চাঁপাইনবাবগঞ্জের জোহরপুর সাতরশিয়া সীমান্তে বিএসএফ’র গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। গুলিতে আহত হয়েছেন আরও দুজন। নিহতরা হলেন- শিবগঞ্জ উপজেলার দশরশিয়া গ্রামের শফিকুলের ছেলে সুমন (২০) এবং এনামুল সরকার বুদ্ধুর ছেলে সেলিম (২১)।
নিহত সেলিমের বাবা বুদ্ধুও ২০০৮ সালে পদ্মায় অনুপ্রবেশকারী ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারিয়েছিলেন। স্থানীয়রা জানিয়েছে, গুলিবিদ্ধ দুজনের মধ্যে একজন বাংলাদেশি, আরেকজন ভারতীয় নাগরিক।
জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার জোহরপুর সাতরশিয়া সীমান্তে কয়েকজন বাংলাদেশি গরু আনতে ভারতের দিকে যাচ্ছিলেন। তারা সীমান্তের প্রায় দুই কিলোমিটার ভেতরে টিকলিচর নামক স্থানে পৌঁছলে মুর্শিদাবাদ জেলার চাঁদনিচক বিএসএফ ফাঁড়ির সদস্যরা গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই বাংলাদেশি নিহত হন।
রাতে বিএসএফ সদস্যরা জিরো লাইনের কাছে মরদেহগুলো ফেলে রেখে যায়। পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় স্বজনরা মরদেহগুলো অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। গভীর রাতে সবার অগোচরে মরদেহগুলো পদ্মার চর এলাকায় দাফন করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে কেউ মারা গেলে আইনি জটিলতা এড়াতে এভাবে গোপনে মরদেহ পদ্মার চরে দাফন করা হয়। বুধবার রাতে নিহত দুই যুবকের মরদেহও একই পন্থায় দাফন করা হয়েছে।
সীমান্তে এই হতাহতের বিষয়ে পাঁকা ইউনিয়ন প্রজন্মলীগের সভাপতি আল আমিন জুয়েল বলেন, ‘গুলির ঘটনা সন্ধ্যার পরেই ঘটে। দুই বাংলাদেশি নিহতের খবর জানাজানি হয়। তবে আইনি ঝামেলা এড়াতে আত্মীয় স্বজনরা গোপনে মরদেহগুলো দাফন করেছে।’
বিষয়টি জানতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ানের কর্মকর্তাদেরকে গণমাধ্যম থেকে ফোন দেয়া হলেও তারা রিসিভ করেননি। ফলে বিজিবির কোনো বক্তব্য জানতে পারেনি কোনো গণমাধ্যম।