তৌকিরের ফিউনারেল প্যারেড অনুষ্ঠিত © সংগৃহীত
রাজধানীর উত্তরায় বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলামের ফিউনারেল প্যারেড ও প্রথম জানাজা মঙ্গলবার (২২ জুলাই) বেলা সাড়ে ১২টায় ঢাকার কুর্মিটোলা সেনানিবাসে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধানসহ (ভারপ্রাপ্ত) উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তারা এবং নিহতের পরিবার সদস্যরা।
জানাজা শেষে মরদেহ বিমানযোগে নেওয়া হয় বগুড়া এয়ারবেজে। সেখানে থেকে বিশেষ গাড়িবহরে রাজশাহী নিয়ে যাওয়া হবে তৌকিরের মরদেহ। রাজশাহীর সপুরা ঈদগাহ মাঠে দ্বিতীয় জানাজা শেষে নগরীর সপুরা গোরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হবে।
এর আগে, সোমবার (২১ জুলাই) দুপুরের দিকে রাজধানীর উত্তরা মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর এফ-৭ বিজিআই প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় পাইলটসহ ২৭ জন নিহত হয়েছেন। উড্ডয়নের পরপরই যান্ত্রিক ত্রুটির সম্মুখীন হয় যুদ্ধবিমানটি। তবে বিমানটির পাইলট ফ্লাইট লেফট্যানেন্ট তৌকির ইসলাম সাগর প্রাণপণ চেষ্টা করেছিলেন বিমানটি দিয়াবাড়ির ফাঁকা স্থানে সরিয়ে নেওয়ার।
দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বিষয়টি নিশ্চিত বিমানবাহিনীর এক কর্মকর্তা বলেন, ‘তৌকিরের আজ প্রথম একক মিশন ছিল, একটু আগে তিনি ডুয়াল ফ্লাইট পরিচালনা করেছেন। এয়ারক্রাফট টেকঅফ করার একটুখানি যাওয়ার পর এয়ারক্রাফট কোন রিঅ্যাক্ট করছিল না। তারপরে এয়ারক্রাফট স্টল করে, তখন তার কন্ট্রোলে ছিল না। মোবাইল টাওয়ার থেকে তাকে ইজেক্ট করতে বলা হচ্ছিল, কিন্তু এত লোয়ার ফ্লাইয়িং হচ্ছিল যে, ওই সময়ে ইজেক্ট করা আসলে পসিবলও ছিল না। তিনি চেষ্টা করছিলেন যে, অন্যভাবে কিছু করা যায় কি না। কিন্তু দুর্ভাগ্য।’
তিনি আরও বলেন, ফ্ল্যাইটটি দিয়াবাড়ির ফাঁকা স্থানে ফেলতে চেয়েছিলেন তৌকির ইসলাম। এজন্য বেশ কিছু সময় ধরে চেষ্টাও চালাচ্ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারেননি; জেটটি বাউন্স করে মাইলস্টোন এলাকায় গিয়ে আছড়ে পড়ে।