ভিনিসিউস জুনিয়র © সংগৃহীত
বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকেই ২০২৬ বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় ফেভারিট হিসেবে দেখছেন ব্রাজিল তারকা ভিনিসিউস জুনিয়র। তার মতে, শিরোপাধারী দলের আত্মবিশ্বাসের পাশাপাশি লিওনেল মেসির উপস্থিতি আর্জেন্টিনাকে অন্য সবার চেয়ে এগিয়ে রাখে। তবে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর কারণে পর্তুগালকেও শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে বিবেচনা করছেন তিনি।
বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সময় শনিবার সকালে নিজেদের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছে আর্জেন্টিনা। কোচ লিওনেল স্কালোনি ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী দলের ১৭ জন ফুটবলারকে এবারও দলে রেখেছেন, যা দলটির ধারাবাহিকতা ও অভিজ্ঞতার ওপর তার আস্থারই প্রতিফলন।
বর্তমান ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে আর্জেন্টিনা রয়েছে তিন নম্বরে। শীর্ষে আছে ফ্রান্স এবং দুই নম্বরে স্পেন। র্যাঙ্কিংয়ের এই শীর্ষ তিন দলকেই অনেক বিশেষজ্ঞ আসন্ন বিশ্বকাপের প্রধান ফেভারিট হিসেবে বিবেচনা করছেন।
ব্রাজিলের এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে কথা বলতে গিয়ে ভিনিসিউস বলেন, তার চোখে সবচেয়ে এগিয়ে আর্জেন্টিনাই। বিশেষ করে মেসির উপস্থিতি দলটিকে সবসময়ই অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায় বলে মনে করেন রিয়াল মাদ্রিদের এই উইঙ্গার।
তিনি বলেন, ‘আমি বেছে নেব আর্জেন্টিনাকে। কারণ তারা গতবারের চ্যাম্পিয়ন, তাদের আত্মবিশ্বাস প্রবল। এছাড়াও তাদের আছে মেসি।’
মেসির প্রভাব নিয়ে ভিনিসিউস আরও বলেন, ‘মেসি সবসময়ই ভিন্ন কিছু বয়ে আনে। আমরা কখনও কল্পনাও করতে পারব না, সে কী করতে পারে।’
অন্যদিকে তারকা সমৃদ্ধ স্কোয়াডের কারণে পর্তুগালও আলোচনায় রয়েছে। যদিও বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখনো শিরোপা জিততে পারেনি দলটি, তবুও ব্যক্তিগত নৈপুণ্য ও প্রতিভার বিচারে তাদের বর্তমান দলকে অন্যতম শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে অতীতে বহুবারই সম্ভাবনাময় দল গড়েও প্রত্যাশার পূর্ণতা দিতে পারেনি পর্তুগাল।
তা সত্ত্বেও রোনালদোর অভিজ্ঞতা এবং স্কোয়াডের গভীরতা পর্তুগালকে শিরোপার দৌড়ে রাখছে বলে মনে করেন ভিনিসিউস।
তিনি বলেন, ‘পর্তুগাল ফেভারিটদের মধ্যে থাকবে কি না? থাকবে, কারণ তাদের আছে ক্রিস্তিয়ানো এবং এটা সবসময়ই বড় ব্যাপার।’
পর্তুগালের বর্তমান স্কোয়াডের বেশ কয়েকজন ফুটবলারেরও প্রশংসা করেন তিনি। ভিনিসিউস বলেন, ‘এছাড়াও তাদের আছে ভিতিনিয়া ও জোয়াও নেভেস, যারা বর্তমান প্রজন্মের সেরাদের মধ্যে রাখতে হবে যাদেরকে। এছাড়াও নুনো আছে, লেয়াও ও ফেলিক্সও, তাদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক দারুণ।’
আসন্ন বিশ্বকাপে ভিনিসিউস নিজেও ব্রাজিলের অন্যতম ভরসা হয়ে মাঠে নামবেন। যদিও ক্লাব ফুটবলে তার মৌসুমটি প্রত্যাশা অনুযায়ী উজ্জ্বল ছিল না এবং জাতীয় দলের জার্সিতেও ধারাবাহিকভাবে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি, তবুও বিশ্বমঞ্চে তার দিকেই তাকিয়ে থাকবে ব্রাজিলের কোটি সমর্থক। বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে দলকে সাফল্যের পথে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা থাকবে এই ব্রাজিলিয়ান তারকার ওপর।