রিজেন্ট গ্রুপ ও হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদ করিমের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে করা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালত এ আদেশ দেন।
রায়ের পর সাহেদকে প্রিজন ভ্যানে তোলা হলে তিনি বলেন, 'আমি ন্যায় বিচার পায়নি। আমি হাইকোর্টে আপিল করব। আমি এটার সাথে জড়িত না।'
এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টায় সাহেদকে প্রিজন ভ্যানে করে কারাগার থেকে আদালতে নিয়ে আসে পুলিশ। এসময় তাকে বুলেট প্রুফ জ্যাকেট ও হেলমেট পড়িয়ে আদালতের গারদ খানায় রাখা হয়। এরপর ১টা ৫৭ মিনিটে তাকে এজলাসে হাজির করা হয়। পরে ২টা আট মিনিটে বিচারক এ রায় ঘোষণা করেন।
এ মামলায় ১৪ সাক্ষীর মধ্যে ১১ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন। এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর আত্মপক্ষ সমর্থন করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন সাহেদ। তবে রাষ্ট্রপক্ষ তার সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন দাবি করেন।
গত ৬ জুলাই সাহেদের রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর শাখায় র্যাব অভিযান চালায়। এরপর তার নানা অনিয়মের তথ্য উঠে আসে। পরে পালিয়ে যান সাহেদ। গত ১৫ জুলাই তাকে সাতক্ষীরা গ্রেফতার করে র্যাব। পরে হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় আনা হয় তাকে।
গত ১৬ জুলাই সাহেদকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। ১৯ জুলাই তাকে নিয়ে উত্তরার বাসায় অভিযান চালিয়ে সাহেদের নিজস্ব প্রাইভেটকার থেকে পাঁচ বোতল বিদেশি মদ, ১০ বোতল ফেনসিডিল, একটি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ। এরপর অস্ত্র ও মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে উত্তরা পশ্চিম থানায় দুটি মামলা করা হয়।
গত ৩০ জুলাই আদালতে সাহেদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়। ২৭ আগস্ট তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। পরে গত ২০ সেপ্টেম্বর যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য ২৮ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন আদালত।