প্রশ্ন ফাঁস হয়নি, প্রশংসায় ভাসছে প্রাথমিক পরিবার

২১ জুন ২০১৯, ০৪:৫৬ PM

তৃতীয় ধাপের পরীক্ষায় ‘কোন অনিয়ম সহ্য করা হবে না’— এমন হুশিয়ারি আগেই উচ্চারণ করেছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন। বলেছিলেন, জেলা প্রশাসন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের যে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব পালন করবেন; তাদের সকলকে গুরুত্ব দিয়ে প্রতিটি পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে। নিয়োগ পরীক্ষায় কোন প্রকার অনিয়ম সহ্য করা হবে না।

প্রতিমন্ত্রীর সেই নির্দেশনা ও ফর্মূলা কাজে এসেছে। শুধু প্রশ্ন ফাঁস নয়, বড় কোন অনিয়ম ছাড়াই অনুষ্ঠিত হয়েছে আজকের নিয়োগ পরীক্ষা। যা নিয়ে প্রশংসায় ভাসছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। সমাাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুক ছাড়াও ব্যক্তিগতভাবে অনেকেই মন্ত্রণালয়ের কঠোরতায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষ্য, কোমলমতি শিশুদের জীবন গড়তে যে পরীক্ষা, সেই পরীক্ষায় অনিয়ম কোনভাবেই কাম্য ছিল না। মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টদের পরিশ্রমের ফলেই এটি সম্ভব হয়েছে বলে অভিমত দেন তারা।

এদিকে সুষ্ঠু ফাঁসমুক্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার নেপথ্যের কারণ জানিয়েছেন প্রাথমিক সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা। বলেছেন, সবার ঘুমহীন অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই এটি সম্ভব হয়েছে। তিনি জানান, ‘প্রশ্ন ছাপা থেকে শুরু করে পরীক্ষার হলে প্রশ্নপত্র পৌঁছানো পর্যন্ত ডিসি মহোদয় অফিসের কোন স্টাফের সংষ্পর্শে আসেনি। শুধু প্রেসের উপরে বর্ণিত অফিসারগণ এবং প্রেসের লোকবল দায়িত্বে ছিল। প্রেসে অবস্থানকালীন ও তা সীলগালা করা পর্যন্ত শুধু ডিসি স্যার এবং ডিপিইও মহোদয়ের ফোন সচল ছিল, বাকীদের মোবাইল সংরক্ষিত ছিল। প্রেসের লোকজন পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের জিম্মায় ছিল।’ এসব কারণেই অনিয়মহীন পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘আজকের পরীক্ষার জন্য ডিসি, দু’জন এডিসি, ৪ জন এক্সকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, ডিপিইও, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, পুলিশ ফোর্স (পুলিশের অবশ্য রোটেশনে কাজ করার সুযোগ রয়েছে) ফাঁসমুক্ত পরীক্ষা নেয়ার জন্য গতকাল বিকাল ৩টা আজকে আজ ৩টার পরও পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করছি (প্রেস টু পরীক্ষা কেন্দ্র টু উত্তরপত্র জমাদান)। এর মধ্যে কারো কোন ঘুম ছিল না।’ তার ভাষ্য, এতো কিছুর মধ্যেও যদি কোন অঘটন ঘটেই যায়, সেটা দুর্ঘটনা হিসেবেই বিবেচিত হওয়া যুক্তিসঙ্গত।

এদিকে প্রশ্ন ফাঁসমুক্ত এমন পরীক্ষা আয়োজনের জন্য মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানিয়ে শরিফুল হাসান লিখেছেন, ‘প্রাইমা‌রির ফাঁস হওয়া প্রশ্নের সঙ্গে মূল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র কী মিলেছে আজকে? কোথাও মিলছে, এমন নি‌শ্চিত তথ্য পাই‌নি। কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ। আগামী শুক্রবারও যেন প্রশ্নপত্র ফাঁস না হয়।....অযোগ্যরা শিক্ষক হলে জা‌তির ভ‌বিষ্যত অন্ধকার। আর আমরা সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ হওয়া ছাড়া প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ করা সম্ভব নয়। কাজেই চল‌ুন ঐক্যবদ্ধ হই।’

শাহাবুর রহমান বলছেন, ‘আজ ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্নের পরীক্ষা হয়েছে; এক জেলার সাথে অন্য জেলার মিল নাই। এটা ভালো উদ্যোগ।’ হুমায়ুন হিমু বলছেন, ‘তৃতীয় ধাপের প্রশ্ন ফাঁস হয়নাই ১০০% সঠিক । পরীক্ষা শুরুর আগ পর্যন্ত ৩টি প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে; যার একটাও মিলেনি। ফাঁস রোধে একেক জেলার প্রশ্ন একেক রকম করা হয়েছে।’

এদিকে প্রশ্নফাঁস দাবি করে যারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন, তাদের সমালোচনাও এসেছে ফেসবুকে।

জানা গেছে, নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথম দফায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের পর পরবর্তী ধাপে প্রশ্ন ফাঁস রোধে চার ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে রয়েছে নিজ জেলার প্রশ্নপত্র ব্যবস্থাপনায় কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হবে না। অভিন্ন প্রশ্নের সেট দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হবে না। ২ বা ৩টি জেলায় একটি অভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হবে। প্রথম ধাপে ২৬টি জেলায় অভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

এছাড়া কেন্দ্রে কোনো পরীক্ষার্থী মুখ বা কান ঢেকে প্রবেশ করতে পারবে না। পরীক্ষার দিন সকল কেন্দ্রের ভেতরে-বাইরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে চিঠি দিয়ে নিরাপত্তা বাড়াতে অনুরোধ করা হয়েছিল। মূলত এসব কারণেই ফাঁসমুক্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রাথমিক অধিদপ্তর সংশ্লিষ্টরা।

এর আগে অবশ্য নিয়োগের প্রথম ধাপে প্রশ্ন ফাঁস চক্রের ৫ ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। অভিযোগ উঠে দ্বিতীয় ধাপেও। ওই ধাপে পটুয়াখালী থেকে ৩৩ জনকে আটক করে পুলিশ। ওই ধাপে পটুয়াখালী থেকে ৩৩ জনকে আটক করে পুলিশ।  আজ তৃতীয় ধাপের পরীক্ষার পর একটি চক্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই একই অভিযোগ উঠালেও যুক্তি-প্রমাণে তা হালে পানি পায়নি।

প্রসঙ্গত, সারাদেশে তিন পার্বত্য জেলা বাদে ৬১ জেলার ২৪ লাখ এক হাজার ৯১৯ জন প্রার্থী প্রায় ১২ হাজার পদের বিপরীতে এ পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। রাজস্ব খাতভুক্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০১৮ লিখিত পরীক্ষার সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রথম ধাপে গত ২৪ মে, দ্বিতীয় ধাপে ৩১ মে ও আজ তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলো। চতুর্থ ধাপের পরীক্ষা আগামী ২৮ জুন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

অনির্দিষ্টকালের বন্ধ সিলেটে সব পেট্রোল পাম্প
  • ০২ এপ্রিল ২০২৬
সংসদ থেকে ওয়াক-আউট, যা বললেন বিরোধীদলীয় নেতা
  • ০২ এপ্রিল ২০২৬
স্বামীর কাছে যাওয়ার আগের দিন ঝুলন্ত অবস্থায় মিলল গৃহবধূর লাশ
  • ০২ এপ্রিল ২০২৬
ব্যক্তি উদ্যোগে মহাসড়ক থেকে ময়লার স্তুপ অপসারণ
  • ০২ এপ্রিল ২০২৬
জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারি অফিস সূচি পরিবর্তনের বিজ্ঞপ্তিটি ভু…
  • ০২ এপ্রিল ২০২৬
দেশের ৯ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়-বৃষ্টির আভাস
  • ০২ এপ্রিল ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence