নারীর গোসলের ভিডিও ধারণের অভিযোগে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৪৮ AM , আপডেট: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৫৬ PM
যুবককে হত্যা

যুবককে হত্যা © সংগৃহীত

গাজীপুরের শ্রীপুরে এক নারী পোশাককর্মীর গোসলের ভিডিও ধারণের অভিযোগে নুরুজ্জামান (৩৫) নামের এক যুবককে সালিস বৈঠকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। 

গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের মুলাইদ গ্রামের রঙিলা বাজার এলাকার একটি বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে শ্রীপুর থানা-পুলিশ। নিহত নুরুজ্জামান ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর উপজেলার সাইল্লাবাউলা গ্রামের মোহাম্মদ জাহের খানের ছেলে এবং পেশায় একজন এক্সকাভেটরচালক ছিলেন। 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালিয়াকৈর সার্কেল) মিরাজুল ইসলাম জানান, ‘নিহত ব্যক্তির মাথায় মারাত্মক আঘাত ও গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনার পরপরই কয়েকজন সালিসি বৈঠকের নামে তাঁকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে মৃত্যু নিশ্চিত করে। মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘর তালাবদ্ধ করে পালিয়ে গেছে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা।’

স্থানীয় বাসিন্দা সানোয়ার হোসেন ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘নিহত এক্সকাভেটরচালক ও নারী পোশাককর্মী পাশাপাশি রুমে থাকতেন। আজ (বৃহস্পতিবার) বিকেলের দিকে ওই নারী বাথরুমে গোসল করার সময় পাশের রুমে থাকা নুরুজ্জামান দেয়ালের ওপর দিয়ে মোবাইলে ভিডিও ধারণ করছিলেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে ওই নারী চিৎকার করলে আশপাশের বাসিন্দারা ছুটে আসেন। ওই নারীর তাঁদের বিষয়টি জানান। পরে ওই এক্সকাভেটরচালককে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একপর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন। পরে বাসায় কেয়ারটেকার ও স্থানীয় কয়েকজন সালিস বৈঠক ডাকেন। সালিস বৈঠক চলাকালে একপর্যায়ে নুরুজ্জামানকে কয়েকজন উত্তেজিত হয়ে মারধর শুরু করেন। এর কিছুক্ষণ পর সবাই ঘর থেকে বের হয়ে যায়। ঘরের ভেতর এক্সকাভেটরচালককে রেখে ঘর তালাবদ্ধ করে চলে যায় সবাই। রাতে এসে অন্য ভাড়াটিয়ারা ঘরের তালা খুলে ঘরে প্রবেশ করে রক্তমাখা মরদেহ দেখতে পায়।’

ভুক্তভোগী ওই পোশাককর্মী বলেন, ‘আমি গোসল করতে প্রবেশের কিছুক্ষণ পর ওয়ালের ওপর মোবাইল ফোন দেখতে পেয়ে গোসলখানা থেকে বের হয়ে ডাকচিৎকার দিই। সঙ্গে সঙ্গে আশপাশের লোকজন জড়ো হলে বিষয়টি খুলে বলি। তাৎক্ষণিকভাবে লোকজন নুরুজ্জামানকে তার ঘরে আটকে ফেলে। এরপরই বাসার কেয়ারটেকারসহ অন্য লোকজন আমাদের সরিয়ে দেয়। পরে কীভাবে সে মারা গেল, কে মারল, কারা মারল এসবের কিছুই আমি জানি না।’ 

অন্যদিকে নিহতের ভাই কামাল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘১৩ বছর ধরে ভাই এই এলাকায় থাকেন। আমি এসে দেখি ভাইকে পিটিয়ে মেরে ফেলছে। এখন পর্যন্ত ভাইয়ের মোবাইল ফোন পাইনি। এর সত্যতা কী, তা-ও জানি না। তিনি অপরাধ করলেই কি একেবারে শেষ করে দেবে। ভাইয়ের মাথা ও গলায় অনেক আঘাতের চিহ্ন। অনেক রক্তক্ষরণ হয়েছে। পুরো বাথরুমে রক্ত। সালিস বিচারের নামে একেবারে মেরে ফেলছে। তারা যদি না মারত, তাহলে তারা পালাল কেন?’

পুলিশ জানায়, যে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করা হয়েছে, সেটি উদ্ধার করা হয়েছে এবং এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম আরও জানান, এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির এমডি হিসেবে যোগ দিলেন মোহা…
  • ০৩ আগস্ট ২০২৬
নারী নির্যাতন মামলায় অভিযুক্ত ববি শিক্ষক শফিকুল ইসলাম সাময়ি…
  • ০৩ আগস্ট ২০২৬
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল-শিবিরের মারামারি, আহত …
  • ০৩ আগস্ট ২০২৬
‎জাবির ২২ শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ৩২ গবেষণাপত্র প্রত্যাহার: তদন্…
  • ০৩ আগস্ট ২০২৬
সমালোচনার পর বিজ্ঞপ্তিতে বক্তব্য বদলাল বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়
  • ০৩ আগস্ট ২০২৬
আইইউবিএটিতে উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিযোগিতা সম্পন্ন
  • ০৩ আগস্ট ২০২৬