© প্রতীকী ছবি
মায়ের স্বপ্ন ছেলেকে পড়াশোনা করিয়ে ভালো মানুষ করে গড়ে তুলবেন। সেজন্য নানাভাবে চেষ্টা করছিলেন তিনি। তবে ছেলে বেয়াড়া। পড়ার সময়ে ঘুরে বেড়াত অন্য ছেলেদের সঙ্গে। অভিমানে তাই কঠিন সিদ্ধান্তই নিয়ে বসলেন মা।
মঙ্গলবার বিকেলে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় এ ঘটনা ঘটেছে। ছেলের সঙ্গে অভিমান করে গায়ে আগুন লাগিয়ে ওই মা আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহত পারুল বেগম (৩০) ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের দালালপুর গ্রামের মৃত ইকবাল পাটোয়ারীর স্ত্রী। বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি ) মো. এনামুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, দেড় বছর আগে স্বামীর মৃত্যুর পর দুই ছেলেকে পড়ালেখা করিয়ে মানুষ করার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন উপজেলার টবগী ইউনিয়নের পারুল বেগম (৩০)। মঙ্গলবার তিনি জানতে পারেন, তার ছোট ছেলে মাদ্রাসায় না গিয়ে গ্রামের ছেলেদের সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ায়।
এমন খবর শুনে ছেলেকে খুঁজতে থাকেন তিনি। বিকেল পর্যন্ত ছেলেকে না পেয়ে রাগে অভিমানে নিজের গায়ে আগুন লাগিয়ে দেন পারুল। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা ৭টায় তার মৃত্যু হয়।
নিহতের ভাই ফরহাদ হোসেন জানান, পারুলের স্বামী ইকবাল পাটোয়ারী মিস্ত্রির কাজ করতেন। দেড় বছর আগে তিনি হেপাটাইটিস বি রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তাদের দুই ছেলে রাব্বি (১৯) ও রবিন (১১)। পারুলের স্বপ্ন ছিলো তার দুই ছেলেকে পড়ালেখা করিয়ে ভালো কোনো সরকারি চাকরি করবে।
তিনি বলেন, রাব্বি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্সে পড়ছে। আর রবিন স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় পড়ালেখা করছে। বোনের স্বামীর মৃত্যুর পর রাব্বি ঢাকায় পড়াশোনার পাশাপাশি প্রাইভেট পড়িয়ে ও আমাদের কিছুটা সহযোগিতায় তাদের সংসার চলছিল। তবে রাব্বী কোন বিভাগের ও হলের তা জানা যায়নি।
ভোলা সিভিল সার্জন ডা. রথীন্দ্রনাথ মজুমদার জানান, ওই নারীর সারা শরীর আগুনে ঝলসে গিয়েছিল। আমরা তাকে বরিশাল শেবাচিমে রেফার করি। কিন্তু সেখানে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়।