শিক্ষার্থীদের গণস্বাক্ষর কর্মসূচি © টিডিসি ফটো
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) লোক প্রশাসন বিভাগকে সরকারি কলেজসমূহে স্বতন্ত্র বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্তি করে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার চালু ও সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভাগটি চালুর দাবিতে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। মঙ্গলবার বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন পরিবারের ডাকে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগে দিনব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা জানান, দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে লোকপ্রশাসন বিভাগ চালু রয়েছে। প্রতিবছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী এই বিষয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করলেও চাকরি ক্ষেত্রে তেমন কোন পরিকল্পনা নেই। এছাড়াও সরকারি কলেজ পর্যায়ে বিষয়টি না থাকায় বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টিকে কলেজের বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্তির দাবি জানিয়ে আসছেন এই বিভাগের শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে লোকপ্রশাসন বিভাগ চালুর দাবি শিক্ষার্থীদের।
এ বিষয়ে লোক প্রশাসন বিভাগে স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী নিলয় মাহমুদ রুবেল জানান, খুব বড় স্বপ্ন নিয়ে লোকপ্রশাসন বিভাগে ভর্তি হয়েছিলাম। পড়তে গিয়েও অনেক ভালো লাগলো সাবজেক্টটি। যেখানে যাবতীয় সিস্টেম কন্ট্রোল করা শিখা যায়, পরিবার থেকে রাষ্ট্র এবং ম্যানেজমেন্ট লেভেল পর্যন্ত সকল পরিকল্পনা এখানে শেখানো হয়। অলরাউন্ডার সাবজেক্ট এটা। কিন্তু চাকরির বাজারে এই সাবজেক্ট সর্বোচ্চ অবমূল্যায়নের স্বীকার। এখনই সংস্কারের মাধ্যমে লোক প্রশাসনের জন্য কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি করা উচিত। লোক প্রশাসন যতদিন গুরুত্ব না পাবে ততদিন রাষ্ট্র তার প্রকৃত অর্জন থেকে পিছিয়ে থাকবে।
আন্দোলনের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় লোকপ্রশাসন বিভাগের সভাপতি ডঃ জেবউননেছা বলেন, লোকপ্রশাসন বিভাগ নেতৃত্ব তৈরি করে। একটি সংগঠন কিভাবে পরিচালিত হয়, সাংগঠনিক আচরণ কেমন হওয়া দরকার, বাজেট কিভাবে তৈরি করা হয়, পাবলিক পলিসি কিভাবে তৈরি করা হয় ইত্যাদি বিষয়ও লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীরা শিখে থাকে। যদি কলেজ পর্যায়ের ছাত্রছাত্রীরাও এ বিষয়ে অধ্যয়নের সুযোগ পায় তাহলে তারা এ শিক্ষা কাজে লাগিয়ে দেশের অগ্রযাত্রায় আরও বেশি শামিল হতে পারবে বলে আমি মনে করি।
১৯৯৮ সালে ‘বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন পরিষদ’ গঠনের মাধ্যমে লোকপ্রশাসন বিষয়কে কলেজে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছিল। তখন আমি সংগঠনের যুগ্ম -আহবায়ক ছিলাম। কিন্তু অজানা কারণে প্রক্রিয়াটি থেমে যায় বলেও জানান তিনি।