"বাজার এখনও অস্থির হয়ে ওঠেনি, ‘বিবিসিকে বলছিলেন সিডনিভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এমএসটি মার্কি'র জ্বালানি গবেষণা বিভাগের প্রধান শৌল কাভোনিক। বরং স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে যে, এখন পর্যন্ত তেল পরিবহন ও উৎপাদন অবকাঠামো কোনো পক্ষেরই হামলার প্রাথমিক লক্ষ্যবস্তু নয়," যোগ করেন তিনি।’
তবে জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল এখনও স্বাভাবিক হয়নি। ফলে সেটির ওপরেও তেলের দরে উত্থান-পতন অনেকাংশে নির্ভর করবে বলে জানান এমএসটি মার্কি'র এই বিশ্লেষক।
‘জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার লক্ষণগুলো দেখা যেতে শুরু করলে তেলের দাম আবারও কমে আসবে,’ বলেন শৌল কাভোনিক।
তবে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ ইঙ্গিত দিয়েছে, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে ব্যারেলপ্রতি অপরিশোধিত তেলের দাম একশ' ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। আর বাস্তবে তেমনটি ঘটলে মুদ্রাস্ফীতি ও সুদের হারের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
দুবাইভিত্তিক জ্বালানি পরামর্শ প্রতিষ্ঠান কামার এনার্জির বর্তমান প্রধান নির্বাহী রবিন মিলস বলেন, ‘তেল ব্যবসায়ীরা এই খবরটির দিকে দৃষ্টি রাখছেন। ফলে তেলের মূল্যবৃদ্ধি প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে।’
তবে তেলের বাজার এখনও 'আতঙ্কিত হওয়ার মতে' সংকটে পড়েনি বলে জানান তিনি।