১৬১ ‘ক্রসফায়ারের’ নেতৃত্বে প্রদীপ আর লিয়াকত

০৫ আগস্ট ২০২০, ০৮:০২ AM

মাদকবিরোধী অভিযানে ২০১৮ সালের মে মাস থেকে কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশের কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধ’ বা ‘ক্রসফায়ারে’ ১৬১ জন নিহত হয়েছে। এর বেশির ভাগ ঘটনাই ঘটে মেরিন ড্রাইভ এলাকায়। টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক লিয়াকত আলীর নেতৃত্বে এলাকাটি ‘ক্রসফায়ার জোন’ হয়ে উঠলেও থামেনি ইয়াবার কারবার।

ওসি প্রকাশ্যে মাদক কারবারিদের নির্মূল করার ঘোষণা দিলেও তাঁর এই মিশনে শীর্ষ কারবারি হাজি সাইফুল ছাড়া উল্লেখযোগ্য কেউ নিহত হয়নি। নিহতদের বেশির ভাগই ইয়াবার খুচরা বিক্রেতা। স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আত্মসমর্পণের নামে শীর্ষ কারবারিদের রেহাইয়ের সুযোগ দিয়ে এবং চুনোপুঁটিদের দমন করে চলছে ‘ক্রসফায়ার বাণিজ্য’।

গত ৩১ জুলাই মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদের মৃত্যুর পর ওসি প্রদীপ ও পরিদর্শক লিয়াকতের ‘ভিন্ন রকম ত্রাসের’ অভিযোগ মিলছে। সূত্রগুলো জানায়, বিশেষ অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে টেকনাফে এসে ‘আস্থাভাজন ওসি’ বলে নিজেকে পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তার করেন প্রদীপ। গোপালগঞ্জে বাড়ি এবং ছাত্রলীগ করতেন বলে পরিচয় দেন লিয়াকত। এসব কারণে সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা, পুলিশও তাঁদের বিরুদ্ধে কথা বলে না। বিচার-বিশ্লেষণ ছাড়া অনেক ব্যক্তিকে ‘ক্রসফায়ার’ দিয়ে বড় ইয়াবা কারবারি বলে প্রচারের অভিযোগ উঠেছে তাঁদের বিরুদ্ধে। কিছু পরিবার টাকা আদায়েরও অভিযোগ করছে।

ওসি প্রদীপ কুমারের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভেসে বেড়াচ্ছে। এই ভিডিওতে তিনি বলেছেন, টেকনাফের প্রতিটি পাড়া-মহল্লার ইয়াবা কারবারিদের গ্রেপ্তার করা হবে। যাদের পাওয়া যাবে না তাদের ঘরবাড়ি, দোকানপাট, যানবাহন সমূলে উৎপাটন করা হবে। তাদের বাড়িতে গায়েবি হামলা হবে। কোনো কোনো বাড়ি ও গাড়িতে গায়েবি অগ্নিসংযোগও হতে পারে। ওসির এই ভীতিকর ভিডিও বার্তা নিয়ে কক্সবাজারে ব্যাপক আলোচনা চলে।

পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে এক জনপ্রতিনিধি বলেন, গত দেড় বছরে টেকনাফে ১৫০টি বাড়িঘরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। সরকারের ইয়াবা নির্মূলের জন্য বিশেষ অভিযান চালানোর সুযোগ নিয়ে ওসি প্রদীপ ও পরিদর্শক লিয়াকত বাহারছড়া, মেরিন ড্রাইভসহ কিছু এলাকাকে কিলিং জোন বানিয়েছেন।

গরিব ‘বহনকারীদের মেরে’ তাঁরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বাহবা কুড়িয়েছেন। আর শীর্ষ কারবারিদের সঙ্গে আঁতাত করেছেন। তাঁদের সমঝোতায় অনেকে আত্মসমর্পণ করেছে। অনেকে আত্মসমর্পণ না করেও তাঁদের ‘ম্যানেজ করে’ এলাকায় ফিরেছে। যারা ম্যানেজ করছে না তাদের বাড়িতেই হামলা হচ্ছে বলেও অভিযোগ দেন ওই জনপ্রতিনিধি।

পুলিশ ও মানবাধিকার সংস্থার তথ্য মতে, ২০১৮ সালের মে মাস থেকে গত ৩০ জুলাই পর্যন্ত শুধু কক্সবাজারে পুলিশ, বিজিবি ও র‍্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ২৮৭ জন নিহত হয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় ১৭৪ জন, বিজিবির সঙ্গে ৬২ জন এবং র‍্যাবের সঙ্গে ৫১ জন। শুধু টেকনাফেই পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে ১৬১ জন। কিন্তু ইয়াবা চোরাচালান থেমে নেই।

২০১৮ সালেই টেকনাফে বন্দুকযুদ্ধে নিহতদের মধ্যে ১০ জনের পরিবার দাবি করে, নিহতরা কারবারে জড়িতই ছিল না। তাদের সাতজনের নাম কারবারিদের তালিকায় নেই। ছিল না মামলাও। তবে স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ, ওই নিহতরা খুচরা বিক্রেতা। ২০১৮ সালের ২৮ অক্টোবর অভিযানে নিহত হন নাজিরপাড়ার কামাল হোসেন।

কামালের মা নূরুন্নাহার বিলাপ করে বলেন, ‘গরুর ব্যবসা করে কোনোমতে সংসার চালাত কামাল। তার নিজের ঘরও নেই। অভিযানের সময় কৌতূহলে এগিয়ে গেলে পুলিশ কামালকে আটক করে। পরে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার খবর পাই।’ তাঁর মায়ের দাবি, পুলিশের এক সদস্য ১০ লাখ টাকা চেয়েছিলেন। দিতে পারেননি তাঁরা।

সাবরাংয়ের সিকদারপাড়ার সুলতান আহমেদের ছেলে সাদ্দাম হোসেন নিহত হন ওই বছরের ২৭ অক্টোবর। সাদ্দামের মা জোহরা বেগম ও ভাই শামসুল আলম বলেন, তাঁদের এলাকায় কালামের ছেলে সাদ্দাম ইয়াবা কারবার করেন। নিহত সাদ্দাম মাছের ব্যবসা করতেন। স্থানীয় দফাদারের সঙ্গে বিরোধের কারণে ভুল তথ্য দিয়ে তাঁদের সাদ্দামকে ‘হত্যা’ করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, টেকনাফ থানার পুলিশ এখন মাঠ পর্যায়ে কারবারিদের কাছ থেকে টাকা তোলার দায়িত্ব দিয়েছে ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদার-দফাদারদের। প্রতি লাখে ২০ হাজার টাকা আদায়কারী চৌকিদার (গ্রাম পুলিশ) পেয়ে থাকেন। চৌকিদার-দফাদাররা ইয়াবা কারবারিদের কাছ থেকে মাসিক চুক্তির কমিশন বাবদ আয় দিয়ে সবাই এখন বড়লোক বনে গেছেন।

সূত্র মতে, থানায় বসে সব দিক সামলান ওসি। আর ক্রসফায়ারসহ প্রভাব বিস্তারের কাজটি করেন পরিদর্শক লিয়াকত। ডাকাত গ্রেপ্তারে পাহাড়ে অভিযান, ইয়াবা ধরাসহ কিছু ভালো কাজ করে লিয়াকতও ওসি প্রদীপের মতো ‘আস্থাভাজন’ তকমা লাগিয়েছেন। ফলে তাঁর অভিযান নিয়েও কেউ প্রশ্ন তোলে না। সাবেক সেনা কর্মকর্তা সিনহা মো. রাশেদ নিহতের পর তাঁকেসহ বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের সব সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এবার তাঁদের ‘ক্রসফায়ার’ বাণিজ্যের তথ্য বের হবে বলে মনে করছে স্থানীয় লোকজন।

অভিযোগের ব্যাপারে টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, ‘এসব ডাহা মিথ্যা। আমি টেকনাফে আসার পর ইয়াবা কারবারিদের সাইজ করেছি। এসব কারণে তারা আমার ওপর ক্ষীপ্ত। তাই তারা বানোয়াট অভিযোগ তুলে আমাকে সরাতে চায়।’ তিনি বলেন, ‘কক্সবাজারের সাংবাদিকরাও জানেন আমি কোনো অন্যায় করিনি। আমি দুর্নীতির আশ্রয় নিইনি।’ (সূত্র: কালের কণ্ঠ, প্রতিবেদক: এস এম আজাদ)

আর্জেন্টিনার ম্যাচের নতুন সূচিতে পরিবর্তন
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
এনসিপির প্রবাসী সংকট ব্যবস্থাপনা সেল গঠন
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
আরব দেশগুলোর কাছে ইরান যুদ্ধের খরচ চাইবেন ট্রাম্প 
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
এইচএসসির ফরম ফিলাপ করতে না দেওয়ায় ২৪ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা…
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়নে এমআইইউ-সিপিএএ’র যৌথ সেমিনার অনু…
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সাপ্তাহিক ছুটি তিন দিন ও অনলাইন ক্লাসসহ ৮ প…
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence