দুই ওপেনারই দারুণ ব্যাটিং করেছেন © ফাইল ছবি
দুই ওপেনার যেভাবে শুরু করেছিলেন, তাতে মনে হচ্ছিল ৩৫০ রানও বাংলাদেশের জন্য মামুলি ব্যাপার! কিন্তু দুই ওপেনারের বিদায়ে বাকিরা সেভাবে দায়িত্ব নিতে পারেননি। এতে তিন শ' রানও ছোঁয়া হয়নি স্বাগতিকদের।
যদিও ইনিংসের শেষ বলে বাউন্ডারি মারলেই ৩০০ রানে পৌঁছাত বাংলাদেশ, তবে অগাস্তের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন মিরাজ। এতে বাংলাদেশের স্কোর ২৯৬ রানে থেমে যায়।
অবশ্য, ২০১৮ সালের পর মিরপুর শের-ই বাংলায় ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ইনিংস এটি। ২০১৮ সালের ১৯ জানুয়ারি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩২০ রান করার পর ৭ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ছিল ২৭১ রান।
বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৯৬ রানের সংগ্রহ পেয়েছে বাংলাদেশ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৯১ রান করেন সৌম্য সরকার।
স্পিনারদের জন্য ভালো উইকেট বিবেচিত হলেও দুর্দান্ত শুরু পেয়েছিলেন টাইগার দুই ওপেনার। মাত্র ৪৬ বলে ৫০ রান তুলে নেয় উদ্বোধনী জুটি। অবশ্য, খ্যারি পিয়েরের এলবিডব্লিউ আবেদন নিয়ে সাইফ হাসান রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান।
দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দশম ওভারে পেসার জাস্টিন গ্রেভসের ওভারে ৪৮ বলেই ব্যক্তিগত অর্ধশতক পূরণ করেন সৌম্য, ওয়ানডেতে তার ১৪তম ফিফটি এটি। সাইফও ৪৪ বলে প্রথম ফিফটি তুলে নেন।
কিন্তু ২৬তম ওভারে সাইফ ৮০ রানে লং অনে গ্রিভসের হাতে ধরা পড়েন, ৭২ বলের ইনিংসে ৬ ছক্কা ছিল তার। সৌম্য সরকারও ৯১ রান করে আউট হন, ৮৬ বল খেলেন ৪ ছক্কা মেরে।
এরপর টানছিলেন হৃদয় ও শান্ত। তবে অ্যালিক অ্যাথানেজকে স্লগ সুইপ করে ছক্কা মারতে চাইলেও টাইমিংয়ের ভুলে ডিপ মিডউইকেটে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন হৃদয়। ৪৪ বলে ২৮ রান করেন এই ব্যাটার।
ইনিংসের ৪৩তম ওভারের পঞ্চম বলে ক্যাচ তুলেন শান্ত, কিন্তু সহজ সেই ক্যাচ নিতে পারেননি মোতি। তবে তিন বল পরই সাবেক টাইগার অধিনায়ক বিদায় নেন, নিজের বলেই মিড অফের দিকে দৌড়ে গিয়ে অসাধারণ ক্যাচ করেন অ্যালিক অ্যাথানেজ। ৫৫ বল খেলে ৩ ছক্কায় ৪৪ রান করে ফেরেন শান্ত।
ইনিংসের ৪৬তম ওভারে পরপর তিন উইকেট হারায় বাংলাদেশ। প্রথম বলেই মাহিদুল অঙ্কনকে বোল্ড করে বাংলাদেশকে পঞ্চম উইকেট হারাতে বাধ্য করেন আকিল। ১০ বল ৬ রানে ফেরেন অঙ্কন।
তিন বলের মধ্যে রিশাদকেও ফেরান আকিল। ছক্কা মারার চেষ্টায় পিয়েরের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন রিশাদ, ৬ বল খেলে মাত্র ৩ রান করেন।
ওভারের শেষ বলে অগাস্তের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে বিদায় নেন নাসুমও। এতে মাত্র ২ রান খরচায় ৩ উইকেট নেন আকিল।
সেখান থেকে দলীয় স্কোর তিন শ'র কাছাকাছি নিয়ে যান মিরাজ ও সোহান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৯৬/৮ (সৌম্য ৯১, সাইফ ৮০, নাজমুল ৪৪, হৃদয় ২৮, মিরাজ ১৭, সোহান ১৬*; আকিল ৪/৪১, অ্যাথানেজ ২/৩৭, চেজ ১/৫৩, মোতি ১/৫৩)।