শ্রীলঙ্কার উইকেট পতনের পর বাংলাদেশী খেলোয়াড়দের উদযাপন © টিডিসি স্পোর্টস
এশিয়া কাপের ১৭তম আসরের গ্রুপ পর্বেই বিদায়ঘণ্টা বাজতে পারতো বাংলাদেশের। তবে বিগ ম্যাচে আফগানিস্তানকে শ্রীলঙ্কা হারিয়ে দেওয়ায় সুপার ফোরে উঠে টাইগাররা। অবশ্য, লাল-সবুজের কোটি কোটি সমর্থকও সেদিন লঙ্কানদের সাপোর্ট করেছিলেন। এবার সুপার ফোরে সেই পরম বন্ধু লঙ্কানরাই বাংলাদেশের পথের কাঁটা। টাইগারদের পেয়ে শিরোপা লড়াইয়ে একধাপ এগিয়ে যেতে রীতিমতো ছেলেখেলাই শুরু করেছিল তারা। কিন্তু বোলারদের কল্যাণে মাঝের দিকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় বাংলাদেশ। তবে স্লগ ওভারে ফের শ্রীলঙ্কার দাপট। আর শানাকার ঝোড়ো ফিফটিতে শেষমেশ চ্যালেঞ্জিং পুঁজি পেয়েছে লঙ্কানরা।
শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ১৬৮ রান।
ব্যাটিংয়ে নেমে দুর্দান্ত শুরু পেয়েছিল শ্রীলঙ্কা। তবে তাসকিনের কল্যাণে ভাঙে ওপেনিং জুটি।
পঞ্চম ওভারে বোলিংয়ে এসে প্রথম বলেই ছক্কা হজম করেন তাসকিন আহমেদ। ফ্লিক করে দারুণ সেই শট খেলেন নিসাঙ্কা। তবে ছক্কা খাওয়ার পর দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ান অভিজ্ঞ এই পেসার।
ওভারের পরের ৪ বলে মাত্র ২ রান খরচা করেন। আর ওভারের শেষ বলে থামিয়ে দেন নিসাঙ্কা ঝড়। ডিপ স্কয়ার লেগে দারুণ এক ক্যাচ নেন সাইফ হাসান। এতে ১৫ বলে ২২ রানে ফেরেন লঙ্কান এই ওপেনার।
নিসাঙ্কা থাকলেও কুশল মেন্ডিস ঝড় চলছিল। তবে তাকে বেশিক্ষণ টিকতে দেননি মেহেদী। পরের ওভারেই এই লঙ্কান ব্যাটারকে প্যাভিলিয়নের পথে হাঁটান।
ডিপ ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে ক্যাচ তুলে দেন মেন্ডিস। নিখুঁতভাবে সেই ক্যাচ লুফে নেন সাইফ। ২৫ বল খেলে ৩৬ রান করে সাজঘরে ফেরেন এই ওপেনার।
পরের ওভারের প্রথম বলেই আরেকবার উল্লাসে মাতার উপলক্ষ এনে দেন মেহেদী। ধুঁকতে থাকা কামিল মিশারাকে বোল্ড করেন তিনি। ১১ বলে ৫ রান করেন মিশারা।
ম্যাচের শুরুর আগেও আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে শ্রীলঙ্কার হয়ে সর্বোচ্চ রানের মালিক ছিলেন কুশল পেরেরা। তবে তিনি ব্যাটিংয়ে নামার আগেই সেই রেকর্ড ছিনিয়ে নেন কুশল মেন্ডিস (২ হাজার ১৯৮ রান)।
তবে বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি সেই রেকর্ড। ব্যাট হাতে নামার পর মাত্র ১২ রান করতেই আবার রেকর্ডটি নিজের করে নেন পেরেরা। তিনিও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। তাকে ফেরান মোস্তাফিজ।
মাঝে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ চললেও স্লগ ওভারে পুরোপুরি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় শ্রীলঙ্কা। তবে, ইনিংসের ১৯তম ওভার টাইগারদের জন্য বড় ব্রেকথ্রুর মুহূর্তই। আগের দুই ওভারে দাসুন শানাকা ও চারিথা আসালাঙ্কার ক্যাচ মিস করেছিলেন ফিল্ডাররা। কিন্তু এবার প্রথম বলেই রানআউট।
তাওহীদ হৃদয় ক্যাচ মিস করলেও দ্রুত বল সংগ্রহ করে স্টাম্পের দিকে ছুঁড়ে দেন, আর সেটি দারুণভাবে ধরেই লিটন আউট করেন আসালাঙ্কাকে। ১২ বলে ২১ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি।
চতুর্থ বলে ফের সাফল্য এনে দেন মোস্তাফিজ। লিটনের গ্লাভসে ক্যাচ তুলে দেন কামিন্দু মেন্ডিস। শেষ বলেও বাজিমাত করেন মোস্তাফিজ। এবার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গাকে ফেরান।
সব মিলিয়ে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ১৬৯ রান, যা টাইগারদের সামনে রেকর্ড এক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়াল।
এশিয়া কাপ টি–টোয়েন্টির ইতিহাসে এত বড় লক্ষ্য তাড়া করে কখনো জেতেনি বাংলাদেশ। এই টুর্নামেন্টে টাইগারদের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয় এসেছে এবারের আসরেই। সেটাও হংকংয়ের দেওয়া ১৪৪ রানের লক্ষ্য সফলভাবে পেরিয়েই।