শেহরীন মাহবুব সাদিয়া © ফাইল ছবি
ড্রেনে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী শেহরীন মাহবুব সাদিয়ার মৃত্যুর ঘটনা এড়ানো সম্ভব ছিল বলে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করেছে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি)। রবিবার (৪ সেপ্টেম্বর) রিটের পক্ষের আইনজীবী মো. শাহীনুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে এ ঘটনায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কেউই দায় স্বীকার করেনি।
এর আগে ২০২১ সালের ৫ ডিসেম্বর চট্রগ্রামে ড্রেনে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী শেহরীন মাহবুব সাদিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারকে ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি কোনও উন্নয়নমূলক কাজ চলাকালীন পথচারীদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা না করা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়।
একইসঙ্গে ওই ঘটনাস্থলে প্রকৃত অবস্থা কেমন এবং সেখানে আর কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কিনা, সেসব বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন আদালত। এ সংক্রান্ত রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত তৎকালীন হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ আদেশ দেন।
ওই আদেশের ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক হাইকোর্টে প্রতিবেদন পাঠান। জেলা প্রশাসনের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) কেউই দায় স্বীকার করেনি।
আরও পড়ুন: চশমা কিনে বাসায় ফিরছিলেন, সড়কবাতি না থাকায় নালায় পড়ে গেল প্রাণ
তবে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের তদন্তে দেখা গেছে, সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ফুটপাত সংস্কারের সময় নালার ওপরের অংশ সংস্কার করে অথবা নালাটির সম্মুখ অংশ সুরক্ষিত করে এই দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব ছিল।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে দুর্ঘটনা হিসেবে আখ্যায়িত করলেও নালার অবস্থান ও পানি প্রবাহ বিবেচনায় নিয়ে ঘটনাস্থলে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে। যেহেতু প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ সেখান দিয়ে চলাচল করে সে জন্য আগের ডাস্টবিন ভেঙে ফেলার সময় নালাটিকে সুরক্ষিত করা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ছিল।
গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর আগ্রাবাদে নবী টাওয়ারের কাছাকাছি নাছিরছড়া খালে পড়ে তলিয়ে যান বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী শেহেরীন মাহবুব সাদিয়া। পাঁচ ঘণ্টার চেষ্টায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার হয়। সাদিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় গত বছরের ২৫ নভেম্বর ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট করে সাদিয়ার পরিবার এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্র। ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে রুল জারির পাশাপাশি ওই ঘটনায় অবহেলার বিষয়ে অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।