পাকিস্তান দল © সংগৃহীত
ইংল্যান্ড সফরে পাকিস্তানের ব্যর্থতার চিত্রটা যেন শুধু স্কোরকার্ডেই আটকে নেই, মাঠের বাইরের ঘটনাপ্রবাহেও ফুটে উঠেছে। লিডস ও লর্ডস টেস্টে হেরে সিরিজ হাতছাড়া করার পর একসঙ্গে ৭ ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। বরখাস্ত করা হয়েছে দুই কোচকেও। সব মিলিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেটে চলছে অস্থিরতা। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই দলের সমস্যার জায়গাগুলো চিহ্নিত করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক এবি ডি ভিলিয়ার্স।
ডি ভিলিয়ার্সের চোখে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় ঘাটতিগুলোর একটি হলো ক্রিকেটীয় চরিত্রের অভাব। কঠিন পরিস্থিতিতে লড়াই করার মানসিকতা এবং দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের একটি গ্রুপও এখন প্রয়োজন বলে মনে করছেন তিনি।
নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ডি ভিলিয়ার্স বলেন, ‘আমার সবসময়ই মনে হয়, টেস্ট ক্রিকেট হলো একজন খেলোয়াড়ের চরিত্রের পরীক্ষা। আর সম্ভবত এই মুহূর্তে পাকিস্তানের সেই জিনিসেরই অভাব রয়েছে। কিছুটা দৃঢ় চরিত্র, লড়াই করার মানসিকতা এবং চার-পাঁচজন খেলোয়াড়ের এমন একটি নেতৃত্ব দরকার, যারা সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নেবে।’
‘তারা বলবে, “এসো, আমরাই এখানে নেতৃত্ব দিয়ে অন্যদের পথ দেখাই। দৃষ্টান্ত স্থাপন করি। তরুণদের দেখিয়ে দিই যে টেস্ট, ওয়ানডে কিংবা টি-টোয়েন্টি—যে সংস্করণই হোক না কেন, ম্যাচ জিততে আসলে কী প্রয়োজন।” হয়তো সেই জায়গাতেই তাদের ঘাটতি রয়েছে।’
শুধু ক্রিকেটারদের মানসিকতাই নয়, পাকিস্তান ক্রিকেটের ওপর মহলের অব্যবস্থাপনাকেও সমস্যার বড় কারণ হিসেবে দেখছেন ডি ভিলিয়ার্স। তার মতে, দল নিয়ে অতিরিক্ত রদবদল এবং ঘন ঘন নেতৃত্ব পরিবর্তনও পাকিস্তানের স্থিতিশীলতা নষ্ট করেছে।
এ ক্ষেত্রে বাবর আজমকে দীর্ঘ সময় দলের নেতৃত্বে দেখতে চান প্রোটিয়া কিংবদন্তি। তিনি বলেন, ‘নিঃসন্দেহে ওপর মহলেও কিছুটা অব্যবস্থাপনা ছিল। দলে অনেক রদবদল হয়েছে এবং ঘন ঘন নেতৃত্বের পরিবর্তনও হয়েছে। এখন বাবর ফিরে এসেছে। আশা করি, সে দীর্ঘ সময় খেলার সুযোগ পাবে, ফিট থাকবে এবং আবারও রান করা শুরু করবে, যেমনটা সে করতে পারে বলে আমরা সবাই জানি। আর তার সতীর্থরাও তাকে অনুসরণ করবে।’
পাকিস্তানের ব্যাটিং নিয়েও সন্তুষ্ট নন ডি ভিলিয়ার্স। তার মতে, নিজেদের দুর্বলতা কাটাতে ব্যাটারদের প্রস্তুতিতে আরও কঠোর হতে হবে। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের মতো কন্ডিশনে সাহস ও লড়াইয়ের মানসিকতার অভাবই তাদের বারবার বিপদে ফেলছে।
ডি ভিলিয়ার্স বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের খুব বেশি খেলোয়াড়কে ব্যক্তিগতভাবে কঠোর প্রস্তুতি নিতে দেখি না। তারা এখন ইংল্যান্ড সফরে। বিশেষ করে ব্যাটিং ইউনিটের প্রস্তুতি পর্যাপ্ত নয়। কী বলা যায়? সাহস ও লড়াই—কোনোটিই নেই।’
‘সবসময় যে প্রতিটি বিষয় নান্দনিক হতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। তবে অনেক সময় তারা খুব সহজেই উইকেট দিয়ে আসছে।’
তার মতে, টেস্ট ক্রিকেটে দৃষ্টিনন্দন ব্যাটিংয়ের চেয়ে পরিস্থিতি অনুযায়ী সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং মানসিক দৃঢ়তা দেখানোই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ডি ভিলিয়ার্স আরও বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত আসল ব্যাপার হলো সিদ্ধান্ত নেওয়া। টেস্ট ক্রিকেটে আমি নতুন, তাই মাঠে সবসময়ই যে আমাকে খুব জমকালো বা দৃষ্টিনন্দন ভঙ্গিতে খেলতে দেখা যাবে, তা নয়। কখনও কখনও খেলাটা দেখতে বেশ দৃষ্টিকটু বা অত্যন্ত কঠিন মনে হতে পারে।’
‘আর আমি যদি নিজের অহংবোধের বশবর্তী হয়ে খেলতাম, তবে হয়তো অন্যরকম একজন খেলোয়াড় হতাম। তাই আমার কাছে সবসময়ই মূল বিষয় ছিল, আজকের ম্যাচে আমি কতটা মানসিক দৃঢ়তা বা চরিত্রের জোর দেখাতে পারছি।’