সফলভাবে ১০৭ জন গর্ভবতী মায়ের সিজারিয়ান অপারেশন © টিডিসি ফটো
নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার ৫১ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মাতৃস্বাস্থ্য সেবায় এসেছে এক ইতিবাচক পরিবর্তন। একসময় এ হাসপাতালে গর্ভবতী মায়েদের নিরাপদ সন্তান জন্মদানের জন্য সিজারিয়ান অপারেশনের কোনো ব্যবস্থা ছিল না।
তবে দীর্ঘদিনের সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে গত পাঁচ বছরে এখানে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সফলভাবে ১০৭ জন গর্ভবতী মায়ের সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে। সিজারের পাশাপাশি মাতৃ ও শিশু মৃত্যুহার কমাতে স্বাভাবিক প্রসবের (নরমাল ডেলিভারি) ওপরও সর্বোচ্চ জোর দিচ্ছেন হাসপাতালটির চিকিৎসকরা।
গত ১১ ও ১১ মার্চ হাসপাতাল ঘুরে এবং পরিসংখ্যান বিভাগের তথ্যের ভিত্তিতে মাতৃসেবার সাফল্যের চিত্র উঠে আসে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালে প্রথমবারের মতো এখানে সিজারিয়ান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তৎকালীন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এবাদুর রহমান। প্রথম বছর মাত্র চারজন মায়ের সিজারের মাধ্যমে সিজারিয়ান সেবার যাত্রা শুরু হলেও, ধীরে ধীরে এর পরিধি ও মানুষের আস্থা বাড়তে থাকে। হাসপাতালে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সিজারিয়ান সেবা প্রদান করা হলেও, চিকিৎসকদের মূল লক্ষ্য স্বাভাবিক প্রসব বা নরমাল ডেলিভারি।
ডা. নাদিয়া মির্জা বলেন, “আমরা সবসময় নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা বেশি করে থাকি। আমাদের লক্ষ্য কমপক্ষে ২৫ শতাংশ নরমাল ডেলিভারি নিশ্চিত করা। তবে এর জন্য গর্ভবতী মায়েদের নিয়মিত চেক-আপ করা অত্যন্ত জরুরি।”
তিনি আরও জানান, অনেক মা ও তাঁদের পরিবার জানেন না, হাসপাতালে প্রসূতিদের জন্য সম্পূর্ণ বিনা খরচে সেবার ব্যবস্থা রয়েছে। মায়েদের প্রতি মাসে অন্তত একবার হাসপাতালের ‘এএনসি কর্নারে’ (ANC Corner) আসা উচিত। গর্ভধারণের শুরু থেকে সন্তান জন্মদান পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সাত-আটটি পরীক্ষা আদমপুর হাসপাতালেই বিনামূল্যে করা হয়। এছাড়া এখান থেকে বিনামূল্যে ওষুধ ও চিকিৎসকের পরামর্শও প্রদান করা হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাঈম হাসান হাসপাতালের সেবার মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, 'আমাদের সিজারিয়ান ব্যবস্থাপনা বর্তমানে অনেক উন্নত। তবে আমাদের মূল চেষ্টা সিজারের সংখ্যা বাড়ানো নয়, বরং স্বাভাবিক ডেলিভারির সংখ্যা বৃদ্ধি করা।'
তিনি এলাকার গর্ভবতী মায়েদের এবং তাঁদের পরিবারকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, 'গর্ভবতী মায়েদের নিয়মিত হাসপাতালের এএনসি কর্নারে এসে সেবা নেওয়া আবশ্যক। আপনারা হাসপাতালে আসুন, সরকারের সেবা বিনামূল্যে নিন এবং নিরাপদ সন্তান জন্মদান নিশ্চিত করুন।'
চিকিৎসকদের এমন আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং উন্নত ব্যবস্থাপনার ফলে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি এখন অত্র এলাকার গর্ভবতী মায়েদের জন্য একটি অন্যতম ভরসাস্থলে পরিণত হয়েছে।