কক্ষে তালা লাগিয়ে পালিয়েছে প্রতারক চক্র © টিডিসি ফটো
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের নাম ব্যবহার করে তিন শতাধিক যুবকের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ ও সনদের নামে ১০ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ‘দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’ নামের এই নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও প্রশিক্ষকরা বর্তমানে অফিস তালাবদ্ধ করে গা-ঢাকা দিয়েছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে প্রতিকার চেয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাস থেকে উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের লোগো ও সাইনবোর্ড ব্যবহার করে ড্রাইভিং ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণের বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়। সরকারি দপ্তরের নাম থাকায় স্থানীয় বেকার যুবকরা বিষয়টিকে নির্ভরযোগ্য মনে করে সেখানে ভর্তি হন। প্রতারক চক্রটি উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের ভেতরেই একটি কক্ষে অফিস খুলে বসেছিল।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগপত্রে, সেখানে ড্রাইভিং কোর্সের জন্য জনপ্রতি ১৪ হাজার ৫৭৫ টাকা এবং কম্পিউটারের জন্য ৬ হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত কোর্স ফি নেওয়া হতো। প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে এভাবে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মো. আতাউল্লাহ মনির ও তার সহযোগীরা।
কর্ণফুলীর শিকলবাহা এলাকার ভুক্তভোগী মোহাম্মদ আতিক বলেন, সমাজসেবা অফিসের ভেতরেই এম এ লতিফ নামে এক প্রশিক্ষক আমাদের মাসখানেক ক্লাস করান। আমাদের ব্যাচে ২০-২৫ জন ছিলাম। হঠাৎ একদিন দেখি অফিসে তালা ঝুলছে, পরিচালক আতাউল্লাহ মনিরের ফোনও বন্ধ। এখন আমাদের পরীক্ষাও হয়নি, সার্টিফিকেটও পাইনি। আমাদের টাকাগুলো সব জলে গেল।
একই অভিজ্ঞতার কথা জানান কম্পিউটার প্রশিক্ষণে ভর্তি হওয়া জাবের ও আবেদ নূর। তারা জানান, দক্ষতা অর্জনের আশায় টাকা দিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন, কিন্তু এখন ওই কক্ষের আশপাশে কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না। পাশের কক্ষের কর্মকর্তারা বলছেন, তাদের সাথে নাকি এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কোনো সম্পর্ক নেই। মোহাম্মদ নূর মিয়া নামের এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারি অফিসের ভেতর সাইনবোর্ড টাঙিয়ে তারা এসব করল, অথচ অফিস বলছে তারা জানে না। মানুষ প্রশাসনকে বিশ্বাস করে সন্তানদের পাঠিয়েছিল। প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন জালিয়াতি কীভাবে হয়?
সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সাল থেকে আতাউল্লাহ মনির নামে ওই ব্যক্তি সমাজসেবা অধিদপ্তরের একটি কক্ষ ব্যবহার করে প্রশিক্ষণ দিচ্ছিলেন। তৎকালীন কর্মকর্তার সাথে একটি চুক্তির মেয়াদ ২০২২ সালেই শেষ হয়ে যায়। এরপরও তারা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে তারা সবকিছু বন্ধ করে লাপাত্তা হয়।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রিজোয়ান উদ্দিন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানান, তাদের সাথে আমাদের দপ্তরের সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা নেই। অনেক অভিযোগ আসার পর বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিন উদ্দিন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানান, প্রতারণার বিষয়টি তিনি অবহিত হয়েছেন। দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে অভিযুক্ত আতাউল্লাহ মনিরের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রতারণার শিকার যুবকরা দ্রুত তাদের টাকা ফেরত এবং দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।