২ যুগে সীমান্তে ৭ বার মুখোমুখি— সম্মুখযুদ্ধে এগিয়ে বাংলাদেশ, বেসামরিক মানুষ হত্যায় ভারত

১৯ মে ২০২৬, ০৮:০৫ PM , আপডেট: ১৯ মে ২০২৬, ০৮:৫৯ PM
ছবি: বিজিবি ও বিএসএফ

ছবি: বিজিবি ও বিএসএফ © সংগৃহীত

২০০১ সাল থেকে এই পর্যন্ত গত ২৫ বছরে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে সর্বমোট ৭ বার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) মুখোমুখি হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। যেখানে উভয় পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। আর এসবের বেশিরভাগ ঘটনার নেপথ্যেই দেখা যায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর অনধিকার চর্চা। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকায় ভারতীয়দের লুটপাট, দখল, চোরাকারবারি, অতর্কিত হামলা— ইত্যাদি ঘটনাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দুই পক্ষের মুখোমুখি হওয়ার জন্য দায়ী। তবে সম্মুখযুদ্ধের বেশির ঘটনার পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীই এগিয়ে ছিলো।  

সম্মুখযুদ্ধের সাল নিহতের সংখ্যা (বিজিবি) নিহতের সংখ্যা (বিএসএফ)
২০০১  ০৩ জন ১৬ জন
২০০৫ ০০ ০১
২০০৬ ০০ ০০
২০০৮ ০২ ০০
২০১৩ ০০ ০০
২০১৯ ০০ ০১
২০২৬ ০০ ০০
মোট বিজিবি ০৫ জন বিএসএফ ১৮ জন

২০০১ সাল
সিলেট সীমান্তে বিডিআর (বর্তমান বিজিবি) ও বিএসএফের সংঘর্ষে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে। মূলত বাংলাদেশের ভূখণ্ডের মধ্যে থাকা পদুয়া গ্রামটি ১৯৭১ সাল থেকেই বিএসএফ অবৈধভাবে দখলে রেখেছিল। সে বছর গ্রামটিতে বিএসএফ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে বাংকার ও রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করলে বিডিআর প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ১৫ এপ্রিল রাতে তৎকালীন বিডিআর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এএলএম ফজলুর রহমানের নির্দেশে বিডিআর সদস্যরা পদুয়া এলাকাটি চারপাশ থেকে অবরুদ্ধ করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। ১৬ এপ্রিল ভোরে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে বিএসএফ পিছু হটতে বাধ্য হয়। এর প্রতিশোধ নিতে ১৮ এপ্রিল বিএসএফ কুড়িগ্রামের বড়াইবাড়ি ক্যাম্পে আক্রমণ করলে বিডিআর ও স্থানীয়রা তা প্রতিহত করে। ৪ দিনব্যাপী চলা এই সম্মুখযুদ্ধে ১৬ জন বিএসএফ সদস্য এবং ৩ জন বিডিআর সদস্য নিহত হন। পরবর্তীতে আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি ঘটে।

২০০৫ সাল
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার বাংলাদেশ–ভারত সীমান্তের হীরাপুর গ্রামে ১৬ এপ্রিল দুই দেশের সীমান্ত রক্ষীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেদিন ২০-২৫ জন বিএসএফ সদস্য এবং ৬০-৭৫ জন ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশের সীমানায় ঢুকে হীরাপুর গ্রামে লুটপাট শুরু করে। এরপর গ্রামবাসীর বাধার মুখে বিএসএফ গুলি চালালে উপস্থিত বিডিআর সদস্যরা বিএসএফএর সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। ৪-৫ ঘণ্টার এই তীব্র সংঘর্ষে বিএসএফএর কোম্পানি কমান্ডার শ্রী জীবন কুমার গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এছাড়া বিএসএফ-এর কনস্টেবল কে কে সুরেন্দার গুলিবিদ্ধ হন। শেষে বিএসএফ কোম্পানি কমান্ডারের লাশ ও আহত কনস্টেবলকে ফেলে রেখে বাংলাদেশের সীমানা ত্যাগ করে।  

২০০৬ সাল
সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার সীমান্তে বিএসএফ ও বিডিআরের মধ্যে ৯ আগস্ট রাত ১০টার দিকে বিএসএফ কোনো উসকানি ছাড়াই ভারী অস্ত্র ও মর্টার শেল দিয়ে জকিগঞ্জের বিডিআর ক্যাম্প ও বাড়িঘর লক্ষ্য করে আকস্মিক গুলিবর্ষণ শুরু করে। অমলসীদ ও উত্তরকুল ক্যাম্পের বিডিআর সদস্যরা তাৎক্ষণিক বিএসএফের হামলা প্রতিরোধ করলে দুই পক্ষের মধ্যে টানা ১৪ ঘণ্টা এই সশস্ত্র যুদ্ধ চলে। বিএসএফের মর্টার শেল ও গুলিতে বাংলাদেশি হতাহতের পাশাপাশি অনেক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গুলিতে বাংলাদেশের ২ জন বিডিআর সদস্য এবং ৭ জন বেসামরিক নাগরিক গুরুতর আহত হন। তীব্র গোলাগুলি ও মর্টার শেলের প্রচণ্ড আওয়াজে এক বাংলাদেশি নাগরিক হার্ট অ্যাটাকে মারা যান। তবে ভারতের দাবি, তাদের কাছাড় জেলায় ২ জন নারীও এই সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন।

২০০৮ সাল 
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার রঘুনাথপুর সীমান্তে ১৭ ও ১৮ জুলাই মধ্যরাতে বিডিআর ও বিএসএফএর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার নিমতিতা ক্যাম্প থেকে বিএসএফএর একটি স্পিডবোট পদ্মা নদী পার হয়ে বাংলাদেশ সীমানায় ঢুকে পড়লে বিজিবির বাধার মুখে বিএসএফ অতর্কিত গুলিবর্ষণ শুরু করে। এসময় বিএসএফের গুলিতে ঘটনাস্থলেই ২ জন বিজিবি সদস্য নিহত হন। এবং বিএসএফএর ১ জন আহত হয়।

২০১৩ সাল 
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলা সীমান্তে ১১ ফেব্রুয়ারি সকালে বিজিবি এবং বিএসএফএর মধ্যে প্রায় ৩০ মিনিট গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটে। ওই দিন বিজিবির টহল টিম সীমান্ত এলাকায় দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় ভারতীয় চোরাকারবারি একটি দল বিজিবির ওপর অতর্কিত আক্রমণ ও গুলিবর্ষণ করে। আত্মরক্ষার্থে বিজিবি তাৎক্ষণিক পালটা গুলি চালালে ফরিদ আহমেদ এবং মনির হোসেন নামে দুই ভারতীয় চোরাকারবারি ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। এ ঘটনার পর বিএসএফ সদস্যরা বিজিবিকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় ৩০ মিনিট ব্যাপক গুলি বিনিময় হয়। তবে এতে বিজিবির কোনো সদস্য হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। 

২০১৯ সাল
রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার বালুঘাট সীমান্তে ১৭ অক্টোবর পদ্মা ও তার শাখা বড়াল নদীর মোহনায় বিজিবি ও বিএসএফএর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এই সংঘর্ষে বিএসএফের ১ জন নিহত এবং একজন আহত হন। মা ইলিশ সংরক্ষণের নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন ভারতীয় জেলেরা বাংলাদেশের জলসীমায় ঢুকে পদ্মা নদীতে ইলিশ মাছ ধরছিল। এসময় বিজিবি অভিযান চালিয়ে ১ জন ভারতীয় জেলেকে আটক করে। এসময় পলাতক জেলেদের কাছ থেকে খবর পেয়ে ভারতের কিশমত-মরুশিখার ক্যাম্পের ৪ জন বিএসএফ সদস্য স্পিডবোট নিয়ে জিরো লাইন অতিক্রম করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়েন। বিএসএফ সদস্যরা আটক ভারতীয় সেই জেলেকে জোরপূর্বক বিজিবির কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে বিজিবি সদস্যরা নিয়ম অনুযায়ী পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে জেলেকে হস্তান্তরের কথা জানান। কিন্তু বিএসএফ তা না মেনে আটক জেলেকে রেখেই স্পিডবোটে ভারতের দিকে রওনা হন এবং বিজিবিকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করেন। আত্মরক্ষার্থে বিজিবি পালটা গুলি চালালে বিএসএফের প্রধান কনস্টেবল বিজয় ভান সিং মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন এবং রাজবীর সিং নামে এক বিএসএফ সদস্য আহত হন।

২০২৬ সাল
গত ১৮ মে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার সোনারহাট সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ সদস্যরা বিনা উসকানিতে গুলি চালালে আকস্মিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এর জবাবে সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) সদস্যরা তাৎক্ষণিক পালটা গুলি বর্ষণ করে। বিজিবির এই পদক্ষেপের ফলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে এ ঘটনায় দুই পক্ষের কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।  

২০০১ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিজিবি-বিএসএফ এর এই ৭টি সম্মুখ যুদ্ধের ঘটনা বিশ্লেষণ করলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয় যে, সম্মুখ যুদ্ধে জড়িয়ে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এগিয়ে ছিলো বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী। এসব ঘটনায় বিএসএফ এর সর্বমোট নিহতের সংখ্যা ১৮, যেখানে বিজিবির নিহতের সংখ্যা ০৫। এছাড়া এসব সংঘর্ষে বাংলাদেশের পক্ষের বেসামরিক মানুষ নিহতের সংখ্যা ভারতের ২ জন, বাংলাদেশের ২ জন।


এদিকে সম্মুখযুদ্ধে পিছিয়ে থাকলেও বেসামরিক বাংলাদেশি মানুষ হত্যায় বেশ এগিয়ে ভারতের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী— ২০১৫ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত গত ১০ বছরে সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক ৩০৫ জন বাংলাদেশি নিহত এবং অন্তত ২৮২ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া মানবাধিকার সংগঠন অধিকার এর তথ্য অনুযায়ী— ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৭ বছরে বিএসএফ কর্তৃক মোট ৬১৮ জন বাংলাদেশি বেসামরিক মানুষ নিহত এবং আহত হয়েছেন ৮০২ জন।  

বুটেক্সে ফরম ফিল-আপের ভোগান্তি কমাতে শিক্ষার্থীর উদ্ভাবনী উ…
  • ১৯ মে ২০২৬
ময়মনসিংহে দিপু দাস হত্যা মামলায় আরও তিন আসামী গ্রেফতার
  • ১৯ মে ২০২৬
সব হাসপাতালে হামের আলাদা ওয়ার্ড গঠনের নির্দেশ, ছুটির দিনেও …
  • ১৯ মে ২০২৬
পাকিস্তানের প্রয়োজন ১২১ রান, বাংলাদেশের ৩ উইকেট
  • ১৯ মে ২০২৬
পাবনায় কোরবানীর হাট মাতাবে ৪০ মণের বাহারাম বাদশাহ, খায় কলা-…
  • ১৯ মে ২০২৬
বেসরকারি হাসপাতালে হামের রোগী ভর্তি না নেয়ার অভিযোগ স্বাস্থ…
  • ১৯ মে ২০২৬
×
ADMISSION
GOING ON
SPRING 2026
APPLY ONLINE
UP TO 100% SCHOLARSHIP
UNIVERSITY OF ASIA PACIFIC 🌐 www.uap.ac.bd
Last Date of Application:
21 June, 2026
📞
01789050383
01714088321
01768544208
01731681081