জামিনের পরই নতুন মামলায় আবারও কারাগারে সাবেক এমপি সেঁজুতি

১৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:১৯ PM
আদালতে লায়লা পারভীন সেঁজুতি

আদালতে লায়লা পারভীন সেঁজুতি © সংগৃহীত

সাবেক সংসদ সদস্য ও সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদবিষয়ক সম্পাদক লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে ফের একটি হত্যা মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
 
সোমবার (১৩ জুলাই) সাতক্ষীরার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিলাস মণ্ডলের আদালত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানার এসআই অনাথ মিত্রের আবেদনের ওপর দুই দফা শুনানি শেষে আবেদনটি মঞ্জুর করেন।
 
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি যশোরের পিকনিক কর্নারের সামনে সংঘটিত একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলায় লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে। মামলাটি ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা সদর থানায় দণ্ডবিধির ৪৬৪/৩০২/২০১/১৪৯/৩৪ ধারায় (মামলা নং-১৪, জিআর নং-৪০৩/২৪) রেকর্ড করা হয়।
 
মামলার বাদী সদর উপজেলার কাশেমপুর গ্রামের মৃত নুর আলী সানার ছেলে মো. ইমদাদুল হক। তিনি ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট সাতক্ষীরা ১ নম্বর আমলি আদালতে তৎকালীন পুলিশ সুপার চৌধুরী মঞ্জুরুল কবিরসহ ৩২ জনের নাম উল্লেখ করে মামলাটি করেন। পরে আদালতের নির্দেশে অভিযোগটি সদর থানায় এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত হয়।
 
এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, তার ভাই শহিদুল ইসলাম বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ২০১৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে পুলিশ সদস্য ও আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে গঠিত একটি দল তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। পরে যশোরের পিকনিক কর্নারের সামনে গুলি করে হত্যা করা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, সে সময় ঘটনাটি ইউডি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া হয় এবং পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা করতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ না করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহের পর মামলা করা হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
 
এর আগে ২০২৫ সালের ২০ মে রাতে সাতক্ষীরা শহরের রাধানগর এলাকার নিজ বাসা থেকে লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। প্রথমে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫(৩)/২৫(ডি) ধারার একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে আরও একাধিক মামলায় তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। এর মধ্যে ১ জুন একটি অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের মামলা, ২৫ জুন বিশেষ ক্ষমতা আইনের আরেকটি মামলা এবং ২০২৬ সালের ১৩ জুন জিআর-৩৯৯/২৪ নম্বর হত্যা মামলায় তাকে শোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। পরে ২৯ জুন জিআর-৪০২/২৪ নম্বর আরেকটি হত্যা মামলাতেও তাকে একইভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
 
লায়লা পারভীন সেঁজুতির আইনজীবী প্যানেলের সদস্য অ্যাডভোকেট আল মাহামুদ পলাশ বলেন, সর্বশেষ মামলায় ২০২৬ সালের ৩ জুন হাইকোর্ট তার মক্কেলকে জামিন দেন। রাষ্ট্রপক্ষ ওই জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করলেও আদালত ‘নো অর্ডার’ দেন। পরবর্তী সময়ে ১০ জুন জামিননামা সম্পাদনের পরই তাকে নতুন একটি মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। এ ছাড়া ২৫ জুন জিআর-৩৯৯/২৪ এবং ৯ জুলাই জিআর-৪০২/২৪ নম্বর মামলায়ও দায়রা জজ আদালত তার অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন।
 
সর্বশেষ সোমবার (১৩ জুলাই) জিআর-৪০৩/২৪ নম্বর হত্যা মামলায় আদালত তাকে পুনরায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোর আদেশ দেন।

শিক্ষক দিবসের সম্মাননা: স্বীকৃতি, নাকি দলীয় আনুগত্যের পুরস্…
  • ০৫ অক্টোবর ২০২৬
গাজায় ইসরায়েলের হামলায় ৮০০ শিক্ষক নিহত, আহত ৩৩০০
  • ০৫ অক্টোবর ২০২৬
অবৈধ স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ৮৫ হাজার টাক…
  • ০৫ অক্টোবর ২০২৬
একজন নেতাকে কতটা ভয় পেলে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা এতটা উন…
  • ০৫ অক্টোবর ২০২৬
গ্রাম আদালতের কার্যক্রম গতিশীল, স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে দুই দ…
  • ০৫ অক্টোবর ২০২৬
ধানখেতে বিদ্যুতায়িত হয়ে আনসার সদস্যের মৃত্যু
  • ০৫ অক্টোবর ২০২৬