ঢাবির তিন ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে ভর্তা-ভাজির মামলা

১০ নভেম্বর ২০১৮, ১০:০২ AM
বাম থেকে মিজানুর রহমান পিকুল ও আবু সায়েম মোহাম্মদ সানাউল্লাহ

বাম থেকে মিজানুর রহমান পিকুল ও আবু সায়েম মোহাম্মদ সানাউল্লাহ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) তিন ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে চকবাজার থানায় ভাংচুর মামলা দায়ের করেছেন ভর্তা-ভাজি হোটেলের মালিক। খাবার খেয়ে টাকা না দেওয়া, টাকা চাইলে মারধর করা ও দোকান ভাংচুরের অভিযোগ এনে শুক্রবার রাতে এই মামলা দায়ের করেন হোটেলের মালিক মোহাম্মদ আলমগীর। হোটেলটি বাংলাদেশ প্রকৈাশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) মার্কেটে অবস্থিত।

আলমগীর বলেন, ‘এই তিনজন ছাড়াও মামলায় আরও ২৫জন অজ্ঞাত আসামীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে’। আসামীরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৬-২০০৭ সেশনের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান পোপ, এস এম হল শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৪-২০১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবু সায়েম মোহাম্মদ সানাউল্লাহ ও ঢাবি ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কৃত মিজানুর রহমান পিকুল। যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের শিক্ষার্থী এবং এস এম হলের সাবেক সাংগাঠনিক সম্পাদক।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি)।তিনি বলেন, ‘দোকানের মালিক বাদী হয়ে রাতেই এই ঘটনায় একটি মামলা করেছেন। যেখানে তিনজনকে আসামী করা হয়েছে। আমরা এখন বিষয়টা দেখছি।’

তবে অভিযুক্ত সায়েম তার বিরুদ্ধে আনীত এই অভিযোগকে অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি এই বিষয়ে কিছু জানি না।’ এদিকে দোকানের মালিক আলমগীর অভিযোগ করে বলেন, ‘পিকুল, সায়েম এবং পোপ আমার দোকানের নিয়মিত ক্রেতা ছিল। কিন্তু খাবার-সামগ্রী কেনার পর তারা আমাকে কোনদিন পুরো টাকা দিত না। পুরো টাকা চাইলে নিজেদের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল শাখা ছাত্র্রলীগের নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে হুমকি দিত, মারত এবং বলত তোর দোকানের খাবারের স্বাদ নেই। খাবারে ময়লা থাকে, খাবারের দাম বেশি ইত্যাদি।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রতিদিনের মত শুক্রবার দুপুরেও তারা আমার দোকানে খেতে আসে। খাওয়ার পর টাকা চাইলে তারা আমাকে মারধর করে এবং বলে ‘তোর খাবারে ময়লা ছিল তাই টাকা দিব না’। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের জহুরুল হক হলের কয়েকজন ছাত্র আমাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে তাদেরও মারধর করে তারা। পরবর্তীতে সন্ধ্যায় তারা হল থেকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে আসে এবং আমার দোকান ভাংচুর করে’।

এদিকে, ভর্তা-ভাজি হোটেল ভাংচুর করে আসার সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বুয়েটস্থ আরো দুইটি দোকান ভাংচুর করেন। জানা গেছে, এস এম হল শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মো. মুজাহিদ কামাল উদ্দিনের নির্দেশে পলাশী বাজারের এই দোকানগুলো ভাংচুর করা হয়। মুজাহিদ কামাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০১৩-২০১৪ সেশনের শিক্ষার্থী।

কামালের নির্দেশে দোকান ভাংচুরকারীরা হলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী মো. নূরে আবিদ আনাম, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের মো. মাসুদ রানা, পালি ও বুদ্ধিষ্ট বিভাগের আজিজুল হক । তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৫-২০১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও এস এম হলের আবাসিক ছাত্র। এছাড়া সেখানে হলের প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের প্রায় ৩০জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল।

মানসিক ভারসাম্যহীন যুবককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
মাদ্রাসার এমপিওভুক্তর উৎসব ভাতার চেক ছাড়
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
জাবিতে স্টিকারবিহীন যানবাহন প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
সংসদে উপস্থাপিত ‘ভুল তথ্যের’ জবাব দিলেন সদ্যবিদায়ী ৫ কমিশন…
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
ছেলেসহ তিনজনকে কুপিয়ে ছাদ থেকে লাফ অবসরপ্রাপ্ত কনস্টেবলের, …
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
চলমান সংকটের দায়ভার ও পরিণতি মোটেই সহজ হবে না
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬