আহত প্রধান শিক্ষক © সংগৃহীত
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বেড়াখলা আব্দুল মতিন খসরু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক আমিনুল ইসলাম সুজনের বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষক হাসিনা ইসলামের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। গত রবিবার দুপুরে সুজন অর্ধশতাধিক সমর্থক নিয়ে বিদ্যালয়ে এসে মব সৃষ্টি করেন এবং প্রধান শিক্ষককে মারধর করে চেয়ার থেকে লাথি মেরে ফেলে দেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। বিদ্যালয়ে সিসিটিভি ভাঙচুর ও গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট লুটপাটের অভিযোগও করেছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হাসিনা ইসলাম।
হাসিনা ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, 'রোববার দুপুরে আমিনুল ইসলাম সুজন অর্ধশতাধিক সমর্থক নিয়ে বিদ্যালয়ে এসে মব সৃষ্টি করেন। তারা আমাকে মারধরের পর চেয়ার থেকে লাথি মেরে ফেলে দেন। এক পর্যায়ে টেনে হিঁচড়ে বাইরে নিয়ে যান। আমার সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন ও টাকা-পয়সাও নিয়ে গেছেন। এসময় বিদ্যালয়ে সিসিটিভি ভাঙচুর, অর্থ ও গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট লুটপাটের অভিযোগ তোলেন।'
অভিযুক্ত আমিনুল ইসলাম সুজন বলেছেন, 'হাইকোর্ট থেকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে আমি রায় পেয়েছি। তারপরও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আমাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেননি। স্থানীয়রা বিষয়টি জানার পর তার সঙ্গে হট্টগোল হয়। কেউ যদি উনাকে আঘাত করে থাকেন আমিও তার বিচার চাই। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়।'
ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাব্বির সেলিম আহমেদ জানান, 'শিক্ষিকার ওপরে হামলার ঘটনার পর রাত ১২টায় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। আমাদের টিম তিনবার সেখানে গিয়ে তদন্ত করেছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।'
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা জাহান বলেন, 'বেড়াখলা আব্দুল মতিন খসরু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পদ নিয়ে দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। এ ঘটনায় আদালতে রিট হয়েছে। শিক্ষিকার ওপর হামলার বিষয়ে শুনেছি। এ বিষয়ে থানা পুলিশ তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।'
এই ঘটনায় হাসিনা ইসলাম ব্রাহ্মণপাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। স্থানীয়রা জানান, আমিনুল ইসলাম সুজন ২০১৯ সালে জাল সনদে চাকরি করার কারণে সাময়িক বরখাস্ত ছিলেন। সম্প্রতি তিনি উচ্চ আদালতের আদেশ দেখিয়ে পুনরায় বিদ্যালয়ে যোগদান শুরু করেন।