আইয়ুব বুয়াদ্দি © টিডিসি সম্পাদিত
ফিফা বিশ্বকাপ শুরুর আগ থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন আইয়ুব বুয়াদ্দি। ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া এই তরুণ একসময় দেশটির বয়সভিত্তিক দলগুলোর অধিনায়কত্বও করেছেন। তবে বিশ্বমঞ্চে পা রাখার আগে হয়তো অন্যরকম পরিকল্পনাই ছিল তার। শেকড়ের টানে মরক্কোকেই বেছে নেন।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দেশটির নাগরিকত্ব নিশ্চিত করে অবশেষে সেই স্বপ্নও পূরণ হয়। আর রবিবার (১৪ জুন) ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই বিশ্বকাপ অভিষেকে নিজের সামর্থ্যের ঝলক দেখান তিনি।
অবশ্য গল্পটা অন্যরকমও হতে পারত। তাহলে হয়তো এই ম্যাচে মাঠে নামাই হতো না বুয়াদ্দির, বিশ্বমঞ্চে ব্রাজিলের মতো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে মাঝমাঠে এতটা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলাটাও দেখা যেত না।
মাত্র ১৮ বছর বয়সেই নিজের চতুর্থ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নেমে তিনি যেন প্রমাণ করলেন, সিদ্ধান্তটি কতটা ভেবেচিন্তেই নিয়েছিলেন। মজার ব্যাপার হলো, ২০১৮ বিশ্বকাপেও মরক্কোর সঙ্গেই ছিলেন তিনি, তবে একজন খেলোয়াড় হিসেবে নয়, ১০ বছর বয়সী এক ক্ষুদে সমর্থক হয়ে।
সেলনিসে জন্ম হলেও বুয়াদ্দির বাবা-মা মরক্কো থেকে অভিবাসী হয়ে ফ্রান্সে পাড়ি জমিয়েছিলেন। তবে, শেকড়ের টান, দেশের প্রতি আবেগ আর পরিবারের ইতিহাস—সব মিলিয়ে মরক্কোর প্রতি তার গভীর ভালোবাসা ছিল। সেই টানেই ফ্রান্সকে পেছনে রেখে মরক্কোকে বেছে নেন।
ব্রাজিলের বিপক্ষে বুয়াদ্দির পারফরম্যান্স ছিল এক পরিণত ফুটবলারের প্রতিচ্ছবি। সোজাসাপ্টা খেলার ধরণ, শক্তিশালী শারীরিক উপস্থিতি এবং মাঠজুড়ে অবিরাম প্রভাব যেন বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছিল, বড় মঞ্চের জন্য প্রস্তুত তিনি।
প্রথমার্ধে মরক্কো যখন মাঝমাঠের দখল নিজেদের করে নিয়েছিল, তখন সেই আধিপত্যের অন্যতম স্থপতি ছিলেন বুয়াদ্দি। অভিজ্ঞ প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিখুঁতভাবে জায়গা তৈরি করেছেন, বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছেন এবং দলের ছন্দ ও ভারসাম্য বজায় রেখেছেন।
পরিসংখ্যানও বুয়াদ্দির অসাধারণ পারফরম্যান্সের পক্ষেই জোরালো সাক্ষ্য দেয়। বিশ্বকাপ অভিষেকে ৬৬টি পাসের মধ্যে ৬০টিতেই সফল হয়েছেন, সাফল্যের হার ৯১ শতাংশ।
আরও বিস্ময়কর হলো, প্রতিপক্ষের অর্ধে বা ফাইনাল থার্ডে তার প্রতিটি পাসই নিখুঁত ছিল, ১৬টির ১৬টিই কার্যকরী ছিল। তবে কেবল বল বিতরণেই নয়, রক্ষণাত্মক দায়িত্বেও সমান কার্যকর ছিলেন তিনি; ৬টি বল পুনরুদ্ধার, ৫টি ইন্টারসেপশন এবং ৯টি ডুয়েলে জয় তার প্রভাবেরই প্রমাণ।