সিলেট টাইটান্স-রংপুর রাইডার্স ম্যাচ © সংগৃহীত
রংপুর রাইডার্সের বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে বিপিএলের এলিমিনেটর ম্যাচে নাটকীয় এক জয় তুলে নিয়েছে সিলেট টাইটান্স। এই জয়ে ফাইনাল থেকে এখন মাত্র এক ধাপ দূরে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে দলের প্রয়োজনীয় ৬ রান তুলে রংপুরকে হতাশায় ডোবান ক্রিস ওকস।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) হোম অব ক্রিকেটে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১১১ রানের সংগ্রহ পায় রংপুর রাইডার্স। জবাবে ইনিংসের শেষ বলে জয় নিশ্চিত করেছে সিলেট।
লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ইনিংসের শুরুতেই ধাক্কা খায় সিলেট। দলীয় ২ রানে তৌফিক খানকে হারানোর পর পারভেজ হোসেন ইমন কিছুটা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। ১২ বলে ১৮ রান করে ইমন ফিরলে আবার এলোমেলো হয়ে যায় দলটির ব্যাটিং।
পরে আরিফুল ১৮ বলে ১৭ ও আফিফ হোসেন ধ্রুব ৯ বলে মাত্র ৩ রান করে আউট হলে চাপ আরও বাড়ে। কিন্তু অধিনায়ক মিরাজ ও স্যাম বিলিংস ঠান্ডা মাথায় ইনিংস এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
যদিও রংপুরের আঁটসাঁট বোলিংয়ের কারণে সহজে রান আসেনি। মাঝে ২৩ বলে ১৮ রান করে মিরাজ আউট হলে পরিস্থিতি আবার জটিল হয়ে ওঠে। শেষ দুই ওভারে সিলেটের দরকার ছিল ১৫ রান।
১৯তম ওভারে মুস্তাফিজ ৪০ বলে ২৯ রান করা বিলিংসকে ফেরান। ফাহিম আশরাফের করা শেষ ওভারে মঈন আলীও আউট হলে ম্যাচ গড়ায় শেষ বল পর্যন্ত। তখন প্রয়োজন ছিল ৬ রান। শেষ বলে দুর্দান্ত ছক্কা হাঁকিয়ে সিলেটকে নাটকীয় জয় এনে দেন ক্রিস ওকস।
এর আগে, ব্যাটিংয়ে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে শুরুতেই ধাক্কা খায় রংপুর। দলীয় মাত্র ২৯ রানের মধ্যেই সাজঘরে ফেরেন তাওহীদ হৃদয়, ডেভিড মালান, অধিনায়ক লিটন দাস ও কাইল মেয়ার্স। চার ব্যাটারের কেউই দুই অঙ্ক স্পর্শ করতে পারেননি। গত ম্যাচে সেঞ্চুরি করা হৃদয় ১ রান, লিটন ও মালান সমান ৪ করে এবং ৮ রান করেন কাইল মায়ার্স।
এরপর ইনিংস সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন খুশদিল শাহ ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ১৯ বলে ৩০ রান করে খুশদিলের বিদায়ের পর সাবেক অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহানকে সঙ্গে নিয়ে রিয়াদ আবারও ইনিংস গুছিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেন।
তবে সোহানও শেষ পর্যন্ত বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। রিয়াদ ২ চার ও ২ ছক্কায় ২৬ বলে ৩৩ রান করেন, আর সোহান ২৪ বলে ১৮ রান করেন। এতে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় মাত্র ১১১ রান।
অন্যদিকে সিলেটের হয়ে দুর্দান্ত ছিলেন খালেদ আহমেদ। মাত্র ১৫ রান দিয়ে ৪টি উইকেট শিকার করেন তিনি। সমানতালে কার্যকর ছিলেন ক্রিস ওকস, ১৫ রান খরচায় নেন দুটি উইকেট। নাসুম আহমেদও ১২ রানে ২টি উইকেট নিজের ঝুলিতে পোরেন।