বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ © সংগৃহীত
দুবাইয়ে বৈঠকে বসছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। যেখানে আলোচনার বড় একটি অংশজুড়ে থাকবে পরবর্তী ফিউচার ট্যুরস প্রোগ্রাম (এফটিপি)। ২০২৭ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সূচি কেমন হবে, তা নিয়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে চলবে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হচ্ছে আইসিসির ক্রিকেট অপারেশনস কর্মশালা। সেখানে বর্তমান এফটিপির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরের চক্র নিয়ে আলোচনা হবে। বর্তমান এফটিপির মেয়াদ শেষ হবে ২০২৭ সালের মার্চে। গত কয়েক মাসে এ নিয়ে বেশ কিছু অগ্রগতি হলেও এবারের বৈঠকেই পূর্ণাঙ্গ এফটিপি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। আইসিসির এক কর্মকর্তার ভাষায়, এখনো ‘অনেক কিছুই পরিবর্তনশীল’।
তবে সদস্য দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সিরিজগুলোর বড় একটি অংশের বিষয়ে এবারের বৈঠকে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। এ ছাড়া চূড়ান্ত এফটিপি নভেম্বরে বালিতে অনুষ্ঠিতব্য আইসিসির ত্রৈমাসিক সভায় উপস্থাপন করা হতে পারে।
নতুন চক্রে পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচের সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাব পড়তে পারে দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজে। কারণ, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে বছরে নির্দিষ্ট সংখ্যক ম্যাচের সূচি মেলানো ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
টি-টোয়েন্টিকে ক্রিকেটের বিস্তারের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করছে আইসিসি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও প্রতি দুই বছর পরপর অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ হয় চার বছর পরপর।
নামিবিয়া ক্রিকেটের চেয়ারম্যান এবং সম্প্রতি আইসিসি বোর্ডে যুক্ত হওয়া রুডি ভ্যান ভুরেনও মনে করেন, টি-টোয়েন্টির মাধ্যমে সহযোগী (অ্যাসোসিয়েট) দেশগুলোর জন্য আরও সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে ওয়ানডে ক্রিকেট গুরুত্ব হারাচ্ছে। বিশ্বকাপ এখনো ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় মঞ্চ। বরং ওয়ানডেকে আরও অর্থবহ করে তুলতে নতুন কিছু পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে ১৯৯০-এর দশকের মতো ত্রিদেশীয় বা ৪ জাতির সিরিজ ফিরিয়ে আনার ভাবনাও রয়েছে। তবে আগের মতো ওয়ানডে সুপার লিগ ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা নেই।
এফটিপি এখনো চূড়ান্ত না হলেও অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও ভারতের পারস্পরিক গুরুত্বপূর্ণ সিরিজগুলোর বেশির ভাগই অনেক আগে থেকে নির্ধারিত বলে জানিয়েছে ক্রিকইনফো।
অ্যাশেজের প্রচলিত সূচিও বজায় থাকবে। ২০২৭ সালে ইংল্যান্ডে, ২০২৯-৩০ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ায় এবং ২০৩১ সালে আবার ইংল্যান্ডে হবে অ্যাশেজ সিরিজ।
এ ছাড়া ২০২৮ সালের শুরুতে পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে ভারত সফর করবে ইংল্যান্ড। পরের বছর অর্থাৎ ২০২৯ সালে, ভারতকে নিজেদের মাঠে আতিথ্য দেবে ইংল্যান্ড।
২০২৭-৩১ চক্রে আইসিসির জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হবে ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক। ১৯০০ সালের পর প্রথমবার অলিম্পিকে ফিরবে ক্রিকেট।
২০২৮ সালের জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত হবে অলিম্পিক। সেই সময় ইংল্যান্ডের ঘরের মাঠে ক্রিকেট মৌসুম চলবে। ফলে পুরুষদের এক সপ্তাহব্যাপী টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতার সঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের টেস্ট সিরিজের সূচি সাংঘর্ষিক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্য পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর জন্য বরাবরের মতোই বড় চ্যালেঞ্জ হবে ভারত, এরপর অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজগুলো নিজেদের সূচিতে জায়গা দেওয়া।
দক্ষিণ আফ্রিকা যেমন ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের পরপরই ভারতকে আতিথ্য দেওয়ার কথা রয়েছে। ওই বিশ্বকাপের আয়োজক দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়া। টুর্নামেন্টটি হবে ২০২৭ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে।
ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ক্রিকেট না খেলা পাকিস্তানও ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিজেদের সিরিজ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। আগামী গ্রীষ্মে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছে পাকিস্তান।
এই সিরিজটি অবশ্য শুরুতে একমাত্র টেস্ট আয়োজনের আলোচনা থেকেই এসেছিল। পাকিস্তান যদি ২০২৫-২৭ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লিউটিসি) ফাইনালের দৌড়ে থাকত, তাহলে সেই টেস্ট আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। এ ছাড়া ২০২৭-২৮ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ায় তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে পাকিস্তান।
বর্তমানে ডব্লিউটিসির চতুর্থ চক্র চলছে। এর কাঠামো ও ভবিষ্যৎ ফরম্যাট নিয়েও গত এক বছরে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। দুই স্তরের লিগ চালুর একটি প্রস্তাব উঠলেও পরে সেটি বাতিল হয়ে যায়।
চলতি বছরের এপ্রিলে আইসিসির একটি ওয়ার্কিং কমিটির উপস্থাপনায় বর্তমান নয় দলের সঙ্গে জিম্বাবুয়ে, আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ডকে যুক্ত করার সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি ডব্লিউটিসিতে এক টেস্টের সিরিজ অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাবও দেওয়া হয়।
জিম্বাবুয়ে ডব্লিউটিসিতে যুক্ত হতে আগ্রহী বলে জানা গেছে। তবে আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ড এ বিষয়ে আগ্রহী কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
২০২৭-২৯ সালের পরবর্তী চক্রে ডব্লিউটিসির পরিধি বাড়বে কি না, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়। চলতি সপ্তাহের বৈঠক থেকে এ বিষয়ে কিছুটা পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
বৈঠকের দ্বিতীয় দিনে আইসিসির ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম (ডিআরএস)-এর অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা হবে। রিভিউ প্রযুক্তির সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়াতে চায় ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ডিআরএস প্রযুক্তির জন্য আইসিসির অনুমোদিত সরবরাহকারী হিসেবে রয়েছে হক-আই ও ভার্চুয়াল আই।