মাওলানা ভাসানীর ঘনিষ্ঠ সহচর শিক্ষাবিদ ইরফানুল বারী আর নেই

১০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:৪৫ AM , আপডেট: ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:৪৯ AM
মাওলানা ভাসানী ও মাভাবিপ্রবি শিক্ষক সৈয়দ ইরফানুল বারী

মাওলানা ভাসানী ও মাভাবিপ্রবি শিক্ষক সৈয়দ ইরফানুল বারী © সংগৃহীত

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) মাওলানা ভাসানী স্টাডিজ কোর্সের শিক্ষক ও মওলানা ভাসানীর ঘনিষ্ঠ সহচর সৈয়দ ইরফানুল বারী ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিঊন। ৯ জানুয়ারি (শুক্রবার) দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে এই শিক্ষাবিদ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

জানা গেছে, সৈয়দ ইরফানুল বারী ১৯৪৫ সালের ১ মার্চ কিশোরগঞ্জের হয়বৎনগরে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা সৈয়দ ফজলুল বারী আজিমউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের শিক্ষক ছিলেন। শৈশবেই তিনি কুরআন খতম করেন এবং আরবি, ফারসি ও উর্দু ভাষায় শিক্ষা লাভ করেন।

তিনি আজিমউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিকুলেশন, গুরুদয়াল কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট ও ডিগ্রি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মনোবিজ্ঞানে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৬৫ সালে দৈনিক পয়গাম পত্রিকায় সাংবাদিকতার মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু হয়। সাংবাদিকতার সূত্রেই তিনি ১৯৬৯ সালে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সান্নিধ্যে যান তার সাক্ষাৎকার নিতে এবং এরপর থেকেই মজলুম জননেতা মাওলানা ভাসানীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি তার অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহচর ও সহযোদ্ধায় পরিণত হন।

১৯৭২ সাল থেকে তিনি মওলানা ভাসানী প্রতিষ্ঠিত সাপ্তাহিক হক-কথা পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় দায়িত্ব পালনে গিয়ে তিনি একাধিকবার নিপীড়নের শিকার হন।

মুক্তিযুদ্ধকালে রৌমারির রণাঙ্গনে তিনি কলমসৈনিক হিসেবে ভূমিকা রাখেন। শিক্ষা ও সামাজিক আন্দোলনে তার অবদান উল্লেখযোগ্য। টাঙ্গাইলের সন্তোষে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকা অনন্য। ২০১৩ সাল থেকে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাওলানা ভাসানী স্টাডিজ কোর্সের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

লেখালেখি ও গবেষণায়ও তিনি ছিলেন সক্রিয়। মওলানা ভাসানী, নৈতিকতা, মনোবিজ্ঞান ও সামাজিক আন্দোলন নিয়ে তার লেখা বহু গ্রন্থ ও প্রবন্ধ পাঠকমহলে সমাদৃত। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন সাদাসিধে ও নির্লোভ। স্ত্রী ও তিন কন্যাসন্তান রেখে গেছেন।

মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নাতি আজাদ খান ভাসানী বলেন, সৈয়দ ইরফানুল বারী ছিলেন বাংলাদেশের সাংবাদিকতা, শিক্ষা, চিন্তা ও আন্দোলনের ইতিহাসে এক অনন্য নাম। তিনি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ঘনিষ্ঠ সহচর, সংগ্রামী সাংবাদিক, শিক্ষক ও চিন্তক হিসেবে আজীবন কাজ করে গেছেন। ১৯৬৯ সাল থেকে শুরু করে আমৃত্যু তিনি সন্তোষকেন্দ্রিক ভাসানী-চেতনার প্রহরী ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।

একজন আদর্শ শিক্ষকের ইন্তেকালে বিভিন্ন মহল এবং মাভাবিপ্রবি পরিবারের পক্ষ থেকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল আজিম আখন্দ গভীর শোক প্রকাশ করেন।

ডিএমপির নতুন কমিশনারের দায়িত্বে নজরুল ইসলাম
  • ১৫ মে ২০২৬
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন-ভাতার কালানুক্রমিক ইতিহাস ও তাদের…
  • ১৫ মে ২০২৬
নিজ কক্ষে মিলল ইমামের ঝুলন্ত মরদেহ
  • ১৫ মে ২০২৬
বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করল সুইডেন
  • ১৫ মে ২০২৬
৬ বছর পর কলেজ র‍্যাঙ্কিং প্রকাশের উদ্যোগ জাতীয় বিশ্ববিদ্যাল…
  • ১৫ মে ২০২৬
নোবিপ্রবির বিদায়ী উপাচার্যের আবেগঘন বার্তা
  • ১৫ মে ২০২৬