পাকিস্তান ক্রিকেট দল © সংগৃহীত
আর মাত্র পাঁচ দিন পর ভারত ও শ্রীলঙ্কার মাটিতে শুরু হতে যাচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। কিন্তু এত কাছে এসেও পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। যদিও সোমবার সিদ্ধান্ত ঘোষণার কথা ছিল, তবে আজই (১ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চূড়ান্ত অবস্থান জানা যেতে পারে। অবশ্য, বিশ্বকাপে না খেললে বিকল্প পরিকল্পনাও চূড়ান্ত করে রেখেছে পিসিবি।
পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ জানিয়েছে, রোববার সন্ধ্যা ৬টায় পিসিবি সভাপতি মহসিন নাকভি প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। এই বৈঠকেই আইসিসির এই মেগা টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার কথা। এর আগে ‘অনিবার্য কারণে’ বিশ্বকাপের জার্সি উন্মোচন স্থগিত করার কথা জানায় পিসিবি, যা অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে দেয়।
এদিকে, শেষ পর্যন্ত যদি সালমান-বাবরদের বিশ্বকাপে না পাঠানো হয়, সে ক্ষেত্রে বিকল্প টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রস্তুতিও রয়েছে। সূত্র অনুযায়ী, লাহোরে চার দলের একটি টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হবে। যেখানে জাতীয় দল ‘দ্য পাকিস্তান’, শাহিন্স ও অনূর্ধ্ব-১৮ দলের ক্রিকেটারদের ভাগ করে চারটি দল গঠন করা হবে। উদ্দেশ হবে ক্রিকেটারদের ম্যাচ খেলার ধারাবাহিকতা ধরে রাখা। এর আগে একই ধরনের পথে হেঁটেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তারা তিন দলের অংশগ্রহণে ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগ আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে।
এই পুরো নাটকীয়তার সূত্রপাত ঘটে আইপিএলে বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। তাকে নিয়ে ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর বিক্ষোভের পর বিসিসিআইয়ের নির্দেশে কলকাতা নাইট রাইডার্স মুস্তাফিজকে ছেড়ে দেয়। এই ঘটনার পর ভারত সফরে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ। তারা তাদের বিশ্বকাপ ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের দাবি জানালেও আইসিসি তাতে সাড়া দেয়নি। পরবর্তীতে বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে পাকিস্তানও বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি দেয়।
এ নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরেই আলোচনা ও নাটকীয়তা চলছে। শেষ পর্যন্ত বিষয়টির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের ওপর ছেড়ে দিয়েছে পিসিবি। আজকের বৈঠকের পরই সেই সিদ্ধান্ত সামনে আসতে পারে।