তানোর মহিলা কলেজ © সংগৃহীত ছবি
রাজশাহীর তানোরে বিধিবহির্ভূতভাবে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগ থাকা এক কলেজ শিক্ষক চলতি সেপ্টেম্বর মাসে এমপিওভুক্ত হয়েছেন। সাইফুল ইসলাম নামের ওই শিক্ষক তানোর মহিলা কলেজে ২০১৯ সালের ৩ মার্চ গভর্নিং বডির মাধ্যমে নিয়োগ পান বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে চলতি সেপ্টেম্বর মাসে মার্কেটিং বিষয়ে তিনি এমপিওভুক্ত হন। এমপিওতে তার ইনডেক্স নম্বর এন-৫৬৯৩৯০১৫।
জানা যায়, ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নিয়োগে ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির ক্ষমতা রহিত করা হয়। তবে ওই প্রজ্ঞাপনের পরও ২০১৯ সালের ৮ মার্চ সাইফুল ইসলামকে তানোর মহিলা কলেজে নিয়োগ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একই বছরের ১১ মার্চ তিনি ডিগ্রি পর্যায়ের মার্কেটিং বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন।
এরপর ২০২৬ সালের ৫ মার্চ কলেজটির উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের মার্কেটিং বিষয়ের পদটি শূন্য ঘোষণা করে গভর্নিং বডি। পরে ১২ মার্চ অনুষ্ঠিত ২/২০২৬ নম্বর অধিবেশনের ২ নম্বর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ডিগ্রি (পাস) কোর্স পর্যায়ের এমপিওবিহীন প্রভাষক সাইফুল ইসলামকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের মার্কেটিং বিষয়ের শূন্য পদে সমন্বয় করা হয়। একইসঙ্গে তার এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ওই আবেদনের পর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) কর্মকর্তাদের যোগসাজশে সাইফুল ইসলাম এমপিওভুক্ত হয়েছেন। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রভাষক সাইফুল ইসলাম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমার নিয়োগ কত সালে সেটা আমি জানি।’ তাকে নিয়োগের তারিখ জানানো হলে তিনি বলেন, ‘তাহলে আপনি তো জানেন। এ বিষয়ে কিছু জানার থাকলে আপনি কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন।’
তার নিয়োগ ও এমপিওভুক্তির বিষয়ে জানতে তানোর মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ অনুকুল কুমার ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর তিনি ‘ব্যস্ত আছি, পরে কল দেন’ বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরবর্তীতে তার নম্বরে কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে জানতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক মো. হুমায়ূন কবীরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমি গত ১৭ আগস্ট এই অফিসে যোগদান করেছি। আমি এই ধরনের কোনো ফাইল অ্যাপ্রুভ করিনি। এই ফাইল বিষয়ে পূর্বের পরিচালক বলতে পারবেন।’