বিপিএলের লোগো © সংগৃহীত
হ্যাটট্রিক পরাজয়ের পর অবশেষে জয়ের দেখা পেল রংপুর রাইডার্স। ঢাকা ক্যাপিটালসকে ১১ রানের ব্যবধানে পরাজিত করেছে রংপুর। এই জয়ে টুর্নামেন্টের প্লে-অফে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে তিস্তা পাড়ের দলটি। অন্যদিকে হারের সঙ্গে সঙ্গেই চলতি আসর থেকে বিদায় নিতে হলো রাজধানীর দলটিকে।
এই ম্যাচের ফলাফলের মধ্য দিয়ে প্লে-অফের চার দলের ছবিও স্পষ্ট হয়েছে। এবারের বিপিএলে শেষ চারে জায়গা করে নিলো রাজশাহী ওয়ারিয়র্স, চট্টগ্রাম রয়্যালস, সিলেট টাইটান্স ও রংপুর রাইডার্স।
লক্ষ্য তাড়ায় নেমে উসমান খানের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ভালো শুরু পায় ঢাকা ক্যাপিটালস। তবে গোল্ডেন ডাক মারেন অন্য ওপেনার আব্দুল্লাহ আল মামুন। ১৮ বলে ৩১ রান করে ফেরেন উসমান, এরপর দ্রুত সাইফ হাসান ও সাব্বির রহমানও আউট হন। পাওয়ারপ্লেতে ৩ উইকেটে ৫৩ রান তোলে ঢাকা।
মাঝের ওভারে মিঠুন ও শামীম জুটি গড়লেও গতি বাড়াতে পারেননি। শেষদিকে সাইফউদ্দিন ও ইমাদ ওয়াসিম লড়াইয়ে ফেরালেও লক্ষ্য ছোঁয়া সম্ভব হয়নি। সাইফউদ্দিন ৩০ বলে ৫৮ রান করে অপরাজিত থাকেন। শেষ পর্যন্ত ১৭০ রানে থামে ঢাকা। রংপুরের হয়ে নাহিদ রানা ৩ উইকেট নেন, ফাহিম আশরাফ নেন ২টি। ১১ রানে ম্যাচ জেতে রংপুর রাইডার্স।
এর আগে, রংপুরের ইনিংসের মূল ভরকেন্দ্র ছিলেন ডেভিড মালান ও তাওহীদ হৃদয়। যদিও শুরুটা ছিল বেশ মন্থর। প্রথম চার ওভারে দুজন মিলে তুলতে পেরেছিলেন মাত্র ১৯ রান। তবে পঞ্চম ওভার থেকেই গিয়ার বদলান এই দুই ব্যাটার।
হাত খুলে খেলতে শুরু করে দ্রুত রান তোলেন মালান ও হৃদয়। ইংলিশ ওপেনার মালান দারুণ ব্যাটিংয়ে ৩৫ বলেই তুলে নেন হাফ সেঞ্চুরি। অন্যপ্রান্তে তাকে দারুণ সঙ্গ দেন হৃদয়। তাদের দুজনের ব্যাটেই বিনা উইকেটে ১০০ রান পার করে রংপুর। সেঞ্চুরির পথে এগোচ্ছিলেন মালান, কিন্তু তাসকিন আহমেদের বলে স্কুপ শট খেলতে গিয়ে বোল্ড হন তিনি। ৪৬ বলে ৭৮ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলে ফিরলে ভাঙে তাদের ১২৬ রানের উদ্বোধনী জুটি। বিপিএলে রংপুরের হয়ে প্রথম উইকেটে এটি সর্বোচ্চ রানের জুটি, যেখানে এর আগে স্টিভেন টেলর ও সৌম্য সরকার করেছিলেন ১২৪ রান।
এর কিছুক্ষণ পরই হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তাওহীদ হৃদয়। ৪০ বলেই পঞ্চাশ ছোঁয়া ডানহাতি এই ব্যাটার অবশ্য তার ইনিংসের আগেই কয়েকবার জীবন পান। সাইফউদ্দিন ও উসমানের হাতে তিনবার ক্যাচ উঠলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি তারা। শেষ পর্যন্ত পঞ্চাশের পর মারুফ মৃধার বলে ছক্কা মারতে গিয়ে সীমানায় ইমাদ ওয়াসিমের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন হৃদয়। ৪৬ বলে ৬২ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।
তিন নম্বরে নেমে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন কাইল মেয়ার্স। ক্যারিবীয় অলরাউন্ডার ১৬ বলে ২৪ রান করে শেষ ওভারে আউট হলেও তাতে রংপুরের স্কোরে ভালোই গতি আসে। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৮১ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় রংপুর রাইডার্স।