সিজারিয়ান অপারেশনের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাবেক শিক্ষার্থী ও ফরিদপুর হালিমা গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের প্রভাষক খায়রুন্নাহার তানি’র মৃত্যুর ঘটনায় বিচার দাবি করেছেন তানির আত্মীয়-স্বজন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী।
শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাস বিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এক মানববন্ধন করে বিচার দাবি করেন তারা। সচেতন নাগরিক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ ব্যানারে এই মানববন্ধন করেন তানির আত্মীয়-পরিজন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী।
মানববন্ধনে তানির আত্মীয়রা দাবি করেন, ফরিদপুরের ডা. জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালের চিকিৎসক ও সংশ্নিষ্টদের অবহেলা এবং সিজার বাণিজ্যের বলি হয়ে তানির মৃত্যু হয়েছে। তানির সিজার অপারেশনকারী জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালের খণ্ডকালীন চিকিৎসক ডা. দিলরুবা জেবার ভুল চিকিৎসা ও বেপরোয়াভাবে ইনজেকশন পুশ করায় তানির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এজন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে এর বিচার দাবি করেন তারা।
মানববন্ধনে তানির স্বামী বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী ছফওয়ান করিম বলেন, গত ৩০ আগস্ট ফরিদপুরের ডা. জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালের খণ্ডকালীন চিকিৎসক ডা. দিলরুবা জেবা আমার স্ত্রীর অস্ত্রোপচার সিজার অপারেশন করেন। কিন্তু সিজার অপারেশনে কৃত ভুলের কথা প্রকাশ না করে ডা. জেবা আমার স্ত্রীর শরীরে একের পর এক ইনজেকশন পুশ করতে থাকেন।
সিজার করার পরবর্তী সময় থেকেই আমার স্ত্রীর পায়খানা-প্রশ্রাব বন্ধ ছিল এবং তার পেট ফুলা ছিল।এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, এসব ঠিক হয়ে যাবে। গত ৩০ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টায় আমার স্ত্রীকে কেবিনে হস্তান্তর করা হয় রাত আড়াইটার সময় আমার স্ত্রীর শারিরীক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। তাৎক্ষণিকভাবে ডাক্তার ও নার্সদের অনেক ডাকাডাকি করলেও কেউ কেবিনে আসেনি। ৩১ আগস্ট ভোর আনুমানিক ছয়টার দিকে ডা. দিলরুবা হাসপাতালে আসেন এবং তানির শরীরে বেপরোয়াভাবে ইনজেকশন পুশ করতে থাকেন। এতে সকাল সাতটা ১০ মিনিটের সময় আমার স্ত্রী মৃত্যু বরণ করে।
প্রসঙ্গত, নিহত খায়রুন্নাহার তানি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০০৬-০৭ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী ছিলেন। তিনি ফরিদপুর হালিমা গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।