বাউল ইস্যুতে ৩৭১ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের বিবৃতি, ‘প্রতারণা’ বন্ধের আহ্বান

২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১১:২২ AM
বিবৃতি প্রদানকারী শিক্ষকদের কয়েকজন

বিবৃতি প্রদানকারী শিক্ষকদের কয়েকজন © টিডিসি

মানিকগঞ্জে বাউল আবুল সরকারকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গ্রেফতার এবং কোনো কোনো জায়গায় বাউলদের ওপর হামলাকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা-সমালোচনা ও বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। এরই মধ্যে ইসলামের মোড়কে বাউল দর্শন ও আচারভিত্তিক প্রতারণা বন্ধের দাবিতে বিবৃতি দিয়েছেন ৩৭১ জন বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের শিক্ষক।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) মূল্যবোধ আন্দোলন নামক এক প্লাটফর্মের সমন্বয়ক ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মাদ সাদাত হোসেন স্বাক্ষরিত এ বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ জনগণ সবসময়ই ভিন্ন মত, পথ ও সংস্কৃতির প্রতি সহনশীল। বাউল দর্শন ও ধর্ম এই ভূমির একটি সাংস্কৃতিক বাস্তবতা। তবে বাউল দর্শন যেমন এদেশের মূল জাতিসত্তার বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, তেমনি তাদের দেহতত্ত্বনির্ভর রতিসাধনাও এদেশের প্রচলিত নৈতিক মূল্যবোধের পরিপন্থি। ড. আনোয়ারুল করিম তাঁর ‘বাংলাদেশের বাউল’ গ্রন্থে বাউল সম্প্রদায়ের যে সকল আচার, দেহতান্ত্রিক রীতি ও তন্ত্র-সাধনার উল্লেখ করেছেন—যেমন রজঃ (মাসিকের রক্ত), বীর্য, স্তনদুগ্ধ পান; গাঁজা সেবন ও দেহতত্ত্বনির্ভর রতি-সাধনা; “প্রেমভাজা” নামে—মল, মূত্র, রজঃ ও বীর্য মিশিয়ে তৈরিকৃত অস্বাস্থ্যকর পদার্থ ভক্ষণ; বিবাহবহির্ভুত যৌনাচার শুধু এদেশের আপামর জনসাধারণের মূল্যবোধের পরিপন্থিই নয় এবং সামাজিকভাবে বিপজ্জনকও বটে।

শিক্ষকরা বলেন, বাউলদের নিজস্ব দর্শনচর্চা ও আচার-অনুশীলন ততক্ষণ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার কারণ হয় না, যতক্ষণ তা তাদের নিজস্ব পরিভাষা ও পরিমণ্ডলে সীমাবদ্ধ থাকে; এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ধর্মবিশ্বাস ও আচারকে সংক্রমিত না করে এবং তাদের নিজস্ব দর্শনকে প্রতারণামূলকভাবে প্রচলিত ধর্ম বিশেষত ইসলামের মোড়কে জনসমক্ষে উপস্থাপন না করা হয়।

শিক্ষকদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে বাউল আবুল সরকারের আচরণ এই সীমা অতিক্রম করেছে। আবুল সরকার একটি অনুষ্ঠানে কুরআনের আয়াত বিকৃত ও অশুদ্ধ করে পাঠ করে যেমন কুরআনের অবমাননা করেছেন, তেমনি তর্কের বাহানায় আল্লাহর নামে মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করে এবং আল্লাহর শানে শিষ্টাচার বহির্ভূত অশ্লীল বাক্য প্রয়োগ করে মুসলিমদের ধর্মীয় অনুভূতিকে আঘাত করেছেন।

৩৭১ শিক্ষকের এ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তার এই সকল শিরকপূর্ণ ও শিষ্টাচার বহির্ভূত অশ্লীল বক্তব্য সমাজে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তার উপর এবং তার মুক্তির দাবিতে মাঠে নামা সমর্থকদের ওপর সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ দেখা দিয়েছে। যদিও আইন-শৃঙ্খলা নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়, তবে এর পেছনে আবুল সরকারের উস্কানিই যে প্রধানতঃ দায়ী— এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই।

আরও পড়ুন: বাউল আবুল সরকারের মুক্তি নয়, কঠোর শাস্তি চাই: রাশেদ খাঁন

শিক্ষকরা আরও বলেন, যিনি উত্তেজনা ও অস্থিরতার সূচনা করেছেন, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ— এটাই ন্যায়সংগত রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। যিনি স্বেচ্ছায় সমাজে উস্কানি সৃষ্টি করেছেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছেন যার ফলশ্রুতিতে সংঘাতের পরিবেশ তৈরি হয়েছে— তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করা কোনো শিক্ষিত ও বিবেকবান মানুষের কাজ হতে পারে না। কিন্তু দেখা যাচ্ছে কিছু তথাকথিত বুদ্ধিজীবী বাক ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার নামে আবুল সরকারের অপকর্মকে আড়াল করে তার পক্ষে সাফাই গাইছেন যা সাধারণ জনতার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙ্গে দিয়ে পরিস্থিতিকে আরো নাজুক করে তুলতে পারে।

সবশেষে তারা বলেন, আমরা রাষ্ট্র ও আইন-প্রয়োগকারী সংস্থার নিকট জোর দাবি জানাই— আবুল সরকারের ধর্ম-অবমাননাকর, বিভ্রান্তিমূলক এবং সামাজিক অস্থিরতা-উদ্রেককারী বক্তব্য ও আচরণের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক এবং ইসলামের মোড়কে বাউল দর্শন ও আচারের প্রতারণামূলক প্রচার বন্ধ করা হোক।

৩৭১ জন বিবৃতদাতাদের মধ্যে রয়েছেন ১০০ জন অধ্যাপক, ৭৪ জন সহযোগী অধ্যাপক, ৯৯ জন সহকারী অধ্যাপক এবং ৯৮ জন লেকচারার। বিবৃতি প্রদানকারী শিক্ষকদের বিস্তারিত তালিকা www.mullobodh.com ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

বিবৃতিপ্রদানকারী এ শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সাবিনা ইয়াসমিন (জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি) ও অধ্যাপক ড. মনজুরুল মুহম্মদ করিম (মাইক্রোবায়োলজি)। বুয়েটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফয়সল, বুটেক্সের অধ্যাপক ড. মাহমুদা আক্তার, সিটি ইউনিভার্সিটির প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. কাজী শাহাদাৎ কবীর, ডুয়েটের অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আয়েশা আখতার (মেরিন সায়েন্স) ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক (দর্শন বিভাগ)। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শামীমা তাসনীম (রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ) ও অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ আবুল হাসনাত (রসায়ন বিভাগ)। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তারেক মুহাম্মদ তওফিকুর রহমান (রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তারেক মুহাম্মদ শামসুল আরেফিন (অর্থনীতি), ড্যাফোডিল ইনটারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. মোখতার আহমাদ, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. আরিফ মোর্শেদ খান, ইন্ডিপেন্ডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের (আইইউবি) সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ সরোয়ার হোসেন এবং মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির লেকচারার আসিফ মাহতাব উৎস সহ অন্যান্য শিক্ষক।

 

 

 

ব্রাজিলের ম্যাচে দায়িত্বে থাকা সেই রেফারিকেই সেমিফাইনালে পে…
  • ১৪ জুলাই ২০২৬
বস্তিতে মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের গাড়ি ঘিরে ধরার চেষ্টা, স…
  • ১৪ জুলাই ২০২৬
নিখোঁজের দু’দিন পর যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার
  • ১৪ জুলাই ২০২৬
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলন চলবে: জামায়াত আমির
  • ১৪ জুলাই ২০২৬
বান্দার আব্বাসে নতুন বিস্ফোরণ, সৌদি আরবের বিমানবন্দরেও হামল…
  • ১৪ জুলাই ২০২৬
দেশজুড়ে আরও টানা ৫ দিন অতি ভারী বৃষ্টির আভাস, বন্যা পরিস্থ…
  • ১৪ জুলাই ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • JULY 26, 2026
  • Admission Test
  • AUGUST 01, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
FALL 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence