‘ম্যাচ জেতানো মানুষ হতে চাই, বাংলাদেশে অতিথিপরায়ণতাও দারুণ’

০১ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:০২ AM , আপডেট: ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:১২ AM
ইথান ব্রুকস

ইথান ব্রুকস © টিডিসি ফটো

ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটে জনপ্রিয় এক মুখ ইথান ব্রুকস। ২০২৫ সালে ঘরোয়া মৌসুমে ওর্সেস্টারশায়ারের হয়ে একের পর এক দেখিয়েছেন এই অলরাউন্ডার। গ্রীষ্মের মাঝামাঝিতে নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শতকও ছুঁয়ে ফেলেছেন, খেলেন ১৪০ রানের চমকপ্রদ এক ইনিংস। মৌসুমে শেষদিকে এসেও নিজের পারফরম্যান্সের জিইয়ে রেখেছিলেন; তাই-তো তাকে ‘বিশেষ প্রতিভা’ বলে আখ্যায়িত করেন সহযোদ্ধা জেক লিববি।

এবার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) খেলতে এসেছেন তিনি। সিলেট টাইটান্সের হয়ে এরই মধ্যে দুটি ম্যাচও মাতিয়েছেন। যেখানে স্বাগতিকদের একমাত্র জয়ে এই অলরাউন্ডারের অবদানই সবচেয়ে বেশি। 

‘আন্তরিকতা, সহানুভূতি এবং অতিথিপরায়ণতা। খাবারও দারুণ। আর মানুষজন সত্যিই খুব ভালো, তাদের কারণে আমার প্রথম সপ্তাহ খুব বিশেষ হয়ে উঠেছিল।’

সিলেটে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের ক্রীড়া প্রতিবেদক মোহাম্মদ রনি খাঁ’র সঙ্গে একান্তে আলাপ করেন এই অলরাউন্ডার। যেখানে নিজের ক্যারিয়ার, পড়াশোনা, ক্রিকেটে বেড়ে ওঠাসহ ইংলিশদের জার্সিতে বিশ্ব মাতানোর স্বপ্নের আভাসও দিয়েছেন।

প্রায় দেড় বছর ধরে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে খেলছেন, এরপরও পাঁচ বছর আগে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে খেলেছেন। ক্রিকেটে আসলে যাত্রাটা কীভাবে শুরু হলো আপনার… 

ইথান ব্রুকস: আসলে পরিবার থেকেই শুরু হয়েছিল। খুব ছোটবেলা থেকেই আমি ক্রিকেটে ভালোবাসা অনুভব করতাম। বাবার সঙ্গে খেলতে গিয়ে নেটসে গিয়ে সময় কাটাতাম। বাবা-ভাইদের মাধ্যমেই শুরু হয়েছিল।

ইংল্যান্ডে সাধারণত অনেকেই শখের বশে ক্রিকেট খেলে থাকে, আপনি ঠিক কখন ক্রিকেটকে পেশা হিসেবে নেওয়ার সিদ্ধান্তটা নিলেন?

ইথান ব্রুকস: অনেকটা নিজে থেকেই সিদ্ধান্তটা হয়ে গেছে। একটি কন্ট্রাক্ট দেওয়া হয়েছিল। তখন সবে ১৮-তে পা রেখেছি। এরপর থেকেই ক্রিকেট খেলতে খুব ভালোবাসি।

কার অনুপ্রেরণায় ক্রিকেটে আসলেন? 

ইথান ব্রুকস: বাবা ও ভাইয়েরা। তাদের সঙ্গে বাগানে ক্রিকেট খেলতে খেলতে খুব অল্প বয়সেই ভালোবাসা অনুভব করতাম। এরপর টিভিতে খেলা দেখে কিছু আইডলও তৈরি হয়। ফ্রেডি ফ্লিন্টফকে খুব পছন্দ করতাম। তাদের মতো হতে চেষ্টা করতাম এবং দেশের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য প্রস্তুত করতে চাইতাম।

ইথান

ইংল্যান্ডে অনেক তারকা ক্রিকেটার আছেন, অনেকেই বিশ্ব ক্রিকেটে রাজত্ব করেছেন। কোন ক্রিকেটারকে অনুসরণ?

ইথান ব্রুকস: ছোটবেলায় অ্যান্ড্রু ফ্লিন্টফকে অনেক অনুসরণ করতাম। একটু বড় হয়ে ক্রিস ওকসকে। তার সঙ্গে একই ক্রিকেট ক্লাবে ছিলাম।

বিপিএল আপনার প্রথম ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। অনুভূতি কেমন?

ইথান ব্রুকস: দারুণ অভিজ্ঞতা। ভিন্ন চ্যালেঞ্জ, ভিন্ন কন্ডিশন, এমনকি এমন বোলারদের মুখোমুখি হতে হয়, যাদের সঙ্গে আগে কখনোই দেখা হয়নি। যত বেশি সম্ভব শিখছি, কোচদের কাছ থেকে নতুন কিছু জানছি। আর ভক্তরাও অসাধারণ, তাদের এনার্জি দারুণ।

বাংলাদেশের কোনো ক্রিকেটারকে কি পছন্দ করেন, এর পেছনে কারণ কী?

ইথান ব্রুকস: সাকিব আল হাসান, তিনি অবশ্যই অনেক বড় খেলোয়াড়। ইংল্যান্ডে অনেক ইতিহাস তৈরি করেছেন তিনি, আমার হোম কাউন্টিতে খেলেছেন। তাকে অনেক অনুসরণ করেছি। তবে, বাংলাদেশ ক্রিকেটই অসাধারণ।

ইংল্যান্ড ও বাংলাদেশের কন্ডিশনের পার্থক্য কেমন। কী কী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছেন?

ইথান ব্রুকস: অনেক পার্থক্য। বিশেষ করে পিচ। ইংল্যান্ডে বাউন্স বেশি, পিচে বেশ গতি থাকে। কিন্তু এখানে অনেক বেশি স্পিন হয়, বাউন্সও থাকে। তবে আমিও খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা করছি।

সৌন্দর্যে ভরপুর সিলেট কেমন উপভোগ করছেন?

ইথান ব্রুকস: অবিশ্বাস্য, দারুণ। বিশেষ করে অনেক দর্শক। সর্বশেষ ম্যাচে ব্যাটিং করার সময় এত জোরে শব্দ করছিল, মনে হচ্ছিল এটাই সবচেয়ে জোরালো দর্শক, যাদের সামনে খেলছি।

সেদিন রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে মাত্র ১ উইকেটে জিতেছিল সিলেট। এই জয়ে আপনার অবদানও বেশ…। ভাবতে কেমন লাগে?

ইথান ব্রুকস: খুবই উত্তেজনাপূর্ণ। শেষ ওভারে ব্যাটিং করছিলাম, তখন যা শব্দ শুনেছি, তা জীবনে প্রথম! ভক্তরা দারুণ। তারা খেলায় অনেক এনার্জি যোগ করেছে। ম্যাচটাও টানটান ছিল, কিন্তু জয়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল, সবাই খুশি। তবে ম্যাচ আমি জেতাইনি, কারণ জয়ের রানটি হিট করিনি, আউট হয়ে গিয়েছিলাম। তা-ই জেতাইনি। যে কারণে রাগান্বিত হয়ে গিয়েছিলাম। কারণ, আমি সেই মানুষই হতে চেয়েছিলাম যে ম্যাচ জিতিয়ে ভক্তদের উদযাপনের কারণ হবে। তবে আরও ভালো করতে চাই, যাতে আমি দলের জন্য ম্যাচ জয় করতে পারি আর অনেক জয়ের নায়ক হতে পারি।

TDC 825x465 (6)

বাংলাদেশে এসে এখানকার কোন সাংস্কৃতিক দিকটি সবচেয়ে ভালো লাগছে?

ইথান ব্রুকস: আন্তরিকতা, সহানুভূতি এবং অতিথিপরায়ণতা। খাবারও দারুণ। আর মানুষজন সত্যিই খুব ভালো, তাদের কারণে আমার প্রথম সপ্তাহ খুব বিশেষ হয়ে উঠেছিল।

কি কি খেয়েছেন, কেমন লেগেছে?

ইথান ব্রুকস: ক’দিন আগে ডাল এবং মাটন খেয়েছি। মাটন খুবই ভালো, সুস্বাদু। উপভোগ করছি।

ক্রিকেটের বাইরে অবসর কীভাবে কাটান?

ইথান ব্রুকস: গলফ খেলতে ভালোবাসি। আর পড়াশোনাও করছি, স্পোর্টস সায়েন্সে ডিগ্রি করছি। প্রায় শেষের দিকেই, মাত্র ৪ মাস বাকি। এ ছাড়া পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাই, প্রেমিকা এবং পোষা কুকুরের সঙ্গে সময় পার করি। কফি খাই, ভালো ডিনার খাই। আমি সাদাসিধে মানুষই।

জেসন রয়, উইল জ্যাকস, জোফরা আর্চাররা শুরুর দিকে বিপিএলে খেলেছিলেন; পরে জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছিলেন। ক্রমে বিশ্বজুড়ে খ্যাতিও পেয়েছেন। আপনার পরিকল্পনা কেমন?

ইথান ব্রুকস: হ্যাঁ, অনেকেই বলেছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সুযোগ পাওয়ার পথ হতে পারে এটি। তবে এটা যথেষ্ট মনে করি না, যদি যথেষ্ট ভালো হন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলবেন। চেষ্টা করতে চাই, খেলাটা উপভোগ করতে চাই। ভালো খেললেই তা ভবিষ্যতে আমাকে সাহায্য করতে পারে।

আগামী ২-৩ বছরে নিজেকে কোথায় দেখতে চান? ইংল্যান্ডের হয়ে খেলার স্বপ্ন কি না…

ইথান ব্রুকস: যেমনটা বললাম, আমি ইংল্যান্ডের হয়ে খেলার জন্য চেষ্টা করব না। সিলেটে খেলতে এসেছি, সিলেটের জন্য ম্যাচ জেতাতে চাই। খুব বেশি ভবিষ্যতের কথা ভাবি না, প্রতিটি ম্যাচ উপভোগ করি। কারণ, ক্রিকেটের মাঠে আমি সবসময় হাসি মুখে থাকি।

টেকনাফে মানবপাচারকারীদের গোপন আস্তানা ধ্বংস করল যৌথবাহিনী
  • ০৮ নভেম্বর ২০২৬
শেকৃবির গেটে ককটেল বিস্ফোরণ
  • ০৮ নভেম্বর ২০২৬
বনানীর সেতু ভবনের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ
  • ০৮ নভেম্বর ২০২৬
কুয়াকাটায় ঘুরতে গিয়ে প্রাণ হারালেন সলিমুল্লাহ মেডিকেলের চিক…
  • ০৮ নভেম্বর ২০২৬
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে হলে গ্যাস লিকেজ থেকে আগুন, আহত শিক্ষার…
  • ০৭ নভেম্বর ২০২৬
‎জাবিতে শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে,…
  • ০৭ নভেম্বর ২০২৬
×
NORTH SOUTH
UNIVERSITY Center of Excellence
UNDERGRADUATE
ADMISSION
SPRING 2027
APPLY NOW
APPLICATION DEADLINE
NOVEMBER 22, 2026
ADMISSION TEST
NOVEMBER 28, 2026
WORLD RANKINGS 2027#801-1000
WORLD RANKINGS 2027#901-950