অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেন © সংগৃহীত
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পলাতক আসামি অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বুধবার রাতে বনানীর একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ৪৫ বছর ধরে তিনি পলাতক ছিলেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যা ছয়টার দিকে যথাযথ আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাকে ঢাকা সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশের একটি দলের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রাত নয়টার দিকে ডিএমপির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ডিবি সূত্রে জানা গেছে, জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর থেকে বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন মেজর মোজাফফর হোসেন। বিশ্বস্ত সোর্স ও তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্লেষণের মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করে গোয়েন্দা বিভাগ।
ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলামের সার্বিক দিকনির্দেশনায় একটি দল অভিযান পরিচালনা করে। বুধবার (১৫ জুলাই) রাত ১০টা ১০ মিনিটে বনানীর একটি বাসা থেকে মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। পরে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে আর্মড ফোর্সেস ডিভিশনকে জানানো হয়।
আরও পড়ুন: ৪৫ বছর পর শহীদ জিয়ার খুনি পলাতক অবসরপ্রাপ্ত মেজর গ্রেপ্তার
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র ও মামলার নথি অনুযায়ী, মোজাফফর হোসেনের বিরুদ্ধে ৪৫ বছর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোররাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যা করেন।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান আগের দিন দলের স্থানীয় বিরোধ মেটাতে চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, সে সময় সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেনই প্রথম জিয়াউর রহমানকে শনাক্ত করেছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পর সেনাবাহিনীর অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মেজর জেনারেল মঞ্জুর নিহত হন।
বিদ্রোহে জড়িত থাকার অভিযোগে সামরিক আদালতে সেনা কর্মকর্তাদের বিচার হয়। ১৩ জন সেনা কর্মকর্তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়। অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর মোজাফফর পালিয়ে যান। তাকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছিল।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, দীর্ঘ সময় ভারতে আত্মগোপনে ছিলেন মেজর মোজাফফর। ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত তিনি সেখানে অবস্থান করেন। পরে ছদ্মনাম ব্যবহার করে সীমান্ত অতিক্রম করে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।