প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভর করে পর্যটনের নতুন হাব হতে পারে বরগুনা © টিডিসি ফটো
দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় জেলা বরগুনা ক্রমেই হয়ে উঠছে দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমুদ্র, ম্যানগ্রোভ বন আর নদীঘেরা পরিবেশকে ঘিরে এখানে বিকাশ পাচ্ছে ইকো ট্যুরিজম, যা জেলার অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
কবি জীবনানন্দ দাশ তাঁর কবিতায় যে বাংলার রূপের কথা বলেছেন, তার বাস্তব প্রতিচ্ছবি যেন মিলেছে বরগুনার প্রকৃতিতে। একদিকে বঙ্গোপসাগর, অন্যদিকে সুন্দরবন—প্রকৃতি যেন দুই হাত বাড়িয়ে আহ্বান জানায় ভ্রমণপিপাসুদের।
জেলার তালতলী উপজেলায় রয়েছে রাখাইন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য, পাশাপাশি জনপ্রিয় শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত। বেতাগীতে অবস্থিত ঐতিহাসিক বিবিচিনি শাহী মসজিদ বহন করছে প্রাচীন মুসলিম সংস্কৃতির স্মৃতি। এছাড়া পায়রা নদী, বিষখালী নদী ও বলেশ্বর নদী-এর বুকে জেগে ওঠা ছোট ছোট দ্বীপ এবং দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন টেংরাগিরি পর্যটকদের মুগ্ধ করে।
স্থানীয়দের মতে, পাথরঘাটার হরিণঘাটা, তালতলীর সমুদ্রসৈকত, টেংরাগিরি ইকোপার্ক, সুরঞ্জনা ইকোপার্ক ও রাখাইন পল্লী—সব মিলিয়ে বরগুনায় পর্যটনের সম্ভাবনা বিশাল। পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন করা গেলে বিদেশি পর্যটক আকর্ষণও সম্ভব।
তবে সম্ভাবনা থাকলেও বাস্তবতায় রয়েছে নানা সীমাবদ্ধতা। পর্যটকদের অভিযোগ, জেলায় যাতায়াত ব্যবস্থা এখনও দুর্বল। পর্যাপ্ত হোটেল-মোটেলের অভাব রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বিশেষ করে সেতু নির্মাণ কাজ ধীরগতির হওয়ায় ভোগান্তি বাড়ছে।
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বরগুনার ইকো ট্যুরিজম দেশের সেরা সম্ভাবনাগুলোর একটি। এখানে সমুদ্র, নদী ও ম্যানগ্রোভ একসঙ্গে থাকায় পরিকল্পিত উদ্যোগ নিলে এটি বড় পর্যটন হাবে পরিণত হতে পারে। এজন্য যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে জোর দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
বরগুনা পর্যটন উদ্যোক্তা উন্নয়ন কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট সোহেল হাফিজ বলেন, একই এলাকায় সমুদ্র, সুন্দরবন, নদী মোহনা ও কাছাকাছি কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত দেখার সুযোগ বরগুনাকে আলাদা বৈশিষ্ট্য দিয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে উদ্যোক্তা বাড়ানোর উদ্যোগ চলছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদেরও উৎসাহিত করা হচ্ছে। তবে অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া।
বর্তমানে জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে ২০টির বেশি পর্যটন স্পট রয়েছে। এর মধ্যে টেংরাগিরি, হরিণঘাটা ও সুরঞ্জনা ইকোপার্ক নতুন করে ইকো ট্যুরিজমে আশার আলো জাগাচ্ছে।
সব মিলিয়ে, সঠিক পরিকল্পনা ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া গেলে বরগুনা শুধু একটি পর্যটন জেলা নয়, দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তিতে পরিণত হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।