প্রতীকী ছবি © টিডিসি সম্পাদিত
সাম্প্রতিক সময়ে সারা দেশে নারীদের ওপর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হামলা, হয়রানি এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অশালীন ও মানহানিকর মন্তব্যের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছে নারী অধিকার আন্দোলন। আজ বুধবার (৫ অক্টোবর) নারী অধিকার আন্দোলনের সভানেত্রী মমতাজ মাননান ও সেক্রেটারি নাজমুন নাহার যৌথ বিবৃতিতে এ মন্তব্য করেন।
বিবৃতিতে তারা বলেন, সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শেহরিন আমিন ভূঁইয়া মোনামী অনলাইনে কুরুচিপূর্ণ ও অশালীন মন্তব্যের শিকার হয়েছেন। একইভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নারী বিভাগের নেতা-কর্মীদের ওপর নোয়াখালী, নওগাঁ ও ফেনীসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা ও হয়রানির ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া তাসনিম জারাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নারী নেত্রীদেরকে লক্ষ্য করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চালানো নগ্ন ও কুরুচিপূর্ণ আচরণের ঘটনা ঘটেছে। এ প্রেক্ষিতে ‘নারী অধিকার আন্দোলন’ গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে। এসব আচরণ কেবল একজন নারীর ব্যক্তিগত মর্যাদাকেই আঘাত করছে না, বরং সমাজে নারীর প্রতি বিদ্বেষ ও বৈষম্যমূলক মনোভাবকে উস্কে দিচ্ছে।
আরও পড়ুন: সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির খসড়া প্রকাশ, তালিকা দেখুন এখানে
নারী অধিকার আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘রাজনৈতিক ভিন্নমত, পেশাগত অবস্থান বা সামাজিক পরিচয়ের কারণে নারীকে টার্গেট করে হামলা, অপমান বা চরিত্রহনন করা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন এবং সভ্য সমাজের জন্য লজ্জাজনক। সংগঠনটি সরকারের কাছে বেশ কয়েকটি দাবিও জানায়।
দাবিগুলো হলো- এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হোক; অনলাইন ও গণমাধ্যমে নারীদের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ প্রচার, ছবি বিকৃতি ও স্লাটশেইমিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক; নারী শিক্ষক, রাজনীতিক, সাংবাদিক ও পেশাজীবীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
আমরা সমাজের সকল নাগরিক, সংগঠন ও গণমাধ্যমকে আহ্বান জানাচ্ছি— নারীকে অবমাননা নয়, সম্মান ও সহমর্মিতার সংস্কৃতি গড়ে তুলুন। সম্মানজনক, নিরাপদ ও ন্যায্য সমাজ প্রতিষ্ঠায় একসঙ্গে কাজ করা এখন সময়ের দাবি বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করেন তারা।