খাইরুল ইসলাম খাঁ © টিডিসি ফটো
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তে নিজের জীবন বাঁচাতে মাত্র ৫ সেকেন্ড সময় পেয়েছিলেন খাইরুল ইসলাম খাঁ (২৬)। চোখের পলকে বাসটি তলিয়ে যাওয়ার সময় তিনি কীভাবে ছিটকে নদীর পানিতে পড়লেন, এই সময়টি তার কাছে এক বিস্ময়। তবে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরলেও ঘাটে উঠে হারিয়েছেন নিজের শেষ সম্বলটুকু।
কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার আমবাড়িয়া গ্রামের খাইরুল পেশায় একজন টেক্সটাইল মিলের মেশিনম্যান। ঈদের ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থল ঢাকায় ফিরছিলেন তিনি। খাইরুল জানান, বাসের ‘বি-২’ নম্বর আসনে ছিলেন তিনি। বাসটি ফেরিতে ওঠার ঠিক আগমুহূর্তে একটি প্রচণ্ড ঝাঁকুনি লাগে। খাইরুল বলেন, ‘আমি উঠে দাঁড়িয়েছিলাম পাশের যাত্রীকে জায়গা দিতে, ঠিক তখনই বাসটি হেলে পড়ে এবং আমি জানালার কাঁচ বা দরজা দিয়ে ছিটকে নদীতে পড়ে যাই।’ খাইরুলসহ হাতেগোনা মাত্র কয়েকজন যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন।
নদী থেকে জীবন বাঁচিয়ে যখন খাইরুল ক্লান্ত শরীরে পাড়ে ওঠেন, তখন সাহায্যের বদলে এক হৃদয়হীন ঘটনার শিকার হন তিনি। এক ব্যক্তি উদ্ধারের অভিনয় করে তার হাতের মোবাইলটি ছিনিয়ে নিয়ে ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে যায়। জীবন ফিরে পেলেও এই অমানবিক আচরণে তিনি স্তব্ধ।
আরও পড়ুন: ঈদযাত্রায় যে তিন দুর্ঘটনা নাড়িয়ে দিল গোটা দেশকে
খাইরুলের দাবি, দুর্ঘটনার সময় চালক আরমান খান নিজেই বাসটি চালাচ্ছিলেন। বাসের প্রায় প্রতিটি আসনেই যাত্রী ছিল এবং অধিকাংশ নারী যাত্রীর কোলেই ছিল শিশু। তার ধারণা, অন্তত ৪০ জন নারী ও শিশু বাসের ভেতরে আটকা পড়েছিলেন। পরবর্তীতে চালক আরমান খানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সুপারভাইজার ও হেলপার সিরিয়ালের জন্য বাসের বাইরে থাকায় তারা বেঁচে গেছেন।
সৌহার্দ্য পরিবহনের খোকসা কাউন্টার মাস্টার রাকিব বিশ্বাস জানান, খোকসা থেকে বি-১ ও বি-২ আসনের দুজন যাত্রী উঠেছিলেন, যাদের মধ্যে খাইরুল জীবিত আছেন। তিনি আরও জানান, চালক আরমান শেষ পর্যন্ত আসনেই ছিলেন। তবে যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি অন্য কোনো কারণে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত কুষ্টিয়া জেলার চারজনের মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন—শহরের মজমপুর এলাকার মর্জিনা খাতুন (৫৬), খোকসার রাজীব বিশ্বাস (২৮), ৩ বছর বয়সী শিশু ইস্রাফিল এবং ১৩ বছরের কিশোরী আয়েশা সিদ্দীকা।
উল্লেখ্য, বুধবার বিকেলে কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা বাসটি দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মায় তলিয়ে যায়। এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬ জনে।