অধ্যক্ষ সিরাজের যৌন নিপীড়ন নিয়ে মুখ খুলছে ছাত্রীরা

১৫ এপ্রিল ২০১৯, ০২:২৩ PM
অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা

অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা © সংগৃহীত

মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাতকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার পর ফেনীর সোনাগাজীর ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে একাধিক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন ছাত্রীর অভিযোগ, ওই অধ্যক্ষ যে কেবল নুসরাতের সঙ্গে এমন করেছে তা না। সে আমাদের অনেকের সঙ্গেই এমন করেছে। এটা একটা অভ্যাস ছিল ওনার।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ৫দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে গত বুধবার রাতে মারা যায় নুসরাত জাহান রাফি। সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা নুসরাতকে তার কক্ষে নিয়ে যৌন নিপীড়ন করেন- এ অভিযোগে গত ২৭ মার্চ ওই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন নুসরাতের মা শিরিন আক্তার।

পরে গত ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষায় অংশ নেয়ার জন্য নুসরাত ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে গেলে দুর্বৃত্তরা মিথ্যা বলে ছাদে নিয়ে যায় নুসরাতকে। সেখানে নুসরাতকে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তার রুখে দেয়া শ্লীলতাহানির অভিযোগ তুলে নিতে বলা হয়। নুসরাত এতে অসম্মতি জানালে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা।

অভিযোগ উঠেছে, ২০১০ সালে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়ন-সহিংসতা রোধে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা প্রণীত হলেও তা ফেনীসহ দেশের অধিকাংশ শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান মানছে না। একারণে দিন দিন বেড়েই চলছে যৌন হয়রানির মতো ঘটনা।

ছাত্রীদের অভিযোগ, নুসরাতসহ আরও শিক্ষার্থী যৌন নিপীড়নের শিকার হলেও মাদ্রাসা কমিটির কাছে তারা অভিযোগ করে কোনও প্রতিকার না পাওয়ায় বেপরোয়া হয় অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা। প্রতিকার না পাওয়ার কারণে অনেকে ভয়ে অভিযোগ করার মতোও আগ্রহ হারিয়ে ফেলতো।

এদিকে মাদ্রাসা পরিচালনা পরিষদ ব্যর্থতার দায়ে বাতিলের অভিযোগ উঠেছে।

ফেনী জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট শাহিনুজ্জামান জানান, এসব কমিটি যদি প্রশাসনের নজরদারিতে থাকতো তাহলে এমন যৌন হয়রানি প্রতিরোধ করতে সহায়ক হতো।

বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির ফেনী জেলা শাখার এ নেতা মনে করেন, অভিযোগ পাওয়ার পরও অভিযুক্ত সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা না নেয়ায় মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি বাতিল করা উচিৎ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাদ্রাসার এক শিক্ষক জানান, গত বছর ৩ অক্টোবর অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা আলিম শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করে। প্রতিকার চেয়ে মেয়েটির বাবা মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (রাজস্ব) কাছে অভিযোগ দিয়েছিলেন। চিঠির অনুলিপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছেও দেওয়া হয়। কিন্তু ওই ঘটনায় কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং যে তিন শিক্ষক অধ্যক্ষের যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন, তাদের কারণ দর্শানোর চিঠি দেয় অধ্যক্ষ। ওই তিন শিক্ষক হলেন— আরবি বিভাগের প্রভাষক আবুল কাশেম এবং জ্যেষ্ঠ শিক্ষক বেলায়েত হোসেন ও হাসান।

প্রভাষক আবুল কাশেম এ বিষয়ে বলেন, মাদ্রাসার ভাবমূর্তি রক্ষার স্বার্থে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকতে অধ্যক্ষের কাছে তার ঘনিষ্ঠ লোকদের মাধ্যমে বার্তা পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু এতে সে ক্ষুব্ধ হয়ে তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর চিঠি দেয়, যার মধ্যে আমিও আছি। ফলে আমরা তার অপকর্মের কথা বলতে সাহস পাই না। ফলে আগের ওই শ্লীলতাহানির ঘটনাটিও চাপা পড়ে যায়। এর ধারাবাহিকতায় সে নুসরাতের সঙ্গে এমন আচরণ করতে পেরেছে।

৪৮তম বিশেষ বিসিএসে ৩২৬৩ চিকিৎসকের যোগদান
  • ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ মাদকাসক্ত ছেলের বিরুদ্ধে
  • ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
জেলা সভাপতিসহ নাগরিক ঐক্যের ২১৭ নেতাকর্মীর বিএনপিতে যোগদান
  • ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কারিগরি ও মাদ্রাসার এমপিও নীতিমালার ওপর মতামত দিল অর্থ বিভাগ
  • ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বর্ণাঢ্য আয়োজনে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠা…
  • ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১২০০ শিক্ষার্থীকে হিজাব দিল ডাকসু
  • ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬