যশোরে একই জমিতে একসাথে তিন সবজি চাষে সাফল্য © টিডিসি
বেগুন গাছের উপর থোকায় থোকায় ঝুলছে শসা আর করলা। বেগুনের পাশাপাশি প্রতি সপ্তাহে ক্ষেতে উৎপাদিত কয়েক হাজার মন শসাসহ করলা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্যান্য এলাকার চাহিদাও মেটাচ্ছেন কৃষকরা। একই ক্ষেতে এই তিন প্রকারের সবজি উৎপাদনের প্রযুক্তি প্রয়োগে অধিক লাভবান হওয়ায় তাদের মুখে তৃপ্তির হাসি ফুটেছে।যশোরের মণিরামপুরের দেলোয়াবাটি, হুরগাতি, কর্ন্দপপুর, জয়পুরসহ সাত গ্রামের কৃষক প্রায় দুইশ’ বিঘা জমিতে এই প্রযুক্তিতে তিন প্রকারের সবজি চাষ করছেন।
সরেজমিন দেলোয়াবাড়ি গ্রামে গিয়ে দেখা যায় ক্ষেত থেকে তুলে আনা শসা গ্রামের সড়কের পাশে রেখে ট্রাক বোঝাই করা হচ্ছিল। এসময় পাইকারী ব্যবসায়ী কওছার আলী জানান, প্রতিদিন ট্রাকযোগে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে শসা, বেগুন ও করলা কিনে ঢাকা ও খুলনার মোকামে নিয়ে যান। তারমতো আরও পাইকার প্রতিদিন ৭-৮টি ট্রাক ও করিমন-আলমসাধুযোগে বড় মোকামে নিয়ে যাচ্ছেন।
আরও পড়ুন: সুন্দরবনের দুই বনদস্যু আটক: অস্ত্রসহ নৌকা জব্দ
আলমগীর হোসেন, রিয়াজ হোসেন, মাহফুজুর রহমানসহ একাধিক কৃষক জানান, বছর তিনেক আগে এলাকার শরিফুল ইসলাম টুকু নামের একজন প্রথমে এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করেন। তিনি সফল হলে, তার দেখাদেখি তারা এভাবে একই ক্ষেতে তিন ধরনের সবজি চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। বছরে কেবল আমন মৌসুমে ধান হয়। বাকি সময় তারা এই সবজি চাষ করেন।
তারা আরও জানান, আমন ধান ঘরে তোলার পর ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে বেগুন চাষ করেন। গাছে পুরো বেগুনের ফলন শুরু হলে গোড়ায় রোপন করা হয় শসা এবং করলার বীজ। বেগুনের ফলন শেষ হতেই শসা ও করলার ফলন শুরু হয়। তখন বেগুন গাছই শসা ও করলার মাচানের কাজ করে। বেগুন ক্ষেতে দেয়া রাসায়নিক সার শসা ও করলা ক্ষেতের উর্বরতা কাজ করায় আলাদা করে রাসায়নিক সার দেয়া লাগে না দাবি কৃষকদের। এভাবে প্রতি বিঘা জমি হতে এই তিন ধরনের সবজি বিক্রি করে প্রায় ৫ লাখ টাকার অধিক মুনাফা করছেন তারা।