এনএসইউতে গোলটেবিল বৈঠক
বৈঠকে বক্তারা © টিডিসি ফটো
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত হওয়া সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক পর্যটনের মানচিত্রে দৃশ্যমান হয়ে উঠতে না পারার কারণ, নীতির অস্থিরতা, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ের ঘাটতি, অবকাঠামো ও সেবার দুর্বলতা।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (এনএসইউ) 'গ্লোবাল কম্পিটিটিভনেস অফ কক্সবাজার' শীর্ষক গোল টেবিল বৈঠকে এমন মতামত জানিয়েছেন নীতিনির্ধারক, গবেষক ও খাতসংশ্লিষ্টরা।
যৌথভাবে এর আয়োজন করে এনএসইউ-এর সেন্টার ফর সোশ্যাল ইম্প্যাক্ট এন্ড সাসটেইনেবলিটি, এনএসইউ সোশ্যাল বিজনেস সেন্টার, ক্লাইমেট চেইঞ্জ এন্ড ডিসেস্টার রেজিলেন্স সেন্টার এবং ডিপার্টমেন্ট অফ মার্কেটিং এন্ড ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস।
মূল প্রবন্ধ উপস্থান করেন এনএসইউ-এর মার্কেটিং এন্ড ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগের চেয়ার ড. খন্দকার মো. নাহিন আল মামুন। তিনি বলেন, কক্সবাজার বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত হলেও আন্তর্জাতিক পর্যটনের মানচিত্রে এটি জায়গা করে নিতে পারেনি—এটি ভৌগোলিক নয়, নীতিগত ব্যর্থতা। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত কোন ধরনের পর্যটক আমাদের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। বহু-প্রজন্মের মুসলিম পরিবারভিত্তিক পর্যটক একটি বড় এবং দ্রুত বর্ধনশীল বাজার।
বৈশ্বিক হালাল পর্যটন শিল্প দ্রুত বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০৩২ সালের মধ্যে এর আকার ৫০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে—বাংলাদেশ এ খাতে বড় সুযোগ নিতে পারে। মুসলিম-বান্ধব পর্যটন নিশ্চিত করতে হালাল খাবার, নামাজের ব্যবস্থা, পরিবারভিত্তিক অবকাঠামো এবং নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। বর্তমানে পর্যটন খাতে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব। বিনিয়োগ সহজ করতে একক কর্তৃপক্ষ গঠন জরুরি। শুধু নীতিমালা থাকলেই হবে না, সঠিকভাবে বাস্তবায়ন এবং কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করাকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে দাবি করেন তিনি।
এনএসইউ-এর সেন্টার ফর সোশ্যাল ইমপ্যাক্ট অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. শরীফ নুরুল আহকাম বলেন, কক্সবাজার একটি অসাধারণ পর্যটন সম্ভাবনাময় জায়গা হলেও আমরা এখনো এর পূর্ণ সুবিধা নিতে পারিনি। দেশীয় পর্যটন বাড়লেও আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আমরা আকৃষ্ট করতে পারছি না। অনেকেই নেপাল বা ভুটান-এ যেতে চান, কিন্তু কক্সবাজার তাদের ভাবনায় আসে না—এখানেই আমাদের ব্যর্থতা।
তিনি বলেনশ নিরাপত্তা, ব্যবস্থাপনা ও রাত্রীকালীন বিনোদনের অভাব পর্যটন খাতের বড় সমস্যা। একজন বিদেশি অতিথি হোটেলে থেকেও নিজেকে নিরাপদ মনে করেননি—এটা খুবই উদ্বেগজনক।পর্যটনে বৈচিত্র্য আনতে হবে। প্যারাগ্লাইডিংয়ের মতো অ্যাডভেঞ্চার কার্যক্রম মানুষকে আকৃষ্ট করতে পারে, বিশেষ করে তরুণদের। নারীদের জন্য নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করতে পারলে পর্যটনে তাদের অংশগ্রহণ বাড়বে, যা সামগ্রিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সাবেক চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান খান কবির বলেন, আমাদের দেশের পর্যটকরা মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, নেপালে যায়, কিন্তু সেসব দেশের পর্যটকরা বাংলাদেশে আসে না। কেন আসে না, সেটি আমাদের ভাবতে হবে। কক্সবাজারের ১১২ কিলোমিটার সৈকতের মধ্যে মাত্র ৫ কিলোমিটার এলাকায় পর্যটন সীমাবদ্ধ। এই ভিড়কে পুরো এলাকায় ছড়িয়ে দিতে পরিকল্পনা প্রয়োজন। ইকো-ট্যুরিজম ও কমিউনিটি ট্যুরিজম এখন বিশ্বে জনপ্রিয় হচ্ছে। কম বিনিয়োগেও এই খাতে বড় সম্ভাবনা তৈরি করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব। এক মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অন্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বিত নয়। সেন্ট মার্টিন দ্বীপ-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকার ব্যবস্থাপনাতেও নীতিগত সমন্বয়ের অভাব স্পষ্ট। পর্যটন খাতকে এগিয়ে নিতে হলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে একটি শক্তিশালী ট্যুরিজম অথরিটি গঠন করা ছাড়া বিকল্প নেই। বর্তমানে কক্সবাজার মূলত দেশীয় পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল, কারণ আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা, সেবা ও পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি।
নভো এয়ারের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মফিজুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে হলে প্রথমেই প্রয়োজন উন্নত এয়ার কানেক্টিভিটি। তবে বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশে বিমান পরিচালনার খরচ অত্যন্ত বেশি। আমাদের মোট অপারেটিং খরচের প্রায় ৫০ শতাংশই জেট ফুয়েল বা বিমান জ্বালানির পেছনে ব্যয় হয়। আবার আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় বাংলাদেশে জেট ফুয়েলের দাম ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বেশি। এর ফলে টিকিটের মূল্যে স্বাভাবিকভাবেই প্রভাব পড়ে।
তিনি আরও বলেন, সরকারি কর ও শুল্ক ব্যবস্থাও বড় একটি কারণ। আগে যেখানে কর ছিল প্রায় ১৮ শতাংশ, বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ৪৬ শতাংশে পৌঁছেছে—যা প্রায় ১৪৮ শতাংশ বৃদ্ধি। এই অতিরিক্ত করের চাপ ভাড়াকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। পাশাপাশি ডায়নামিক প্রাইসিং সিস্টেমের কারণেও অনেক সময় টিকিটের দাম ওঠানামা করে। সব মিলিয়ে খরচ কাঠামোর এই বাস্তবতার কারণে বাংলাদেশে তুলনামূলকভাবে বিমান ভাড়া বেশি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি বিভাগের অধ্যাপক ড. সন্তোষ কুমার দেব বলেন, কক্সবাজারকে বৈশ্বিক পর্যায়ে আলাদাভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে আমাদের অবশ্যই একটি শক্তিশালী ব্র্যান্ডিং কৌশল গড়ে তুলতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে যে পর্যটকরা এখানে এসে যে অভিজ্ঞতা পান, তা যেন একরকম ও ধারাবাহিক হয়। বিশ্ব পর্যটনের ইতিহাস দেখলে বোঝা যায়, পর্যটন শিল্প আজ দ্রুত বর্ধনশীল একটি খাত। ১৯৫০ সালে যেখানে বিশ্বে মাত্র প্রায় আড়াই কোটি আন্তর্জাতিক পর্যটক ছিল, এখন তা বেড়ে প্রতি বছর প্রায় ১৫০ কোটি মানুষের কাছাকাছি পৌঁছেছে। বৈশ্বিক জিডিপিতে পর্যটনের অবদান বর্তমানে প্রায় ১০ দশমিক ৫ শতাংশ, যা ভবিষ্যতে আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে মোট পর্যটকের প্রায় ৯০ শতাংশই অভ্যন্তরীণ পর্যটক, আর মাত্র ১০ শতাংশ আন্তর্জাতিক পর্যটক। তাই আন্তর্জাতিক পর্যটক আকর্ষণ করতে হলে আমাদের সেবার মান, অভিজ্ঞতা এবং গন্তব্য ব্যবস্থাপনায় মানসম্মত ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করা জরুরি। কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক করতে হলে সরকার, বেসরকারি খাত এবং স্থানীয় জনগণের সমন্বিত অংশীদারিত্ব অপরিহার্য। কারণ পর্যটকের অভিজ্ঞতা যত ইতিবাচক হবে, ততই তারা আবারও আসবে এবং অন্যদের কাছে সুপারিশ করবে।
ইনোগ্লোব ট্রাভেল এন্ড ট্যুরস লিমিটেডের সিইও
তাসলিম আমিন শোভন বলেন, আমাদের দেশে পর্যটন খাতে সম্ভাবনা থাকলেও বাস্তবতা হলো—নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। ২০১০ সালে শিল্পখাতের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পর্যটন বোর্ড গঠন করা হলেও এখনো সেই প্রতিষ্ঠানের পূর্ণ কর্তৃত্ব দেওয়া হয়নি। ফলে কার্যকরভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
বর্তমান সময়ে পর্যটন বিপণনে ডিজিটাল মাধ্যমের ওপর গুরুত্ব দেওয়া জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে এখন তরুণ প্রজন্ম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভার্চুয়াল কনটেন্টের ওপর নির্ভরশীল। নেপালের মতো দেশগুলো টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সফলভাবে নিজেদের গন্তব্য প্রচার করছে, অথচ আমরা সে দিকটিতে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছি না। এছাড়া সংকটের সময় অন্যান্য দেশগুলো আগ্রাসীভাবে প্রচারণা চালালেও আমরা তেমন উদ্যোগ দেখি না। যেমন কোভিডের সময় নেপাল বা শ্রীলঙ্কা পর্যটন পুনরুদ্ধারে বড় ধরনের বিনিয়োগ করেছে, কিন্তু বাংলাদেশে সে ধরনের উদ্যোগ চোখে পড়ে না।
এনএসইউ-এর সেন্টার ফর ট্যুরিজম স্টাডিজের সাবেক চেয়ারম্যান জামিউল আহমেদ বলেন,
পর্যটন থেকে আয় বাড়াতে হলে প্রথমে কক্সবাজারকে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘পণ্য’ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। অর্থাৎ প্রাকৃতিক সম্পদকে উপযুক্ত অবকাঠামো, সেবা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে একটি মানসম্পন্ন পর্যটন পণ্যে রূপান্তর করতে হবে। এরপরই সেটিকে আন্তর্জাতিক বাজারে সঠিকভাবে ব্র্যান্ডিং করা সম্ভব। এই পুরো প্রক্রিয়াটি বাস্তবায়নের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সরকারের আন্তরিকতা ও কার্যকর উদ্যোগ। কারণ বড় পরিসরের প্রকল্প বাস্তবায়ন, বিনিয়োগ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ—সবকিছুই শেষ পর্যন্ত সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত ও সমন্বয়ের ওপর নির্ভর করে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ইতোমধ্যেই কক্সবাজারে দৃশ্যমান হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পর্যটন উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণকে গুরুত্ব দিতে হবে। পর্যটন আয়কে এমনভাবে ব্যবহার করতে হবে, যাতে তা পরিবেশ সুরক্ষা ও অভিযোজন ব্যবস্থায় সহায়তা করে।একই সঙ্গে নির্দিষ্ট অঞ্চলে পরিকল্পিতভাবে হালাল পর্যটন বা শরিয়াভিত্তিক পর্যটন গড়ে তোলা যেতে পারে, যেখানে পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা আলাদাভাবে নিশ্চিত থাকবে।
দ্য বাংলাদেশ মনিটরের সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, কক্সবাজারকে আমরা যতটা আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরতে চাই, সেই পর্যায়ের উপকরণ ও প্রস্তুতি এখনো তৈরি হয়নি। এটি মূলত দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটনের জন্য ভালো একটি গন্তব্য, কিন্তু আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আকর্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় মান, অবকাঠামো ও সেবা এখনো অনুপস্থিত। আমরা দীর্ঘদিন ধরে ‘অপার সম্ভাবনা’ বলছি, কিন্তু শুধু সম্ভাবনা থাকলেই হয় না—সেটিকে কার্যকর পণ্য হিসেবে গড়ে তুলতে হয়, সঠিকভাবে বিপণন ও ব্র্যান্ডিং করতে হয়। এই জায়গাতেই আমরা পিছিয়ে আছি।
তিনি আরও বলেন, পর্যটনকে ‘অগ্রাধিকার খাত’ বলা হলেও বাস্তবে সেই অগ্রাধিকার আমরা দেখতে পাই না। দেশে একাধিক জাতীয় পর্যটন সংস্থা থাকলেও কার্যকর সমন্বয় ও সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনার অভাব রয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনার কথা শোনা গেলেও বাস্তব অগ্রগতি সীমিত। বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা, সঠিক বিনিয়োগ এবং সরকারি-বেসরকারি খাতের কার্যকর সমন্বয় ছাড়া পর্যটন খাতে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।”
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল হান্নান চৌধুরী বলেন, পর্যটন খাতে আমাদের মূল সমস্যা দুর্বল শাসনব্যবস্থা এবং সমন্বয়ের অভাব। একটি কার্যকর ‘ইকোসিস্টেম’ বা সমন্বিত পরিবেশ তৈরি করতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থা—যেমন দ্রুতগতির ট্রেন বা সহজ পরিবহন—প্রাধান্য পাওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার প্রকল্পটিও বাস্তবসম্মত ব্যবসায়িক পরিকল্পনার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। আন্তর্জাতিক পর্যটনের জন্য সরাসরি বিদেশি ফ্লাইট আসবে—এমন সম্ভাবনা সীমিত। বরং দেশের অভ্যন্তরীণ পরিবহন ও যোগাযোগব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা বেশি জরুরি ছিল।
পর্যটনের জন্য শুধু সমুদ্রসৈকতই যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রয়োজন বহুমুখী আকর্ষণ—নাইটলাইফ, সংস্কৃতি, বিনোদন, নিরাপত্তা ও মানসম্মত সেবা। এসব ক্ষেত্রে আমাদের বড় ঘাটতি রয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশ ব্যবস্থাপনাও দুর্বল—বর্জ্য ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে সমুদ্র দূষণ পর্যন্ত নানা সমস্যা বিদ্যমান। সরকারের একার পক্ষে সবকিছু করা সম্ভব নয়। তাই বেসরকারি খাতকে আরও বেশি সুযোগ ও স্বাধীনতা দিতে হবে, যাতে তারা বিনিয়োগ ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে নতুন আকর্ষণ তৈরি করতে পারে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন চেয়ারম্যান সাইমা শাহিন সুলতানা বলেন, কক্সবাজারের কিছু এলাকায় অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে। কোথাও পরিবেশ দূষণ, কোথাও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ঘাটতি, আবার কোথাও দায়িত্বশীল পর্যটনের অভাব রয়েছে। এসব বিষয় আমাদের গুরুত্বসহকারে দেখতে হবে। তবে সম্ভাবনার দিক থেকেও আমরা পিছিয়ে নেই। সম্প্রতি মেরিন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি গঠন করা হয়েছে এবং একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চলছে, যেখানে প্রায় ৩০টি ইকো-ফ্রেন্ডলি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে পর্যটন সংরক্ষিত অঞ্চল আইনও রয়েছে, যেখানে কিছু স্পর্শকাতর ও পরিবেশগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পর্যটনের জন্য উন্মুক্ত না রাখার কথা বলা হয়েছে। কারণ আমরা উন্নয়নের নামে পরিবেশ ধ্বংস করতে পারি না। টেকসই পর্যটন নিশ্চিত করতে হলে পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করতেই হবে। বাস্তবতা হলো, পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে আমরা এখনো পিছিয়ে আছি। তাই বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার কথা বলার আগে আমাদের নিজেদের অবস্থান বুঝতে হবে। উন্নত দেশের সঙ্গে তুলনা না করে শ্রীলঙ্কা, নেপাল বা ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করে এগোতে হবে।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চলনা করেন এনএসইউ-এর মার্কেটিং এন্ড ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগের অধ্যাপক ড. রাফিউদ্দিন আহমেদ। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়টির বিভিন্ন বিভাগের ফ্যাকাল্টি মেম্বার ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।