নিচে বসে থাকা ব্যক্তিকে মারধর ও কান ধরে ওঠবস করান সাদা শার্ট পরিহিত ব্যক্তি © সংগৃহীত
রাজধানীর ধানমন্ডিতে এক তরুণীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে ফুটপাতে মারধর ও কান ধরে ওঠবস করানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, এক যুবক ওই ব্যক্তিকে চড়-থাপ্পড় ও লাথি মারছেন। এ সময় কাছেই দুই পুলিশ সদস্য উপস্থিত থাকলেও তাদের নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়। পরে ওই ব্যক্তিকে আটক করে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তবে পুলিশের উপস্থিতিতে মারধর এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার দুপুরে ধানমন্ডির সাতমসজিদ সড়কে অবস্থিত বেসরকারি বাংলাদেশ আই হসপিটালের বিপরীত পাশের ফুটপাতে। পুলিশ ও ভুক্তভোগী তরুণীর সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। পরে এ ঘটনার ভিডিও গতকাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ ভাইরাল হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ২ মিনিট ১২ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, ক্ষুব্ধ এক যুবক গালিগালাজ করতে করতে শহীদ আবদুল্লাহ আল মাসুদ রানা (৪৮) নামের ওই ব্যক্তিকে মারধর করছেন। তাকে চড়-থাপ্পড় ও লাথি মারার পাশাপাশি কান ধরে ওঠবস করানো হচ্ছে। এ সময় আশপাশে পথচারীদের ভিড় জমে। তাদের কেউ ঘটনাটি দেখছিলেন, আবার কেউ মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন।
ভিডিওতে পথচারীদের কথোপকথনের কিছু অংশও শোনা যায়। তাদের কাউকে বলতে শোনা যায়, ‘মেয়ের গায়ে হাত দিয়েছে’, ‘ক্যানটিনে এই ঘটনা ঘটে’ এবং ‘মা-বোন নাই’। একপর্যায়ে এক পথচারী মারধরের শিকার ব্যক্তির কাছে গিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা দুই পুলিশ সদস্যকে দেখিয়ে তাকে তাদের হাতে তুলে দিতে বলেন।
পরে ওই ব্যক্তিকে বসা অবস্থা থেকে উঠে দাঁড়াতে দেখা যায়। তার মুঠোফোন নিয়ে মারধরকারী যুবক ও এক পথচারী তাকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় উত্তেজিত যুবককে বলতে শোনা যায়, ‘কিসের সরি, সরি বললেই সব শেষ হয়ে যায়?’ এরপর ‘তুই একটি মায়ের গায়ে হাত দিয়েছিস’ বলে তাকে আবারও থাপ্পড় মারেন ওই যুবক। পুরো ঘটনার সময় কয়েক হাত দূরে দুই পুলিশ সদস্যকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
ভুক্তভোগী ২৩ বছর বয়সী তরুণী মঙ্গলবার বলেন, ওই ব্যক্তি তাকে ‘ব্যাড টাচ’ বা খারাপ স্পর্শ করেছিলেন। ঘটনার পর তাকে ধরে কর্তব্যরত দুই পুলিশ সদস্যের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে তারা ওই ব্যক্তিকে নিজেদের হেফাজতে নিতে অনাগ্রহ দেখান। বরং তরুণীকে ধানমন্ডি থানায় গিয়ে মামলা করতে বলেন।
তরুণী জানান, ওই ব্যক্তির কাছে এমন আচরণের কারণ জানতে চাইলে তিনি নিজের দোষ স্বীকার করে ‘সরি’ বলেছিলেন। পরে আমি আমার মামাকে ফোন করি। মামা ঘটনাস্থলে এসে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই ব্যক্তিকে মারধর করেন। এরপর পুলিশ এসে তাকে ধানমন্ডি থানায় নিয়ে যায়।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি ‘সম্রাট শাহাদত’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ভিডিওটি ৪৬ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে। অনেক ব্যবহারকারী ভিডিওটি শেয়ার করে পুলিশের ভূমিকা এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে ধানমন্ডি থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মামুন ভূঁইয়া বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। পরে শহীদ আবদুল্লাহকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়।
ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম তৈয়ব জানান, তরুণীর শরীরে স্পর্শ করার ঘটনায় ডিএমপির রমনা জোনের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইমরান আহমেদ শহীদ আবদুল্লাহকে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তরুণীকে শ্লীলতাহানির কথা স্বীকার করায় তাকে এ সাজা দেওয়া হয়েছে বলে ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান আহমেদ জানিয়েছেন।