ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একি হাল!

২২ ডিসেম্বর ২০১৮, ০২:২৫ PM
ক্যাম্পাসে রিক্সচালক মূত্র ত্যাগ করছেন অপরদিকে আবজর্নায় ভর্তি টিএসসি দেয়ালের পাশ

ক্যাম্পাসে রিক্সচালক মূত্র ত্যাগ করছেন অপরদিকে আবজর্নায় ভর্তি টিএসসি দেয়ালের পাশ © টিডিসি ফটো

ছড়ানো-ছিটানো আবর্জনা ক্যাম্পাসজুড়েই। রয়েছে যত্রতত্র ময়লার ভাগাড়। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও নিয়মিত তদারকির অভাবে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। এটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চিত্র।  দায়িত্ববানদের অবহেলা ও কর্তৃপক্ষের চরম অব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা চলে আসায় স্বাস্থ্য-ঝুঁকিতে পড়ছেন এখানকার শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা বলছেন, ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ রাস্তা, আবাসিক হল ও খেলার মাঠ- সর্বত্রই ময়লা ছড়িয়ে থাকে। নোংরা পরিবেশে বাড়ছে মশা-মাছিসহ জীবাণু বহনকারী বিভিন্ন কীটপতঙ্গ। ফলে অনেক সময়ই বিভিন্ন চর্ম ও ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হতে হচ্ছে। স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হয়েও বর্জ্য-ব্যবস্থাপনার জন্য সিটি কর্পোরেশনের উপর নির্ভরতাকে দায়ী করছেন শিক্ষার্থীরা।

যত্রতত্র ময়লার স্তূপ: বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন রকম কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা ছাড়া যত্রতত্র ময়লার স্তূপ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজের পাশের রাস্তা, সূর্যসেন থেকে মুহসীন হল পর্যন্ত আবাসিক এলাকার সামনের রাস্তা, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সামনের চত্বর, মধুর ক্যান্টিনের সামনের এলাকায় ময়লার স্তূপ দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকলেও তা সরাতে দেখা যায়নি। এসব ময়লা আবর্জনা নানা রকম রোগ জীবাণু ও পোকামাকড়ের জন্ম দিচ্ছে।

অপচনশীল বর্জ্যে নষ্ট হচ্ছে মাটির উর্বরতা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ঢাকা-৮ আসনের মধ্যে পড়ায় এখানেও যত্রতত্র লাগানো হচ্ছে নির্বাচনী পোস্টার। বৃষ্টির পানি ও কুয়াশা থেকে এসব পোস্টার রক্ষা করতে এর উপরে লাগানো হচ্ছে পলিথিন। অপচনশীল এসব পলিথিন ও ক্যাম্পাসের অভ্যন্তর থেকে উৎপাদিত বর্জ্যে প্রচুর পরিমাণ পলিথিন মাটির সাথে মিশে গিয়ে তা মাটির উর্বরতা নষ্ট করছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপলক্ষে ক্যাম্পাসে আয়োজিত প্লাস্টিকের খাবার পাত্র থেকে উৎপাদিত হচ্ছে একই ধরণের বর্জ্য।

ডাস্টবিন থাকলেও ব্যবহার নেই: বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল, টিএসসি, কলা ভবনের সামনের জায়গা, মধুর ক্যান্টিন, হাকিম চত্বর, সবুজ চত্বরসহ বিভিন্ন জায়গায় আবর্জনা ফেলানোর জন্য ডাস্টবিন চোখে পড়ে। সংস্কার ও নিয়মিত পরিষ্কার না করার ফলে এসব ডাস্টবিন থেকে ময়লা ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশে। আবার সচেতনতামূলক কার্যক্রমের অভাবে অনেকে এসব ডাস্টবিন ব্যবহারে উৎসাহ পাচ্ছেন না।

মূত্রে সয়লাব ফুটপাত: বিশ্ববিদ্যালয় ও এর আশপাশের এলাকার ছিন্নমূল মানুষ, রিক্সাচালক, নির্মাণ শ্রমিক ও সাধারণ পথচারীরা সড়কের ফুটপাত, দেয়ালের পাশ ও ড্রেনে তাদের মূত্র ত্যাগ করেন। যার ফলে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সড়কের ফুটপাত মূত্রে সয়লাব হয়ে পড়েছে। ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পাশের রাস্তার ফুটপাত, টিএসসি থেকে শুরু করে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত পারমাণবিক শক্তি কেন্দ্র-বাংলা একাডেমির সামনের রাস্তার ফুটপাত, প্রশাসনিক ভবনের চারপাশ, শহীদ মিনারের আশপাশ ও জগন্নাথ হলের পাশের রাস্তার ফুটপাতে ছিন্নমূলসহ পথচারীদের মল-মূত্র ত্যাগ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে দুর্গন্ধময় ফুটপাতের সংখ্যা ও ব্যাপ্তি বাড়ছেই।

পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাব: ক্যাম্পাসে নিয়মিত প্রায় আড়াইশ রিক্সাচালকের আসা যাওয়া। মেট্রোরেল, ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ রাস্তা সংস্কার ও বিভিন্ন নির্মাণ কাজে এখানে প্রতিদিন আসছেন অনেক নির্মাণ শ্রমিক। এছাড়া টোকাই, ভবঘুরে, ভিক্ষুক তো আছেই। এ শ্রেণির লোকদের পয়:নিষ্কাশনের জন্য ক্যাম্পাসের কোন যায়গায় কোন ব্যবস্থা নেই। তারা ক্যাম্পাসের যত্রতত্রে মলমূত্র ত্যাগ করে। যার ফলে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী শেখ আশিক বলেন, ‘বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনার অভাবেই মূলত এ ধরণের সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। হলের বাইরের পানির ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা হয়না। এর ফলে মশা তাড়াতে ঔষধ স্প্রে করা হলেও একটু পরেই দেখা যায় আবার মশা চলে আসছে।’ রোকেয়া হলের শিক্ষার্থী মুন্নি আকতার বলেন, ‘হলের সামনে ময়লা আবর্জনা অনেক দিন ধরে পড়ে থাকলেও তা সরানো হয়না। সামনের খাবার দোকানগুলো থেকেও ময়লা আবর্জনা উৎপাদিত হয়। এছাড়া লেট গেটের সামনে সবসময় ময়লার স্তূপ পড়ে থাকে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হলের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মাসুদ রানা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সিটি কর্পোরেশন কাজ করলেও তারা ঠিকমত দায়িত্ব পালন করেনা। এর ফলে কয়েকদিন যাবৎ ময়লা জমে তা থেকে দুর্গন্ধ সৃষ্টি এবং পরে মশামাছি জন্ম নিলেও যেন দেখার কেউ নেই। এসব কাজের সুষ্ঠু সমাধানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ব্যবস্থাপনা থাকা দরকার।’ পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা।

বিষয়টি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, ‘সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নাগরিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় এ দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশন পালন করে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয় তার বিভিন্ন আবাসিক হল ও অনুষদ থেকে উৎপাদিত বর্জ্য পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে সিটি কর্পোরেশনকে সাহায্য করে।’

ফুটপাতে মলমূত্র ত্যাগ নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ছিন্নমূল জনগোষ্ঠী ও বহিরাগতরা একাজ করে থাকে। বিভিন্ন সময় পদক্ষেপ নেয়া হলেও তাদের নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন কাজ। আর আমরা তাদের জন্য পাবলিক টয়লেটের ব্যবস্থা করতে পারিনা। কারণ বিশ্ববিদ্যালয় কোন পাবলিক প্লেস না। সিটি কর্পোরেশন যদি একাজের উদ্যোগ নিতে চায় তাহলে আমরা তাদের সাথে সমন্বয় করে কাজ করতে প্রস্তুত আছি।’

চমক রেখে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দল ঘোষণা বাংলাদেশের
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
মোহাম্মদপুরে এলেক্স ইমনকে কুপিয়ে হত্যার সিসিটিভি ফুটেজ ভাইর…
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
কিশোরীর বাল্যবিবাহের অনুষ্ঠান বন্ধ করল প্রশাসন
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে ট্রলারডুবি: দুই শতাধিক যাত্রী নিখোঁ…
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
রাজধানীতে ৫০ লাখ টাকার জাল নোটসহ ৩ কারবারি গ্রেফতার
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে কঠোর নির্দেশনা জারি
  • ১২ এপ্রিল ২০২৬