অধ্যাপক ড. মো. আকতারুজ্জামান © টিডিসি সম্পাদিত
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট এবং জ্বালানি তেল সংকটে সাশ্রয়ী হতে সরকার সম্প্রতি সব বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পবিত্র রমজান মাসের শেষপ্রান্তে এটা হয়তো ঠিক আছে কিন্তু ধরুন মধ্যপ্রাচ্যে সমস্যা যদি দীর্ঘতর হয়, তবে আমরা একই নীতিতে কতদিন অটল থাকতে পারবো? আবার যেকোনো রাজনৈতিক অস্থিরতায়, তীব্র যানজটে বা দীর্ঘমেয়াদি কোনো দুর্যোগে আমরা কি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখবো? অবশ্যই না। করোনাকালীন সময় থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে আমরা নানামুখী সমস্যার সম্মুখীন হতে পারি। যেমন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালু না থাকলেও শিক্ষক ও কর্মচারীরা হয়তো বেতন ভাতা পাবেন কিন্তু শতাধিক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে হাজারো শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন দেওয়া কঠিন হবে। আরো গুরুতর সমস্যা হচ্ছে শিক্ষার্থীরা তাদের ডিগ্রি সময়মতো শেষ করতে পারবে না, সেশনজটের সমূহ সম্ভাবনা থাকবে। করোনা পরবর্তী সময়ে আমরা যদি ব্লেন্ডেড শিক্ষায় যথাযথ গুরুত্ব দিতাম, ক্রান্তিকাল বা সুদিন যাইহোক একদিনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে হতো না।
আসুন দেখি সেটা কীভাবে সম্ভব হবে? ২০১২-১৭ সালে মোনাশ ও হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামের অংশ হিসাবে আমি বিশ্বের অনেক নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যানভাস, ব্ল্যাকবোর্ড, মুডলসহ বিভিন্ন লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এলএমএস) এর কার্যকারিতা অন্বেষণ করেছি। তার মধ্যে ছিল হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি আমেরিকা, আথাবাস্কা ইউনিভার্সিটি কানাডা, মোনাশ ইউনিভার্সিটি এবং ওপেন ইউনিভার্সিটিস অস্ট্রেলিয়া, ম্যাসি ইউনিভার্সিটি নিউজিল্যান্ড ও ওপেন ইউনিভার্সিটি ইংল্যান্ড। মানসম্পন্ন শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে এলএমএস ছিল তাদের অবিচ্ছেদ্য অংশ, ঠিক কাগজ ও কলমের মতো - যা ছিল কোভিড-১৯ এর আগের ঘটনা। এলএমএস যেকোনো ধরনের শিক্ষাকে (ফেস-টু-ফেস, অনলাইন, ব্লেন্ডেড) সমর্থন করে এবং অনলাইন শিক্ষার সাথে এর বিশেষ কোনো সম্পর্ক নেই। উদাহরণস্বরূপ, করোনার আগে আমরা প্রচলিত শিক্ষায় বেশিরভাগই ক্লাস পরিচালনা করেছি, তারপরে করোনাকালীন সময়ে অনলাইন শিক্ষা চালু করেছি এবং পরে আবার প্রচলিত শিক্ষায় ফিরে গিয়েছি – তিনটি ক্ষেত্রেই যদি এলএমএসকে নিরবচ্ছিন্ন পরিবর্তনের জন্য একটি কমন প্ল্যাটফর্ম হিসাবে ব্যবহার করা যায়, তবে আমরা যেকোনো পরিস্থিতিতে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে পারবো।
তাহলে সমস্যা কোথায়? আবহমান কাল থেকে প্রচলিত মুখস্থ নির্ভর যে শিক্ষা পদ্ধতিতে আমরা অভ্যস্ত তা থেকে বের হতে চাই না। অনেকে মনে করেন অনলাইন ব্লেন্ডেড শিক্ষা কোনো শিক্ষা নয়, এটি জুম বা গুগল মিটে সব শিক্ষার্থীকে জড়ো করে সময় অপচয়। আসলে এটা অনলাইন শিক্ষা নয়, রিমোট লার্নিং। নিরবচ্ছিন্ন শিক্ষাব্যবস্থা চালু রাখতে সমস্যা অনলাইন ব্লেন্ডেড শিক্ষার নয়, আমাদের মানসিকতার। একটি ঘটনা শেয়ার করি - ২০১৭ সালে অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে ডিজিটাল শিক্ষা বিষয়ক উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও ব্যাবহারিক কাজে দক্ষতা অর্জন শেষে দেশে ফিরে গাজীপুরে অবস্থিত ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতে (আন্তর্জাতিক) যোগ দিই। ওখানে আইইউটি-অনলাইন নামে প্লাটফর্মে চালু করি। এরপর আসি গাজীপুর হাইটেক পার্কের পাশে ডিজিটাল (এখন ফ্রন্টিয়ার টেক) ইউনিভার্সিটিতে (পাবলিক)। সেখানে ইনস্টিটিউট ফর অনলাইন ডিসটেন্স লার্নিং চালু করি এবং এডটেক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে দেশে প্রথমবারের মতো বিএসসি চালু করি যা অদূর ভবিষ্যতে সারাদেশের ডিজিটাল শিক্ষাকে উন্নত করতে সাহায্য করবে। এরপর সুনামধন্য প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি ড্যাফোডিলে ব্লেন্ডেড লার্নিং সেন্টারের পরিচালক পদে যোগ দিই এবং জাতীয় ব্লেন্ডেড শিক্ষানীতি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করি যা করোনাকালীন শিক্ষাব্যবস্থাকে অনেকাংশে নিরবচ্ছিন্ন রাখতে সাহায্য করে। চলার পথে তীব্র বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হয়েছি বিশেষ করে সিনিয়র শিক্ষক এবং প্রশাসকদের কাছ থেকে। প্রতিদিন শুনেছি আমি ব্লেন্ডেড শিক্ষার সংজ্ঞা জানি কিনা? এসব আজেবাজে অনলাইন ব্লেন্ডেড শিক্ষা দিয়ে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস হবে, এর কোয়ালিটি কী ইত্যাদি।
অনলাইন ব্লেন্ডেড শিক্ষা মূলত ফ্লেক্সিবল। আগে থেকে শিক্ষক তার কন্টেন্ট, মূল্যায়ন পদ্ধতি, আনুষঙ্গিক বিষয়াদি সুন্দরভাবে এলএমএস-এ শিক্ষার্থীদের উপযোগী করে সাজিয়ে রাখেন। শিক্ষক প্রয়োজন মনে করলে লাইভ ক্লাস করাতে পারেন। ৪০°সে এর অধিক তাপমাত্রায় বা প্রচণ্ড ঝড়বৃষ্টির দিনে শিক্ষার্থীদের লাইভ ক্লাসে (অনলাইন বা অফলাইন) না এনে কন্টেন্টগুলো ছোট ছোট মজার ভিডিও আকারে এলএমএস এ লিঙ্ক করে দেওয়া যায়, ফলে সুবিধামতো সময়ে শিক্ষার্থীরা সেটা দেখে শিখতে পারে, নিম্নগতির ইন্টারনেটে অতটা সমস্যা করে না। শিক্ষক পরবর্তীতে সেটা লাইভ ক্লাসে বিস্তারিত আলোচনা, প্রশ্নোত্তর, বা দলীয় প্রকল্পের মাধ্যমে আরো সুন্দরভাবে শেখাতে পারেন। অনলাইন ব্লেন্ডেড শিক্ষায় যদি কোয়ালিটি নাই থাকে তাহলে বিশ্বের সেরা ইউনিভার্সিটিগুলো কী না বুঝেই সেদিকে গেছে। অস্ট্রেলিয়ায় আপনি একটা ইউনিভার্সিটি দেখাতে পারবেন না যেখানে অনলাইন শিক্ষা নেই আর ব্লেন্ডেড শিক্ষা তো ২০-২৫ আগে থেকেই চালু রয়েছে। সুদীর্ঘ বিশ বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে পারি এ ধরনের শিক্ষায় প্রচলিত শিক্ষার চেয়ে আরো ভালোভাবে কোয়ালিটি নিশ্চিত করা যায়। আমাদের মানসিকতায় যে প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা ঢুকে বসে আছে, সেখান থেকে আনলার্ন করতে পারছি না এটাই সমস্যা।
ব্লেন্ডেড লার্নিং এর অর্থ হল ফেস-টু-ফেস এবং অনলাইন কার্যকলাপের উদ্দেশ্যমূলক সংমিশ্রণ যেমন তিন দিন ফেস-টু-ফেস এবং দুই দিন অনলাইনে সমন্বিত ক্লাস পরিচালনা করা। তবে প্রচলিত ক্লাসে স্মার্টবোর্ড ব্যবহার করা বা অনলাইন ক্লাসে জ্যামবোর্ড বা একটি লেকচার ক্লাসের পর ফিল্ড ভিজিটের মতো কাজগুলো সাধারণত আজকের প্রেক্ষাপটে ব্লেন্ডেড শিক্ষা নয় - এটিতে অনসাইট এবং অনলাইন উভয় উপাদান থাকা উচিত। আমাদের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে এবং ইন্টারনেটের স্বল্প গতির মধ্যে কোভিড-পরবর্তী শিক্ষাব্যবস্থা অনলাইন বা ফেস-টু-ফেস নয় বরং ব্লেন্ডেড হওয়া উচিত। যদি ক্লাসের সময়সূচি ব্লেন্ডেড হয় (যেমন ৩দিন অনসাইট এবং ২দিন অনলাইন), শিক্ষকরা এই সময়টিকে গবেষণা, উদ্ভাবন, ইন্ডাস্ট্রি এনগেজমেন্ট, কন্টেন্ট তৈরির জন্য ব্যবহার করতে পারেন। অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা নিজেদের গবেষণায় নিয়োজিত করতে পারে, বাড়িতে পড়াশোনা অথবা বাইরে খণ্ডকালীন কাজে যোগ দিতে পারে।
ব্লেন্ডেড শিক্ষা বাস্তবায়ন করতে হলে মূলত তিনটি জিনিস দরকার – সংশ্লিষ্ট সেন্টার, অল্প কিছু জনবল এবং ন্যূনতম ফ্যাসিলিটি (সফ্টওয়্যার-হার্ডওয়্যার)। দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি করে ব্লেন্ডেড লার্নিং সেন্টার চালু করতে হবে। এজন্য কোনো বড় বাজেটের প্রয়োজন হবে না, বড় বড় প্রজেক্ট হাতে নিতে হবে না, অভ্যন্তরীণ কাঠামো একটু পুনর্বিন্যাস করলে সেটা সম্ভব হতে পারে। এখন দেশের প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়ে কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল আছে। সেটাকে ব্লেন্ডেড লার্নিং সেন্টারের অধীনে তার সাথে একীভূত করে আরেকটা টিচিং-লার্নিং সেল করা যেতে পারে যা এভিডেন্সড বেইজড লার্নিং ডিজাইন, টেকনোলজি ইন্টিগ্রেশন এবং সংশ্লিষ্ট এনালিটিক্স তৈরিতে কাজ করতে পারে। অন্যদিকে কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল তাদের বর্তমান কাজের পাশাপাশি প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সার্বিক টিচিং-লার্নিং কোয়ালিটি নিরূপণে কাজ করতে পারে। এটা একটা প্রস্তাবনা, এ ধরনের অনেক প্রস্তাবনা ভেবে দেখা যেতে পারে।
প্রত্যেকটি ব্লেন্ডেড লার্নিং সেন্টারে কয়েকজন লার্নিং ডিজাইনার এবং টেকনোলজিস্ট নিয়োগ দিতে হবে। উন্নত দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে এটা খুবই কমন বিষয় কিন্তু আমরা এগুলোর সাথে তেমন পরিচিত নই। আইইউটি এবং ফ্রন্টিয়ার টেক ইউনিভার্সিটিতে কয়েকজনকে এই পদে নিয়োগ দিতে পেরেছিলাম অনেকটা যুদ্ধ করে। লার্নিং ডিজাইনারের কাজ হল শিক্ষকদের সাথে বসে ভালো কন্টেন্ট ও অ্যাসেসমেন্ট স্ট্র্যাটেজি তৈরি করা। সেক্ষেত্রে কন্টেন্ট অনেক উন্নত হবে এবং অথেনটিক লার্নিং নিশ্চিত হবে। যেমন ধরেন একজন শিক্ষক ‘রাসায়নিক পরিবর্তন’ এর সংজ্ঞা বলবেন, এটাকে একজন লার্নিং ডিজাইনার ফ্রেয়ার মডেল ব্যবহার করে গ্রাফিক্যালি উপস্থাপন করতে পারবেন। তারা কারিকুলাম থেকে ইউনিট প্ল্যান, লেসন প্ল্যান এবং সেখান থেকে কগনিটিভ লোড থিয়োরি অনুসারে ভালো অডিও-ভিজ্যুয়াল কন্টেন্ট তৈরি করতে পারবেন। অন্যদিক লার্নিং টেকনোলজিস্ট কন্টেন্টগুলোকে বিভিন্ন পেডাগজিক্যাল মডেল অনুসারে এলএমএস-এ সাজাতে পারবেন। এছাড়া তারা নতুন অ্যাপস, মডিউল তৈরি ও সিস্টেম রক্ষণাবেক্ষণে কাজ করবেন, সাথে সাথে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের এলএমএসভিত্তিক যেকোনো সহায়তা প্রদান করবেন। এর ফলে শিক্ষকরা আরো বেশি সময় দিতে পারবেন টিচিং-লার্নিং, গবেষণা, দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রজেক্ট ফান্ডিং পেতে, যা তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাংকিং উন্নত করতে সাহায্য করবে।
এছাড়া ব্লেন্ডেড লার্নিং সেন্টারে নূন্যতম সফটওয়্যার-হার্ডওয়্যার লাগবে। সফটওয়্যারগুলোর লাইসেন্স কেনা যেতে পারে অথবা নিজেরা ডেভেলপ করা যেতে পারে। তবে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্যে বড় বড় সফটওয়্যার কোম্পানী বিশেষ ছাড় দেয় যখন অনেক বেশিসংখ্যক গ্রাহক থাকে। ইউজিসি এভাবে প্লেজারিজম এবং লাইব্রেরি সফটওয়্যারের লাইসেন্স কিনে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে দিয়ে থাকে, ফলে খরচ অনেক কম পড়ে এবং রক্ষণাবেক্ষণের কোনো ঝামেলা নেই। ঠিক একইভাবে হার্ডওয়্যারের ক্ষেত্রে অযথা অধিকসংখ্যক ডিভাইস বা সার্ভার না কিনে ক্লাউড ভিত্তিক সল্যুউশন গ্রহণ করা যেতে পারে। আবার নিজেরা এলএমএস তৈরি করে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অবস্থিত হাইটেক পার্কের ডেটাসেন্টারে ডেপলয় করে ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রথমে একটু বেশি খরচ হলেও দীর্ঘমেয়াদি দেশকে প্রযুক্তিগত ও আর্থিকভাবে সাহায্য করবে।
অনলাইন ডিজিটাল শিক্ষা এখন শুধু একটি অপশন নয়, বরং সারাবিশ্ব জুড়ে একটি প্রয়োজনে পরিণত হয়েছে। এজন্যেই বিশ্বের বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের পরিকল্পনায় পরিবর্তন এনেছে এবং বিভিন্ন ধরনের শিক্ষা প্রোগ্রাম মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছে ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে। বাংলাদেশ ডিজিটালি কিছু সাফল্য অর্জন করলেও অনলাইন ডিজিটাল শিক্ষায় এর উন্নতি তেমন আশানুরূপ নয়। উন্নত দেশগুলোতে শিক্ষা অত্যন্ত ব্যয়বহুল, আমরা তুলনামূলক কম খরচে ভালো মানের শিক্ষা অফার করতে পারবো। ২০২৬ সালের মধ্যে পুরো বিশ্বে এই সেক্টরের বাজার মূল্য ধরা হয়েছে ৩৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যদি এই সেক্টরটিকে গুরুত্ব অনুধাবন করে সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়, তাহলে দক্ষিণ এশিয়া, আরব, আফ্রিকাসহ বিভিন্ন উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশে বাংলাদেশের জন্যে বিরাট একটা সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হতে পারে, যা রেমিট্যান্স এবং গার্মেন্টসের পরে দেশের সর্বোচ্চ আয়ের উৎস হতে পারে এবং প্রচুর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে। আমাদের নীতিনির্ধারকদের অবিলম্বে অনলাইন ডিজিটাল শিক্ষা পলিসি নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে এবং সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বৈশ্বিক বা ট্রান্সন্যাশনাল মার্কেটে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে একটি ব্র্যান্ডে পরিণত করতে পারে তার জন্যে যথোপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
লেখক: শিক্ষাক্রম, কারিগরি ও ডিজিটাল শিক্ষা এবং সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, মেলবোর্ন, অস্ট্রেলিয়া