সামান্য মালির টাকাও খাচ্ছেন ঢাবির প্রভোস্টরা: অরণি

০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৯:২৪ PM

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বেগম রোকেয়া হলে ২১ লক্ষ টাকা নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। নিয়োগ বাণিজ্যের টাকা হলের প্রভোস্ট, হাউজ টিচার সহ হল সংসদ ও ছাত্রলীগের নেতারা ভাগ করছেন বলে দাবি করছেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ে মালির চাকরি দিতে যারা টাকা নেন তারা শিক্ষক হওয়ার যোগ্য হতে পারেন না বলে মন্তব্য করেন শিক্ষার্থীরা।

আজ বুধবার দুপুরে হল থেকে বিক্ষোভটি শুরু হয়ে রেজিস্ট্রার ভবনে গিয়ে শেষ হয়। উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে সেখানেই অবস্থান করেছেন শিক্ষার্থীরা। এসময় ‘স্বতন্ত্র জোট’ থেকে ডাকসুর ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষার্থী অরণি সেমন্তি খান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ বাণিজ্যের টাকা অনেকের পকেটে ঢুকবে। নিয়োগ বাণিজ্যের ২১ লাখ টাকা ছোট ছোট অংশে ভাগ হয়ে যাবে। প্রভোস্ট, হাউজ টিচার সবাই পাবেন এর অংশ। এছাড়া হল সংসদের নেতা ও ছাত্রলীগও ভাগ বসাবেন। এই নিয়োগ বাণিজ্য শুধু একটি হলে নয়, প্রতিটি হলের প্রভোস্ট অফিসে এই অনিয়ম ঘটছে।

তিনি আরও বলেন, সামান্য একজন মালিকে চাকরি দিতে যে টাকা নেয়া হচ্ছে তাও নিজেদের পকেটে ঢুকাচ্ছে শিক্ষকরা। জনগণ ও আমাদের বাবা-মায়েরা কষ্ট করে যে টাকা দিচ্ছে তাও আত্মসাৎ করা হচ্ছে। আমরা যতদিন এক হয়ে আন্দোলনে নামব না, তাদের ‘গল চিপে’ ধরা হবে না ততদিন আমাদের এই অবস্থায় পড়ে থাকতে হবে। তারা আমাদের শিক্ষক হতে পারেন না। আমরা এই দুর্নীতিবাজদের শিক্ষক-প্রভোস্ট হিসেবে চাই না।

মঙ্গলবার হলের কয়েকজন আবাসিক শিক্ষার্থী এ নিয়োগ বাণিজ্যে হল প্রাধ্যক্ষের প্রত্যক্ষ মদদ রয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন। এ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।

এরই ধারাবাহিকতায় আজ তারা বিক্ষোভ শুরু করেন। দুপুর ২টার দিকে হলে কিছুক্ষণ বিক্ষোভপ্রদর্শন করে একটি মিছিল সহকারে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। তাদের সঙ্গে বেশি কিছু ছাত্রও যোগ দেন। পরে রেজিস্ট্রার ভবনে গিয় অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা।

বিক্ষোভকারীরা স্ল্যোগান দেন, ‘লড়াই লড়াই লড়াই চাই, লড়াই কর বাঁচতে চাই’, ‘অ্যাকশন অ্যাকশন ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘জ্বালো জ্বালো, আগুন জালো’, ‘রাজপথের সংগ্রাম চলছে চলবে’, ‘জিনাত হুদার গদিতে আগুন জ্বালো একসাথে’, ‘নিয়োগ বানিজ্য যেখানে লড়াই হবে সেখান’, ‘জিনাত হুদা জবাব চাই, আমার বোন লাঞ্ছিত কেন’, ‘শিক্ষা ব্যবস্যা একসাথে চলেনা’ ইত্যাদি।

এই অভিযোগের বিষয়ে ডাকসুর এজিএস ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘যেকোনো ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ডাকসু ও ছাত্রলীগের জিরো টলারেন্স আছে। রোকেয়া হলে নিয়োগ-বাণিজ্যের বিষয়টির প্রমাণ পাওয়া গেলে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ ও হল সংসদের সভাপতি অধ্যাপক জিনাত হুদা বলেন, ‘অভিযোগ তদন্তে আমরা পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি করেছি। কমিটির পক্ষ থেকে অভিযোগকারী শ্রবণা শফিকসহ অভিযোগ ওঠা সবাইকে ডাকা হয়েছিল। অভিযোগের পক্ষে শ্রবণা কোনো দালিলিক প্রমাণ দিতে পারেননি। তাঁকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে, এটিও সত্য নয়।’

‘কমল’ বীজ ধান নিয়ে কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় জিয়াউর রহমান ফাউন…
  • ১১ এপ্রিল ২০২৬
আসন্ন বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ জিডিপির ১.৫ শতাংশ: স্বাস্…
  • ১১ এপ্রিল ২০২৬
বড় মাইলফলকে বাবর আজম
  • ১১ এপ্রিল ২০২৬
পাকিস্তানে ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে কে এই বাঘের গালিব…
  • ১১ এপ্রিল ২০২৬
দরবারে হামলা, গণপিটুনিতে নিহত ‘পীর’
  • ১১ এপ্রিল ২০২৬
অনলাইন ক্লাস আবারও অটোপাসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে কিনা?
  • ১১ এপ্রিল ২০২৬
close