সীমান্তে গুলি-মাইন বিস্ফোরণ

টেকনাফে জেলেদের নীরব কান্না কেউ শুনতে পায় না

১৭ মার্চ ২০২৬, ০৪:২০ PM , আপডেট: ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৪:২৬ PM
মাইন বিস্ফোরণে পঙ্গুত্ববরণ করা দুই জেলে

মাইন বিস্ফোরণে পঙ্গুত্ববরণ করা দুই জেলে © টিডিসি

পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেও কক্সবাজারের টেকনাফে আনন্দের পরিবেশ বিরাজ করছে না। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের নাফ নদীতে মাইন বিস্ফোরণ ও গুলিতে পঙ্গুত্ববরণকারী জেলেরা জীবিকার ক্ষেত্রেই হারিয়ে ফেলেছেন স্বাভাবিকভাবে কাজ করার ক্ষমতা। আহত জেলেদের পরিবারও এই মানবেতর পরিস্থিতিতে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারছে না। দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার খরচ, সংসারের অভাব এবং নিরাপত্তাহীনতায় তাদের দিন কাটছে চরম অসহায়তাত্বে।

সীমান্তবর্তী নাফ নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে মাইন বিস্ফোরণ ও গুলিবিদ্ধ হওয়া এসব জেলে এখন চরম অসহায়ত্বের মধ্য দিন কাটাচ্ছেন। কারও পা নেই, কারও শরীরে এখনো রয়েছে বিস্ফোরণের গভীর ক্ষতচিহ্ন। একসময় যারা নদী ও সাগরে মাছ ধরে পরিবার-পরিজনের জীবিকা নির্বাহ করতেন, আজ তারা অন্যের সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাফ নদীতে আরাকান আর্মির পুঁতে রাখা মাইনের বিস্ফোরণে বাঁ পায়ের একটি অংশ উড়ে যায় গুরুতর আহত হন মোহাম্মদ হানিফ ও ডান পায়ের একটি অংশ উড়ে যায় মোহাম্মদ ফিরোজের। এ ছাড়া আরাকান আর্মির ছোড়া গুলিতে আহত হন মোহাম্মদ আলমগীর। এসব ঘটনার পর থেকে তাদের জীবন হয়ে উঠেছে দুঃসহ।

আহত জেলেদের পরিবার জানায়, ঈদ এলেই অন্যদের ঘরে আনন্দের প্রস্তুতি থাকলেও তাদের ঘরে নেমে আসে বিষণ্ণতা। চিকিৎসার খরচ, সংসারের অভাব-অনটন এবং ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা তাদের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলেছে। অনেক সময় প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও করাতে পারছেন না তারা।

মাইন বিস্ফোরণে আহত জেলে হানিফ আক্ষেপ করে বলেন, ‘আগে ঈদের সময় নদীতে গিয়ে মাছ ধরে পরিবারের জন্য নতুন কাপড় ও ভালো খাবারের ব্যবস্থা করতাম। এখন নিজেই ঠিকমতো চলতে পারি না। সন্তানদের মুখের দিকে তাকালে বুকটা ফেটে যায়।’

এ অবস্থায় অন্তত ঈদের সময় মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে সহযোগিতা কামনা করেছেন আহত জেলে ও তাদের পরিবার। তারা আশা করছেন, সরকারি সহায়তা পেলে চিকিৎসা এবং পরিবারের ন্যূনতম ঈদের চাহিদা পূরণে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরে আসবে।

স্থানীয়দের মতে মতে, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এসব অসহায় জেলেদের পাশে দাঁড়ানো এখন সময়ের দাবি। সরকারি-বেসরকারি সহায়তা পেলে তারা অন্তত চিকিৎসা ও ন্যূনতম জীবিকা চালানোর সুযোগ পেতে পারেন।

ঈদের আনন্দ যখন সবার ঘরে পৌঁছাতে শুরু করেছে, তখন সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণ ও গুলিতে আহত এসব জেলেদের জীবন যেন নীরব আর্তনাদের গল্প হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অসহায়ত্ব সত্যিই যেকোনো মানবিক হৃদয়কে গলিয়ে দেওয়ার মতো।

সীমান্তের বর্তমান পরিস্থিতি ও আর্তনাদ টেকনাফের হোয়াইক্যং ও শাহজাহান দ্বীপে মাছ ধরতে গিয়ে মাইন বিস্ফোরণে জেলের পা উড়ে যাওয়া এখন নিত্যদিনের ঘটনা। পঙ্গুত্ববরণকারী জেলেরা দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন এবং তাদের পরিবার আয়-উপার্জন হারিয়ে দিশেহারা। অনবরত গুলি ও মাইন বিস্ফোরণে জেলেরা নাফ নদীতে মাছ ধরতে যেতে ভয় পাচ্ছেন, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তার দাবিতে প্রতিবাদ ও সড়ক অবরোধের মতো কর্মসূচি পালন করছেন।

বিজিবি সূত্র জানিয়েছে, তারা সীমান্তে টহল জোরদার করলেও মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের কারণে ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।

ইয়ুথ ডেলিগেশন প্রোগ্রামে অংশ নিতে চীন যাচ্ছেন ডাকসুর ১৫ নে…
  • ১৭ মার্চ ২০২৬
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন গ্রেডে চাকরি, পদ ২০, আবেদন …
  • ১৭ মার্চ ২০২৬
পহেলা বৈশাখে টাঙ্গাইলের ঘারিন্দা থেকে ‘কৃষক কার্ড’ উদ্বোধন …
  • ১৭ মার্চ ২০২৬
সরকারি জমি দখল করে ব্যবসা, ভোগান্তিতে নগরবাসী
  • ১৭ মার্চ ২০২৬
স্কলারশিপে উচ্চশিক্ষার সুযোগ জার্মানিতে, করুন আবেদন
  • ১৭ মার্চ ২০২৬
ঢাবি সাংবাদিক সমিতির নতুন সভাপতি মাহি, সম্পাদক লিটন
  • ১৭ মার্চ ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence