বাংলাদেশ ক্রিকেট দল © সংগৃহীত
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে সব ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করার আবেদন শুনতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগ তুলে এ আবেদন করা হলেও এটিকে জনস্বার্থ মামলা হিসেবে গ্রহণযোগ্য মনে করেনি আদালত।
প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় ও বিচারপতি তেজস কারিয়ার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ শুরুতেই আবেদনটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। আদালত স্পষ্ট করে জানায়, বিষয়টি ভারতের পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সঙ্গে জড়িত, যা নির্ধারণ করার ক্ষমতা সরকারের, আদালতের নয়।
বেঞ্চ মন্তব্য করে, আদালতকে অন্য কোনো দেশের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে বলা যায় না, এমনকি ভারতের সীমার বাইরে কোনো ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার এখতিয়ারও আদালতের নেই।
প্রধান বিচারপতি বলেন, সংবিধানের ২২৬ অনুচ্ছেদের আওতায় বিদেশি সরকার, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থা বা অন্য দেশের ক্রিকেট বোর্ডের বিরুদ্ধে কোনো নির্দেশ জারি করা সম্ভব নয়।
আদালত আরও জানায়, আবেদনে আইসিসি, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এবং শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের বিরুদ্ধেও নির্দেশ চাওয়া হয়েছে, যাদের ওপর ভারতীয় আদালতের কোনো আইনগত এখতিয়ার নেই। এ ধরনের আবেদন জনস্বার্থ মামলার অপব্যবহার বলেও মন্তব্য করে বেঞ্চ।
আদালত আবেদনকারীকে সতর্ক করে জানায়, এভাবে মামলা করলে আদালতের সময় নষ্ট হয় এবং প্রয়োজনে বড় অঙ্কের জরিমানাও আরোপ করা হতে পারে।
শুনানিকালে বিসিসিআইয়ের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ভারতের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডকে মামলায় পক্ষ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণভাবে আদালতের এখতিয়ারবহির্ভূত।
আদালত আরও জানায়, বিদেশি ক্রিকেট বোর্ডের বিরুদ্ধে রিট জারি করা যায় না এবং সরকার অন্য দেশের সঙ্গে কীভাবে সম্পর্ক বজায় রাখবে, সে সিদ্ধান্ত আদালত নিতে পারে না। প্রধান বিচারপতি বলেন, কল্পনা বা ব্যক্তিগত ধারণার ভিত্তিতে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা যায় না; এর পেছনে অবশ্যই শক্ত আইনি ভিত্তি থাকতে হয়।
শুনানিতে আবেদনকারী পাকিস্তানের একটি রায়ের উদাহরণ টানার চেষ্টা করলে আদালত তা নাকচ করে দেয়। বেঞ্চ জানায়, ভারতীয় সাংবিধানিক আদালত পাকিস্তানের বিচারব্যবস্থা অনুসরণ করে না।