জব্দ করা ইয়াবার ছবি © টিডিসি ফটো
কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় একটি বড় ধরনের মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। অভিযানে প্রায় ২৫ কোটি ৭৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের ৮ লাখ ৫৯ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত অভিযানগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম বড় সাফল্য।
বিজিবি সূত্র জানায়, শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে আধুনিক সার্ভেইল্যান্স প্রযুক্তির মাধ্যমে সীমান্তে সন্দেহজনক গতিবিধি নজরে আসে। বিজিবি নিশ্চিত হয় যে, একটি সংঘবদ্ধ চোরাকারবারি চক্র নাফ নদী পার হয়ে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করছে। এ খবরের ভিত্তিতে উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) হ্নীলা বিওপির একটি বিশেষ টহল দল টেকনাফের গোলপাতা এলাকায় কৌশলগত অবস্থান নেয়।
ভোর আনুমানিক ৩ টার দিকে বিজিবি সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা মালামাল ফেলে রেখে দ্রুত নাফ নদীতে ঝাঁপ দেয় এবং সাঁতরে মিয়ানমারের ভেতরে পালিয়ে যায়। ফলে কাউকে আটক করা সম্ভব না হলেও ঘটনাস্থল থেকে ১৩টি পরিত্যক্ত পোটলা উদ্ধার করা হয়। এসব পোটলার ভেতর বিশেষ প্যাকেজিংয়ে মোড়ানো অবস্থায় বিপুল পরিমাণ ইয়াবা পাওয়া যায়।
উখিয়া ৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম জানান, সীমান্তে মাদক পাচার রোধে বিজিবি এখন আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করেছে। পাচারকারীদের শনাক্ত ও দমনে এ ধরনের কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। বর্তমানে ওই এলাকায় টহল বৃদ্ধি ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় কড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, নাফ নদী মাদক পাচারের প্রধান রুট হওয়ায় এ অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত তৎপরতা সত্ত্বেও পাচারকারীরা নিত্যনতুন কৌশলে মাদক আনার চেষ্টা করে যাচ্ছে। তবে বিজিবির এ প্রযুক্তিনির্ভর অভিযান চোরাচালান প্রতিরোধে বড় ভূমিকা রাখছে।