লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল © সংগৃহীত
লক্ষ্মীপুর পৌর শহরে ঘুমন্ত ছেলেসহ তিনজনকে কুপিয়ে আহত করার পর ভবনের ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে নাছির আহমেদ (৫৫) নামের এক অবসরপ্রাপ্ত ট্রাফিক পুলিশ কনস্টেবলের মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে শহরের বাঞ্চানগর এলাকার পেশকারবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নাছির আহমেদ চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার পূর্ব এখলাছপুর গ্রামের আরশাদ আলীর ছেলে। তিনি গত বছরের আগস্টে ট্রাফিক কনস্টেবল পদ থেকে অবসরে যান এবং সপরিবার গত ৭ বছর ধরে ওই এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।
আহত স্বপন বাঞ্চানগর এলাকার পেশকার বাড়ির মৃত গোলাম রহমানের ছেলে ও অপর আহত নাছির এই বাড়িতে ভাড়া থাকেন, তার বাবার নাম আবদুল মান্নান।
আহত ব্যক্তিদের স্বজন ও স্থানীয় লোকজন জানান, নাসিরের স্ত্রী বড় ছেলেকে নিয়ে বেড়াতে যাওয়ায় বাসায় তিনি ও তার ছোট ছেলে ইমরান আহমেদ (লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র) ছিলেন। স্থানীয়দের দাবি, নাসির গত রাত থেকেই কিছুটা অসুস্থ ছিলেন। সকালে হঠাৎ তিনি দা দিয়ে ঘুমন্ত ইমরানকে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করেন। রক্তাক্ত অবস্থায় ইমরান ঘর থেকে পালানোর চেষ্টা করলে নাছির বিবস্ত্র অবস্থায় তার পেছনে ধাওয়া করেন।
এ সময় প্রতিবেশী মিজানুর রহমান স্বপন এগিয়ে এসে তাকে লুঙ্গি পরিয়ে দিতে গেলে নাছির তাকেও কুপিয়ে জখম করেন। তাদের বাঁচাতে একই বাড়ির ভাড়াটিয়া নাসির নামের আরও একজন এগিয়ে এলে তাকেও কুপিয়ে আহত করেন সাবেক এই কনস্টেবল। এরপর তিনি দৌড়ে তিন তলার ছাদে গিয়ে সেখান থেকে নিচে লাফিয়ে পড়েন।
গুরুতর আহত অবস্থায় ৪ জনকেই উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঘটনার তিন ঘণ্টা পর কনস্টেবল নাছিরের মৃত্যু হয়। আহত স্বপন ও ইমরানকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য আহত নাসিরকে সদর হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে।
সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার অরুপ পাল বলেন, আহত অবস্থায় ৪ জনকে হাসপাতাল আনা হয়। এর মধ্যে কনস্টেবল নাছির চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। আহত অন্যদের মধ্যে ২ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।