স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ফের সৈকতের বালিয়াড়ি দখল, জেলা প্রশাসনের জরুরি নির্দেশনা

০৩ জুন ২০২৬, ০৮:০৭ PM
 কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা, কলাতলী ও আশপাশের বালিয়াড়ি দখল করে অবৈধ দোকানপাট-রেস্তোরাঁ নির্মাণের হিড়িক শুরু হয়েছে।

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা, কলাতলী ও আশপাশের বালিয়াড়ি দখল করে অবৈধ দোকানপাট-রেস্তোরাঁ নির্মাণের হিড়িক শুরু হয়েছে। © টিডিসি ফটো

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনা এবং উচ্চ আদালতের অবস্থান সত্ত্বেও কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা, কলাতলী ও আশপাশের বালিয়াড়ি দখল করে আবারও অবৈধ দোকানপাট ও রেস্তোরাঁ নির্মাণের হিড়িক শুরু হয়েছে। ঈদুল আজহার ছুটিকে কেন্দ্র করে রাতের অন্ধকারে বালিয়াড়িতে শত শত অস্থায়ী স্থাপনা গড়ে উঠলেও কার্যকর প্রতিরোধ দেখা যাচ্ছে না। এ অবস্থায় সৈকত ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর দাবি, গত চার থেকে পাঁচদিনে সুগন্ধা পয়েন্টসহ বিভিন্ন এলাকায় অন্তত চার শতাধিক দোকান ও অস্থায়ী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। অনেক দোকান ভ্যানের ওপর নির্মাণ করা হয়েছে, যাতে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হলে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া যায়। এসব দোকানে শামুক-ঝিনুকের তৈরি সামগ্রী, পোশাক, প্রসাধনী, আচার, চা-কফি, ভাজা মাছসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ৯ মার্চ জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এক সপ্তাহের মধ্যে সৈকতের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১২ মার্চ জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে যৌথবাহিনী অভিযান চালিয়ে সুগন্ধা, কলাতলী ও লাবণী পয়েন্ট থেকে প্রায় ৯৩০টি অবৈধ দোকান ও স্থাপনা উচ্ছেদ করে। পরবর্তীতে সৈকত পরিদর্শনকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বালিয়াড়ি পুনরায় দখলমুক্ত রাখার বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও ট্যুরিস্ট পুলিশকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেন।

আরও পড়ুন : ডাকবাংলো থেকে মা ও দুই মেয়ের মরদেহ উদ্ধার

কিন্তু বাস্তবে সেই নির্দেশনার তোয়াক্কা না করেই ঈদের ছুটির সময় আবারও বালিয়াড়ি দখল শুরু হয়। সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, যেসব এলাকা থেকে মার্চ মাসে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছিল, ঠিক সেসব স্থানেই নতুন করে দোকানপাট বসানো হয়েছে। সুগন্ধা জামে মসজিদের পাশের বালিয়াড়িতে শতাধিক দোকান গড়ে উঠলেও অধিকাংশের কোনো সাইনবোর্ড বা মালিকানা পরিচয় নেই।

পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর অভিযোগ, প্রশাসনিক নজরদারির দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র বালিয়াড়ি দখলের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। তাদের মতে, এসব অবৈধ স্থাপনার কারণে সৈকতের স্বাভাবিক সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে, পর্যটকরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এবং পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এদিকে সৈকত ব্যবস্থাপনায় কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি নতুন একটি জরুরি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সম্প্রতি জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের কোনো পয়েন্টে নতুন করে সাময়িক কার্ড ইস্যু করা হবে না। একই সঙ্গে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত ইস্যুকৃত ও নবায়নকৃত সব সাময়িক কার্ড আগামী ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে আর নবায়ন করা হবে না।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনেক সাময়িক কার্ডধারী ব্যবসায়ী কার্ডের শর্ত লঙ্ঘন করে সৈকতের বালিয়াড়িতে স্থাপনা নির্মাণ ও ব্যবসা পরিচালনা করছেন। এছাড়া কার্ড ইস্যুর সময় নির্ধারিত শর্তাবলি যথাযথভাবে অনুসরণ না করায় বিদ্যমান সব সাময়িক কার্ড বাতিলের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্দেশনা দিয়েছে।

আরও পড়ুন : টাকার জন্য মায়ের সঙ্গে ঝগড়া করায় পাওনাদারকে কুপিয়ে হত্যা করল ছেলে

বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির মতে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের সুপারিশ রয়েছে। সৈকতের বালিয়াড়ি সংরক্ষণ, অবৈধ দখল নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশ রক্ষার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এর আগে একাধিক অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকজন ব্যবসায়ী উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করায় আদালত ব্যাখ্যা চেয়েছেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

অন্যদিকে কক্সবাজার হোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির নেতারা বলছেন, প্রতিবছর লাখো পর্যটক কক্সবাজারে বেড়াতে এলেও সৈকতে প্রবেশমুখে গড়ে ওঠা ঝুপড়ি দোকানের সারি তাদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। মার্চ মাসের উচ্ছেদ অভিযানের পর সৈকতে যে মুক্ত ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ফিরে এসেছিল, পুনরায় দখল ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের ফলে তা আবারও নষ্ট হতে শুরু করেছে।

পরিবেশবাদী ও পর্যটন সংশ্লিষ্টদের দাবি, আদালতের নির্দেশনা, সরকারি সিদ্ধান্ত এবং বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন না হলে কক্সবাজারের সংরক্ষিত বালিয়াড়ি ও উপকূলীয় পরিবেশ আরও বড় হুমকির মুখে পড়বে।

মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করবেন ড. খলিলুর রহমান?
  • ০৩ জুন ২০২৬
যুদ্ধের মধ্য দিয়ে আঞ্চলিক পরাশক্তি হয়ে উঠেছে ইরান
  • ০৩ জুন ২০২৬
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি: বিক্ষোভের ডাক দিল জামায়াত
  • ০৩ জুন ২০২৬
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ মিথ্যা, দাবি প…
  • ০৩ জুন ২০২৬
আগাম দাবদাহে স্পেনে এক মাসে প্রাণ গেল ১০১ জনের  
  • ০৩ জুন ২০২৬
সরকার দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়ার মাধ্যমে আ.লীগের পুনর্বাসনে…
  • ০৩ জুন ২০২৬